মুহাম্মাদ ইলিয়াস

মুহাম্মাদ ইলিয়াস


২৩ মে, ২০১৮ ১০:৫৮ এএম

মেডিকেল ব্যক্তিদের হতাশার কারণ ও প্রতিকার

মেডিকেল ব্যক্তিদের হতাশার কারণ ও প্রতিকার

দোস্ত, ওই স্যার যা কড়া, আইটেম ক্লিয়ার হবে কিনা বুঝতে পারছি না। আমার ফার্স্ট প্রফে মনে হয় এইবার বসা হচ্ছে না, ক্লিয়ারেন্স পাব না। ক্লিয়ারেন্স পেয়েই বা কী করব? পাশ তো করতে পারবো না। এনাটমি কিচ্ছু মনে থাকে না।

সেকেন্ড প্রফ একটি বিভীষিকা, পাঁচটা সাবজেক্ট একবারে পাশ করা সম্ভব? নতুন সেকেন্ড প্রফে এটা কী সিস্টেম করল? আজাইরা লেংথি দু’টা সাবজেক্ট নিয়ে এক বছর? কিচ্ছু তো পড়ি না, কমমেড, ফরেনসিক। পাশ তো হবেই না নিশ্চিত।

এক বছরে ফার্মা, প্যাথো, মাইক্রো, কেমনে কী? পাশ হবেই না।

ফাইনাল প্রফটা একটা ভয়াবহ ব্যাপার, পাশ না করলে জীবন শেষ!

ইন্টার্নশীপে এত্ত প্যারা দেয় কেন সিএ গুলা? ডাক্তার হইয়া কী লাভ হল? কোন সম্মান নেই, ভাল স্যালারি নেই, থার্ড ক্লাস মানুষের কাছে জিম্মী হয়ে আছি।

এফসিপিএস, এমডি পার্ট ওয়ান না হলে কোন মেডিকেল থেকে পাশ করেছি, প্রফে কত্ত মার্ক্স পেয়েছি, এইগুলার না কোন মুল্য নেই। পার্ট ১, ২ দিয়া চেম্বার করা যাবে না, পোস্ট গ্রেড কমপ্লিট ছাড়া ভাত নেই।

আরে দূর পাশ কইরা কী হল? পোস্ট গ্রেড না করা লোকজন তো দেদারসে চেম্বার করছে, আমার চেম্বারে রোগীই নেই। শিট! একটা ভাল কর্পোরেট হাসপাতালে চেম্বার করতে না পারলে এসব যদু মধু হাসপাতালে চাকরি করে কী লাভ?

কত্ত দিন হল প্রমোশনটা আটকে আছে। ১০ লাখ না দিলে নাকি এসিস্টেন্ট প্রফেসরই হওয়া যায় না। ধুত্তুরি!

আর কতদিন এসিস্টেন্ট থাকব? জীবনে কী প্রফেসর হওয়াই যাবে না?

এত্ত কম টাকা যে আয় করি, পুলাপাইন গুলিকে কীভাবে দেশের বাইরে পড়াব এই টাকায়।

কী বুঝলেন, মেডিকেল কমিউনিটিতে এত আত্মহত্যা কেন বুঝতে পেরেছেন? মেডিকেল কমিউনিটিতে সহকর্মীরা যখন আলোচনা করে তখন তাদের আলোচনার ৯০% বিষয়ই থাকে নেতিবাচক কথাবার্তা। নেতিবাচক কথা শুনতে শুনতে আমাদের মনটাই নেতিবাচক হয়ে গড়ে উঠে। ফলে অহেতুক হতাশা আর হতাশার দুষ্ট চক্র।

প্রতিকার/প্রতিরোধ:

১. ইতিবাচক হোন, যা আছে তা নিয়ে সন্তুষ্ট হবার চেষ্টা করুন।

২. কী পান নাই সেটা নয়, কী পেয়েছেন সেটি নিয়ে চিন্তা করুন এবং এটাও ভাবুন, অনেক মানুষ দুনিয়াতে আছে, যারা আপনি আজ যেই অবস্থানে আছেন সেই অবস্থানে আসার জন্য প্রাণপণে সংগ্রাম করছে। হয়ত এই জীবনেও সেটা সম্ভব হবে না।

৩. নিজের প্রফেশনাল সহকর্মীদের সাথে প্রফেশনাল প্রয়োজন ছাড়া চ্যাটিং বা গল্প গুজব কমান। নেতিবাচক কথাবার্তা যত কম শোনা যায়।

৪. অন্যান্য পেশার মানুষদের সাথে চলাফেরা করুন, ভাল ডাক্তার হবার পাশাপাশি ভাল মানুষ হবার চেষ্টা করেন।

৫. যা পেয়েছেন, তা দিয়ে কতটুকু নিজের জন্য করেছেন আর কতটুকু মানুষের জন্য করেছেন, চিন্তা করুন।

৬. জীবনটা মেডিকেল প্রফেশান বা অন্য কোন প্রফেশানের জন্য না। প্রফেশান জীবনের ক্ষুদ্র একটি অংশ মাত্র।

৭. কোন কিছুকেই জীবনের জন্য অপরিহার্য মনে করবেন না। জীবনের জন্য অপরিহার্য হচ্ছে সততা, নৈতিকতা এবং মুল্যবোধ, বাকি সব অপশনাল।

লেখক: চিকিৎসক

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
তুমি সবার প্রফেসর আবদুল্লাহ স্যার, আমার চির লোভহীন, চির সাধারণ বাবা
পিতাকে নিয়ে ছেলে সাদি আব্দুল্লাহ’র আবেগঘন লেখা

তুমি সবার প্রফেসর আবদুল্লাহ স্যার, আমার চির লোভহীন, চির সাধারণ বাবা

বেশিদিন ওমিপ্রাজল খেলে হাড় ক্ষয়ের ঝুঁকি বাড়ে 
কিডনি পাথরের ঝুঁকি বাড়ায় নিয়মিত অ্যান্টাসিড সেবন 

বেশিদিন ওমিপ্রাজল খেলে হাড় ক্ষয়ের ঝুঁকি বাড়ে 

ডাক্তার-নার্সদের অক্লান্ত পরিশ্রমের কথা মিডিয়ায় আসে না
জাতীয় হৃদরোগ ইন্সটিটিউটের সিসিউতে ভয়ানক কয়েক ঘন্টা

ডাক্তার-নার্সদের অক্লান্ত পরিশ্রমের কথা মিডিয়ায় আসে না