ঢাকা      শুক্রবার ১৭, অগাস্ট ২০১৮ - ২, ভাদ্র, ১৪২৫ - হিজরী

রক্ত দিয়ে চব্বিশ লাখ শিশুর জীবন বাঁচিয়েছেন যিনি

মেডিভয়েস ডেস্ক: অস্ট্রেলিয়ায় সাধারণত চাকুরিজীবীরা যখন অবসরে যান, তখন তারা গোল্ড ওয়াচ সম্মাননা পান। কিন্তু জেমস হ্যারিসন তার চেয়ে অনেক বেশি সম্মানের দাবিদার। কারণ গত ৬০ বছরে প্রতি সপ্তাহে রক্ত দান করে প্রায় ২.৪ মিলিয়ন (২৪ লাখ) শিশুর জীবন বাঁচিয়েছেন তিনি। সংবাদ সংস্থা সিএনএনকে  অস্ট্রেলিয়ান রেডক্রস এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। ৮১ বছরের হ্যারিসনকে মানবকল্যাণের জন্য গতকাল শুক্রবারম্যান ওয়িথ দ্য গোল্ডেন  সম্মানে ভূষিত করা হয়।

 

কিভাবে তিনি ২৪ লাখ শিশুর জীবন বাঁচিয়েছেন

৮১ বছরের বয়স্ক অষ্ট্রেলিয়ান নাগরিক হ্যারিসনের রক্ত ছিলো ব্যতিক্রম। যা বিশেষ রোগ প্রতিরোধ করতে সক্ষম ছিল। তার সেই রক্ত দিয়ে মাতৃগর্ভে শিশুদের বিশেষ রোগ  rhesus disease. এর প্রতিষেধক ইনজেকশ তৈরি করা হয়। এই রোগটি হচ্ছে যখন নারীরা গর্ভধারণ করেন তখন তার পেটের বাচ্চার রক্তের সেল নষ্ট করে দেয়। এবং হ্যারিসনের রক্তে দিয়ে সেই রোগের প্রতিষেধক ইনজেকশান যা অ্যান্টি-ডি নামে পরিচিত। এই রোগ হলে বাচ্চার মস্তিষ্ক নষ্ট এমনকি মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে। সেই থেকে এ পর্যন্ত তার দেয়া রক্ত থেকে তৈরি ওষুধে (ইনজেশান) চব্বিশ লাখ শিশুর জীবন রক্ষা পেয়েছে।

 

হ্যারিসন কেন ডোনার হলেন

হ্যারিসনের বয়স তখন মাত্র ১৪ বছর। সেই বয়সে তার বুকে জটিল একটি অপারেশন করাতে হবে এবং রক্ত দরকার। তখন তাকে কেউ একজন রক্ত দিয়ে তার জীবন বাঁচিয়েছিলেন। সেই থেকে তিনি অঙ্গীকার করেন যতদিন বেঁচে থাকবেন ততদিন মানবকল্যাণে রক্ত দিয়ে যাবেন। ঠিক এই ঘটনার কয়েকবছর পরেই চিকিৎসকরা তার রক্তে বিশেষ এক ধরণের উপাদান খুঁজে পান, যা অ্যান্টি-ডি ইনজেকশান তৈরিতে সহায়ক। তার রক্তের সন্ধানের ফলে বহু মানুষের মধ্যে আশা-আকাঙ্খার সম্ভাবনা জাগে।

 

জেমস হ্যারিসন তখন থেকেই রক্তদাতা হওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। তবে মজার বিষয় হলো চিকিৎসকরা তখনো শতভাগ নিশ্চিত ছিলেন না তার এই বিরল রক্তের উপাদান নিয়ে। তবে তারা মনে করছেন হ্যারিসনের ১৪ বছর বয়সে যখন অস্ত্রোপচার হয় তখন সে কারো রক্ত গ্রহণ করেছিলো। সম্ভবত এটা সেই রক্ত হতে পারে।

 

তার প্রতিব্যাগ রক্ত অনেক মূল্যবান ছিলো। কারণ হ্যারিসনের রক্ত অসাধারণ গুণসম্পন্ন। কেননা তার মূল্যবান রক্ত দিয়ে শিশুর জীবন রক্ষাকারী ওষুধ (অ্যান্টি-ডি ইনজেকশান) তৈরি করা হয়। যখন গর্ভবতী মায়ের পেটের মধ্যে আক্রান্ত বাচ্চা rhesus disease ঝুঁকিতে থাকেন তখন ওই ইনজেকশান দেয়া হয়। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, হ্যারিসনের রক্ত দিয়ে যে অ্যান্টি-ডি ইনজেশান তৈরি করা হয়েছে এর আগে অষ্ট্রেলিয়ায় এ ওষুধ তৈরি হয়নি। এছাড়া অস্ট্রেলিয়ায় প্রায় ১৭ ভাগ নারী rhesus disease রোগের ঝুঁকিতে থাকেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন:

 


আন্তর্জাতিক বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

তাইওয়ানের ওয়েইফু হাসপাতালে অগ্নিকাণ্ডে নিহত ৯

তাইওয়ানের ওয়েইফু হাসপাতালে অগ্নিকাণ্ডে নিহত ৯

তাইওয়ানের রাজধানী তাইপের ওয়েইফু হাসপাতালে আগুন লেগে অন্তত ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে,…

আরো সংবাদ














জনপ্রিয় বিষয় সমূহ:

দুর্যোগ অধ্যাপক সায়েন্টিস্ট রিভিউ সাক্ষাৎকার মানসিক স্বাস্থ্য মেধাবী নিউরন বিএসএমএমইউ স্বাস্থ্যমন্ত্রী ঢামেক গবেষণা ফার্মাসিউটিক্যালস স্বাস্থ্য অধিদপ্তর