ঢাকা      শনিবার ২১, সেপ্টেম্বর ২০১৯ - ৫, আশ্বিন, ১৪২৬ - হিজরী



ডা. ফাহমিদা শিরীন নীলা

এমবিবিএস, এফসিপিএস (গাইনী)

ফিগো ফেলো (ইতালি)

গাইনী কনসালট্যান্ট, বগুড়া।


থ্যালাসেমিয়া: এক দুঃখ

থ্যালাসেমিয়া: এক দুঃখ

আজ আমি লিখব
এক দুঃখিনী মেয়ের গল্প।
তখন এ শহরে আমার
প্র‍্যাকটিস ছিল অল্প।

শ্যামা বর্ণের চ্যাপ্টা মুখের
বিষন্ন একটা মেয়ে,
ছোট ছোট চোখ দুটো
ফ্যাকাসে দেখলাম চেয়ে।

মেয়েটি ভীষণ আবেগী যেন
কথায় কথায় চোখে জল,
সাথে একজন বিধবা মা
তার চোখও টলমল।

শিঁথিতে তার উজ্জ্বল যদিও
সিঁদূর টকটকে লাল,
স্বামীটি তার ধনী বটে,তবে
খোঁজ রাখেনা আজকাল।

মেয়েটির মা গরীব ভীষণ
চেয়ে চিন্তে খায়,
কোনরকমে সে খেয়ে পরে বাঁচে
যখন যেটুকু পায়।

মেয়েটিকে তবু কষ্ট করে
এমএ পড়িয়েছে মা,
ভাল ঘর দেখেই বিয়ে দিয়েছিল,
তারা এখন দেখেনা।

দুর্বল মেয়ে যখন তখন
মাথা ঘুরে যায় পড়ে,
শ্বশুর বলেছে, নিয়ে যাও একে
কবে যাবে শেষে মরে।

লোকাল ডাক্তার চোখ দেখে বলে
এ তো রোগ এনিমিয়া,
শহরে এসে রক্ত পরীক্ষায়
ধরা পড়ে থ্যালাসেমিয়া।

সেই থেকে সে দুখী মেয়েটি
রক্ত দেয় মাসে মাসে।
এইবার সে মাথা ঘোরা নিয়ে
আমার কাছেতে আসে।

শুনলাম তার মাসিক বন্ধ
সাথে হয় ফের বমি,
প্রেগন্যান্সী পরীক্ষার রিপোর্ট দেখে
মাথায় হাত দিলাম আমি।

সব শুনে সে কেঁদেই ব্যাকুল,
বাচ্চা এখন চায়না।
অনেক দিন থেকেই স্বামীর সাথে
তার বনিবনা হয় না।

অনেক বুঝিয়ে বাড়ী পাঠালাম
সিদ্ধান্ত নাও ভাল,
এ সন্তানই হয়তো তোমার ঘরে
নিয়ে আসবে আলো।

কিন্তু একটা কথা,
মনোযোগ দিয়ে শোন,
এর পরের বার সাথে কিন্তু
স্বামীটিকে তোমার এনো।

ক'দিন বাদেই পেটে ব্যথা নিয়ে
হাসপাতালে সে এলো।
বাচ্চাটা তার মরে গেছে পেটেই,
মিসড অ্যাবরশন হল।

কয়েক ব্যাগ রক্ত দিয়ে
তাঁর জরায়ু থেকে
মৃত ভ্রুণ খানি সরানো হল,
বাঁচানো গেল তাকে।

বছর খানেক পরে এল সে,
মুখে নিয়ে মিষ্টি হাসি।
সাথে রয়েছে বরখানি তার,
দেখলাম, সেও খুশী।

বলল, ম্যাডাম পা ভারী হয়েছে
এবার নিতে চাই,
আপনার কাছে বড় মুখ করে
ছুটে এলাম তাই।

বলেছিলেন, স্বামীর নাকি
রক্ত পরীক্ষা লাগে,
বাচ্চা হঠাৎ চলেই এল,
আসতে পারিনি আগে।

স্বামীর রক্ত পরীক্ষা হল,
দেখি, সেও ক্যারিয়ার
বুঝিয়ে বললাম, বাচ্চার জন্য
পরীক্ষা লাগবে আবার।

