ঢাকা      রবিবার ২০, জানুয়ারী ২০১৯ - ৭, মাঘ, ১৪২৫ - হিজরী



ডা. মো: আবু শিহাব

বিসিএস (স্বাস্থ্য)

এফসিপিএস (শেষ পর্ব), মেডিসিন

এমডি (ফেইজ বি), এন্ডোক্রাইনোলজি

বিএসএমএমইউ।

 

 


প্রেগনেন্সিতে হাইপোথাইরয়ডিজমের চিকিৎসা

একজন গর্ভবতী মহিলার যদি হাইপোথাইরয়ডিজম ধরা পড়ে তাহলে কিভাবে তার চিকিৎসা করবেন?

প্রেগনেন্সিতে হাইপোথাইরয়ডিজমের চিকিৎসা এন্ডোক্রাইনোলজিস্ট ছাড়াও অন্যদেরও জানা থাকা উচিত।কারণ আমাদের দেশে হাইপোথাইরয়ডিজমের রোগী অনেক বেশি।

সচরাচর আমরা হাইপোথাইরয়ডিজমের চিকিৎসা দেওয়ার সময় লো ডোজে থাইরক্সিন শুরু করি এবং ১৫ দিন পর পর ডোজ বাড়িয়ে নরমাল ডোজে নিয়ে আসি। এর পর ১.৫-২ মাস পর পর ফলোআপ করি। কিন্তু প্রেগনেন্সিতে হাইপোথাইরয়ডিজমের চিকিৎসা শুরু করতে হয় হাইস্ট ডোজ থেকে, এর পর দরকার পড়লে কমিয়ে এডজাস্ট করতে হয়।

প্রেগনেন্সিতে থাইরক্সিন এর ডোজ ২-২.৪ মাইক্রোগ্রাম/ কেজি। অর্থাৎ ৫০ কেজি ওজন এর প্রেগনেন্ট মহিলার ৫০ মাইক্রোগ্রাম এর ২ টা বা ২.৫ টা ট্যাবলেট দিয়ে শুরু করে ১৫ দিন পর FT4 করে ডোজ এডজাস্ট করা হয়। এরপর ১ মাস পর পর FT4 &TSH করে ফলোআপ করতে হয়।

আর পূর্ব থেকেই হাইপোথাইরয়েড রোগী প্রেগনেন্সির জন্য ট্রাই করলে তাকে বলে দিতে হয় কন্সিভ করলে নিজে থেকেই ২০-৩০% ডোজ বাড়িয়ে নিতে। পরে ডাক্তারের কাছে এসে রিপোর্ট করিয়ে ডোজ এডজাস্ট করবে এবং ফলোআপ করতে হবে প্রতি মাসে মাসে।

প্রেগনেন্সিতে TSH এর টার্গেট রেঞ্জ ও কিন্তু ভিন্ন। যেমন:
১ম ট্রাইমেস্টার- ০.১- ২.৫ µU/ml
২য় ট্রাইমেস্টার- ০.২- ৩ µU/ml
৩য় ট্রাইমেস্টার- ০.৩- ৩ µU/ml

প্রেগনেন্সিতে কখন থাইরয়েড টেষ্ট করাবেন?
পূর্বে কখনো থাইরয়েড এর সমস্যা ধরা পড়লে
পরিবারের অন্য কারো থাইরয়েড সমস্যা থাকলে
অন্য কোন অটো ইমুইউন রোগ থাকলে
বন্ধ্যাত্ব বা এবরশন এর হিস্ট্রি থাকলে
হাইপোথাইরয়ডিজমের লক্ষণ থাকলে

হাইপোথাইরয়েড মায়ের কি সমস্যা হতে পারে?
হাইপারটেনসন/ প্রিএক্লামসিয়া
এবরশন
সিজারের প্রয়োজনীতা বেড়ে যাওয়া
প্রসব পরবর্তী অধিক রক্তক্ষরণ

বাচ্চার কি ধরণের সমস্যা হতে পারে?
নির্দিষ্ট সময়ের পূর্বেই বাচ্চা প্রসব হওয়া
বাচ্চার ওজন কম হওয়া
বাচ্চা নষ্ট হয়ে যাওয়া
নিউরোলজিকেল, সাইকোলজিকেল বা কগনেটিভ সমস্যা

প্রেগনেন্ট মহিলার হাইপোথাইরয়েড ডায়াগনোসিস এর সময় যদি TSH খুব বেশি পান তাহলে কি এবরসন করাতে বলবেন? না, হাইপোথাইরয়ডিজম এবরশন এর কোন ইন্ডিকেশন নয়। তবে আল্ট্রাসনোগ্রাম এর মাধ্যমে ফিটাল এনোমালি স্ক্যান করাতে পারেন। আর রোগীকে ভালভাবে কাউন্সিলিং করে রাখতে হবে। তবে ফাইনাল ডিসিসন রোগীর উপরেই ছেড়ে দেয়া ভালো। 

সংবাদটি শেয়ার করুন:

 


স্বাস্থ্য বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

জন্মগত ত্রুটির কিছু কারন ও প্রতিকার

জন্মগত ত্রুটির কিছু কারন ও প্রতিকার

অনেকেই প্রশ্ন করে থাকেন ত্রুটিপূর্ণ বাচ্চা হবার কারন সমুহ কি হতে পারে।…

ওভারিয়ান সিস্টের লক্ষণ ও প্রতিকার

ওভারিয়ান সিস্টের লক্ষণ ও প্রতিকার

ওভারিয়ান সিস্ট খুব পরিচিত অসুখ। অনেক মেয়েই এই সমস্যায় কষ্ট পায়। কিন্তু…

ওমেগা - ৩ ফ্যাটি আ্যসিডের উপকারিতা

ওমেগা - ৩ ফ্যাটি আ্যসিডের উপকারিতা

ওমেগা - ৩ ফ্যাটি আ্যসিড আমাদের দেহ ও মস্তিষ্কের জন্য খুব উপকারী।…

মানসিক রোগের যত্তসব অমানুষিক চিকিৎসা

মানসিক রোগের যত্তসব অমানুষিক চিকিৎসা

প্রায়শই বলতে শোনা যায় দিন দিন নতুন নতুন রোগ দেখা যাচ্ছে। আসলে…

ভেষজ উপাদান সেবনে ক্যান্সার সেরে যায়!

ভেষজ উপাদান সেবনে ক্যান্সার সেরে যায়!

লেবুর পানি, আদাজল, মধু, হলুদ, গ্রিন টি ইত্যাদি নানারকম জিনিস সেবন করলে…

গর্ভাবস্থায় বুক জ্বালা

গর্ভাবস্থায় বুক জ্বালা

গর্ভাবস্থায় মায়ের স্বাস্থ্য শিশুর স্বাস্থ্যের ওপর অনেক প্রভাব ফেলে। একমাত্র সুস্থ মা…



জনপ্রিয় বিষয় সমূহ:

দুর্যোগ অধ্যাপক সায়েন্টিস্ট রিভিউ সাক্ষাৎকার মানসিক স্বাস্থ্য মেধাবী নিউরন বিএসএমএমইউ স্বাস্থ্যমন্ত্রী ঢামেক গবেষণা ফার্মাসিউটিক্যালস স্বাস্থ্য অধিদপ্তর