ঢাকা      বুধবার ২১, অগাস্ট ২০১৯ - ৫, ভাদ্র, ১৪২৬ - হিজরী



আয়েশা আলম প্রান্তী

শিক্ষার্থী, হলি ফ্যামিলি রেড ক্রিসেন্ট মেডিকেল কলেজ


ডা. মুজাহিদার এগিয়ে চলা  

ডা. মুজাহিদা রহমান। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্তব্যরত একজন মেডিকেল অফিসার। এই মেধাবী চিকিৎসকের আরেকটি পরিচয়, তিনি বিএসএমএমইউর প্রথম সফল অটোলোগাস বোন ম্যারো ট্রান্সপ্লান্টের একজন টিম সদস্য।  এত কম বয়সী একজন চিকিৎসকের জন্য অনেক বড় সাফল্য। 

বাংলাদেশ মেডিকেল কলেজের BM -8 ব্যাচের এই শিক্ষার্থী পাশ করার পর ইন্টার্নি করেন মুজাহিদা। শুরু হয় চিকিৎসক হিসেবে পথ চলা। চিকিৎসক হিসেবে অত্যন্ত মেধাবী এই মুজাহিদা ছোটবেলা থেকেই সব সময় চাইতেন মানুষের সেবা করতে। সাথে নিজেও ভিন্নধর্মী কিছু করতে চাইতেন। এরই ধারাবাহিকতায় চিকিৎসক হয়ে কাজ করেছেন বোন ম্যারো ট্রান্সপ্লান্ট বিশেষজ্ঞদের সাথে। 

সাধারনত অনেক চিকিৎসক মেয়ের ক্ষেত্রেই স্বামী-সংসার হওয়ার পর ক্যারিয়ারে পথটা শিথিল হয়ে যায়। ডা. মুজাহিদা তা করেননি। শক্ত হাতে সামাল দিয়েছেন নিজের সংসার, আবার হাসপাতালের রোগীদেরও।

দিন রাত কঠোর পরিশ্রম করে পড়াশোনা করেছেন পোস্টগ্রাজুয়েশনের জন্য। সফলতা পেয়েছেনও। এত কম বয়সে তার অর্জনে আছে FCPS (haematology)  ডিগ্রী। শুধু তাই নয়, এই চিকিৎসকের সফলতার লিস্টে আছে মহাত্না গান্ধী পিস এ্যাওয়ার্ড ২০১৭. সফল চিকিৎসক ও মানবসেবক হিসেবে অবদানের জন্য। 

তবে কোন অর্জনটি সেরা জানতে চাইলে ডা.  মুজাহিদা হাস্যোজ্জল ভাষায় বলেন, যখন কোনও অসুস্থ রোগী হাসপাতালে আসেন।  আমি সেবা দেই। ফিরে যাওয়ার সময় তিনি যে দোয়া করেন, আশির্বাদ করেন, এটাই আমার জীবনের সেরা পুরস্কার।’

কর্মজীবনে তিনি কাজ করেছেন ২০১৬ সালে আসগার আলী হাসপাতালে ও নভেম্বর ২০১৬ -নভেম্বর ২০১৭ পর্যন্ত ঢাকার এপোলো হাসপাতালে।

আগামীর স্বপ্ন: বর্তমানে BSMMU তে কর্তব্যরত এই চিকিৎসকের স্বপ্ন, বিএসএমএমইউতে সফল এলোজেনিক বোন ম্যারো ট্রান্সপ্লান্ট ইউনিট প্রতিষ্ঠার লক্ষে কাজ করে যাওয়া। 

তিনি স্বপ্ন দেখেন, বাংলাদেশে একদিন বিশ্বমানের চিকিৎসাসেবার ব্যবস্থা হবে। তখন কেউ আর চিকিৎসার জন্য ভারত কিংবা সিঙ্গাপুর যাবে না। বরং, অনেক বিদেশীরা এ দেশে চিকিৎসা নিতে দলে দলে আসবে।

ডাক্তার মেয়ের পথ চলা সোজা না: এই যে সফলতা, কর্মদক্ষতা এসবে কখনো কি কোন বাধার সম্মুখীন হয়েছেন অথবা বাধা আসলে তা কিভাবে অতিক্রম করেছেন এই প্রশ্নের উত্তরে ডা: মুজাহিদা বলেন, ‘একটা ডাক্তার মেয়ের পথ চলাটা সোজা না। আপনাকে বাসায় মা, স্ত্রী, ছেলের বউ, মেয়ে, বোন এসব দায়িত্ব যেমন পালন করতে হয়, তেমনি হাসপাতালেও আপনি এক বিন্দু ছাড় পাবেন না। ছেলে কলিগদের সাথে তাল মিলিয়ে কাজ করতে হয়। 

তিনি বলেন, ‘আমি সৌভাগ্যবান,বাবা মা, পরিবার, ভাইবোন, স্বামী সবার সহযোগিতা পেয়েছি।  কিন্তু বিশ্বাস করুন সবাই এত লাকি হয় না।  তাও তাদের এগিয়ে যেতে হয়। ডাক্তার বউ যে ঘরে আছে সেই পরিবারের একটু সহযোগিতা, একটু ভালবাসা আর বোঝাপড়া মেয়েটার পথচলাটা অনেকাংশে সহজ করে দেয় এটা প্লিজ আপনারা বুঝবেন।  আমি সৌভাগ্যবান আমার পরিবার বুঝেছে।’

এগিয়ে যান ডা: মুজাহিদা তার সফলতার পথে পরিশ্রম আর অধ্যবসায় নিয়ে। আজ এই মেধাবী চিকিৎসকের জন্মদিন। শুভ জন্মদিন ডা.মুজাহিদা রহমান। 

সংবাদটি শেয়ার করুন:

 


আরো সংবাদ














জনপ্রিয় বিষয় সমূহ:

দুর্যোগ অধ্যাপক সায়েন্টিস্ট রিভিউ সাক্ষাৎকার মানসিক স্বাস্থ্য মেধাবী নিউরন বিএসএমএমইউ স্বাস্থ্যমন্ত্রী ঢামেক গবেষণা ফার্মাসিউটিক্যালস স্বাস্থ্য অধিদপ্তর