বাচ্চা তোমার আক্রান্ত কি না
তোমায় যেতে হবে ঢাকা,
গর্ভের পানি পরীক্ষা হবে,
অনেক লাগবে টাকা।

সব শুনে স্বামীর মুখ হল কালো,
দুঃখিনী ভাসল কেঁদে।
জানতেই যখন তোমার সমস্যা,
কেন আসোনি আগে ভাগে?

দু’জনের রক্ত পরীক্ষা করেই
করা উচিত বিয়ে।
নইলে কেবল কাটবে জীবন,
কপালের দোষ দিয়ে।

দু’জনেই যদি আক্রান্ত হয়,
সব শিশুই অসুস্থ হবে।
একজন আক্রান্ত হলে তবুও,
এক চতুর্থাংশ সুস্থ রবে।

কিন্তু স্বামী-স্ত্রী দু’জনেই যদি
জীন বাহক হয়,
সেখানেও কেবল পঁচিশ ভাগ বাচ্চা
সুস্থ রবে একশোয়।

সুতরাং, শোন ভাইবোনেরা
এখনি হও সচেতন,
বিবাহ পূর্বেই থ্যালাসেমিয়া
পরীক্ষা করা প্রয়োজন।

সংবাদটি শেয়ার করুন:

 


পাঠক কর্নার বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

সন্তানের থ্যালাসেমিয়ার জন্য পিতা-মাতার অজ্ঞতাই দায়ী!

সন্তানের থ্যালাসেমিয়ার জন্য পিতা-মাতার অজ্ঞতাই দায়ী!

সিএমসি, ভেলোরে আমি যে রুমে বসে রোগী দেখছি সেখানে ইন্ডিয়ার অন্যান্য রাজ্যের…

এক্সাম ফোবিয়া ও ডিপ্রেশন: মুক্তির সহজ সমাধান

এক্সাম ফোবিয়া ও ডিপ্রেশন: মুক্তির সহজ সমাধান

প্রশ্ন: স্যার আমি মেডিকেলের ৩য় বর্ষের ছাত্রী। মেডিকেলে ইতিমধ্যেই ১ বছর লস…

আধুনিক মায়েরা সিজার ছাড়া বাচ্চা প্রসবের চিন্তাই করেন না

আধুনিক মায়েরা সিজার ছাড়া বাচ্চা প্রসবের চিন্তাই করেন না

সমাজে কিছু মানসিকভাবে অসুস্থ ডাক্তার বিদ্বেষী মানুষ আছে। অসুখ হলে ইনিয়ে বিনিয়ে…

আনিসের প্রত্যাবর্তন 

আনিসের প্রত্যাবর্তন 

রাস্তায় একজনের মুখে সরাসরি সিগারেটের ধোঁয়া ছেড়ে দিলো আনিস। আচমকা এ আচরণে…

কনজেনিটাল হার্ট ডিজিজ: গল্পে গল্পে শিখি

কনজেনিটাল হার্ট ডিজিজ: গল্পে গল্পে শিখি

স্রষ্টার সৃষ্টি বড় অদ্ভুত, মেডিকেল সায়েন্স পড়লে এটা ভাল বুঝা যায়। মাছের…

বদ লোকের গল্প!

বদ লোকের গল্প!

উপজেলায় নতুন তখন। সবাইকে ঠিকঠাক চিনিও না। হঠাৎ একদিন আমার রুমে পেট…



জনপ্রিয় বিষয় সমূহ:

দুর্যোগ অধ্যাপক সায়েন্টিস্ট রিভিউ সাক্ষাৎকার মানসিক স্বাস্থ্য মেধাবী নিউরন বিএসএমএমইউ স্বাস্থ্যমন্ত্রী ঢামেক গবেষণা ফার্মাসিউটিক্যালস স্বাস্থ্য অধিদপ্তর