ডা. বাশার এম আতিকুজ্জামান

ডা. বাশার এম আতিকুজ্জামান

কনসালট্যান্ট, পরিপাকতন্ত্র ও যকৃৎতন্ত্র, পরিপাক ও যকৃত কেন্দ্র, ফ্লোরিডা ফ্যাকাল্টি, ইউসিএফ কলেজ অফ মেডিসিন।


২৪ মে, ২০১৮ ০৬:৩৫ পিএম

আঁধার রাতের তারা

আঁধার রাতের তারা

দিন ছোটো হয়ে যাচ্ছে আজকাল।  আঁধার থাকতে থাকতে বেরোই ঘর থেকে। যখন ঘরে ফিরি তখনও আঁধার হয়ে যায়। তাই তাড়াতাড়ি ঘরে ফেরার একটা তাড়া থাকে আজকাল। যদি একটু দিনের আলোর ছোঁয়া পাই। আজও দিনটা সেভাবেই যাচ্ছিল। এর মাঝে বাধ সাধলেন আমার এক চিকিৎসক বন্ধু এমানুয়েল। তার একটি মুমূর্ষু রোগী হাসপাতালে আছে। তিনি সে রোগীটিকে দেখার জন্য অনুরোধ করেছেন। হাসপাতালের ‘এথিকস কমিটির’ সদস্য হিসেবে আমাকে যেতে হবে সে রোগীটিকে দেখতে।

আমার অফিস থেকে বেরিয়ে হাসপাতালে যাবার রাস্তা বড়ো সংক্ষিপ্ত। সুন্দর খেজুর গাছের সারি আর তার মাঝে কাশবন। কাশ গুলো লালচে রঙের। শেষ বিকেলের রোদে তাদের অদ্ভুত সুন্দর লাগছে। সিঁড়ি ভেঙ্গে তিন তালাতে পৌঁছুলাম। হাসপাতালের এ ওয়ার্ডের সবগুলো রুম থেকে খেজুর গাছের সারিগুলো আর কাশবন চোখে পড়ে। সব মুমূর্ষু রোগীরা সে দৃশ্য দেখতে পারে না। সব রোগীগুলোই অচেতন এখানে। তবে রোগীর কাছের মানুষ সেগুলো দেখতে পারেন। পড়ন্ত সূর্যের আলোতে সে দৃশ্য বড়ো সুন্দর। সে দৃশ্য মনে খানিকটা স্বস্তি এনে দেয়।

রোগীটির নাম অজিত। সে একজন প্রকৌশলী। বয়স মাত্র তিরিশ বছর। ভারতের কেরালা থেকে অরলান্ডোতে এসেছে পাঁচ বছর আগে। এখানে বড়ো এক প্রতিষ্ঠানে কাজ নিয়ে এসেছিল। মাস তিনেক আগে কেরালাতে গিয়ে তার দীর্ঘদিনের প্রেমিকা অণুকে বিয়ে করে এনেছে অজিত। দুদিন আগে সারা দিন ধরে মহা উৎসাহে তারা প্রস্তুতি নিয়েছে 'কালাবাসি দ্বীপে' যাবার। সেখান থেকে 'হানিমুন দ্বীপ'।

রাতে তার প্রচণ্ড মাথাব্যথা হলো। দুটো ব্যথার বড়ি খেয়ে ঘুমিয়ে পড়েছিল সে। ভোর সকালে অজিত আর ঘুম থেকে ওঠে না। ওকে সাথে সাথে হাসপাতালে আনা হলো। কিন্তু অনেক দেরি হয়ে গিয়েছে অজিতের। মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ হয়ে তার নিজের শ্বাস প্রশ্বাস নেবার ক্ষমতা নেই আর। তাকে এখন কৃত্তিম ভাবে শ্বাস প্রশ্বাস চালান হচ্ছে। তার কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্র কাজ করছে না। তার শরীর থেকে যন্ত্র সরিয়ে নিলেই সব শেষ।

অণু কাঁদছে। কেঁদে কেঁদে তার চোখের জল শুকিয়ে গিয়েছে। অজিতের সব চাইতে কাছের মানুষ অণু। অণু সিদ্ধান্ত নিয়েছে অজিতের দেহ আর তার অঙ্গ প্রত্যঙ্গগুলো কিছু মুমূর্ষু মানুষের জীবন বাঁচানোর জন্য দান করে দেবে সে। অজিত বেঁচে থাকবে অনেকগুলো মানুষের মাঝে। আমি অণুর মুখের দিকে তাকাতে পারছি না। আমার গলা ভারী হয়ে আসছে। ‘এথিকস কমিটির’ কাগজে স্বাক্ষর করে কোন ভাবে নিচে নেমে এলাম।

এতক্ষণে সন্ধ্যা নেমেছে। আজ জোৎস্না রাত। কাশবন আর খেজুর বীথির মাঝে আলোর বন্যা বইতে শুরু করেছে। আজ বোধ হয় চাঁদ না উঠলেই ভালো হতো। আঁধার রাতে তাঁরাগুলো জ্বলজ্বল করে বড়ো বেশি। সে সব তারার মাঝে অণুরা অজিতদের খুঁজে ফেরে।

আরও

আমাদের প্রথম কলেজ দিবস

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
তুমি সবার প্রফেসর আবদুল্লাহ স্যার, আমার চির লোভহীন, চির সাধারণ বাবা
পিতাকে নিয়ে ছেলে সাদি আব্দুল্লাহ’র আবেগঘন লেখা

তুমি সবার প্রফেসর আবদুল্লাহ স্যার, আমার চির লোভহীন, চির সাধারণ বাবা

বেশিদিন ওমিপ্রাজল খেলে হাড় ক্ষয়ের ঝুঁকি বাড়ে 
কিডনি পাথরের ঝুঁকি বাড়ায় নিয়মিত অ্যান্টাসিড সেবন 

বেশিদিন ওমিপ্রাজল খেলে হাড় ক্ষয়ের ঝুঁকি বাড়ে 

ডাক্তার-নার্সদের অক্লান্ত পরিশ্রমের কথা মিডিয়ায় আসে না
জাতীয় হৃদরোগ ইন্সটিটিউটের সিসিউতে ভয়ানক কয়েক ঘন্টা

ডাক্তার-নার্সদের অক্লান্ত পরিশ্রমের কথা মিডিয়ায় আসে না