ঢাকা      রবিবার ২০, জানুয়ারী ২০১৯ - ৭, মাঘ, ১৪২৫ - হিজরী



ডা. লতিফুর রহমান

ইন্টার্ন চিকিৎসক, স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল


আপনাকে এত তরুণ লাগে কেন? 

‘আচ্ছা আপনাকে এত তরুণ তরুণ লাগে কেন? এর রহস্যটা আসলে কী?’

নারী সাংবাদিকের এমন প্রশ্নে অট্টহাসি দিয়ে উঠলেন মাহাথির। তারপর বললেন, ‘এই প্রশ্নটা আমাকে অনেকেই করে থাকেন। তাদের সবাইকেই আমি বলি, ‘এক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো কখনো বেশি খাবেন না।’

‘একবার শরীরে চর্বি জমে গেলে আর সহজে তা কমাতে পারবেন না। আর এটা হচ্ছে আমার মায়ের উপদেশ। মা আমাকে বলেছিলেন, ‘যখন খুব ভাল ভাল খাবার সামনে আসবে, নিজেকে থামিয়ে দাও।’ এটা মানা আসলে খুবই কষ্টকর।’

পেশায় চিকিৎসক মাহাথির বলতে থাকেন, ‘পরে যখন মেডিকেলে পড়াশোনা করলাম, তখন বুঝলাম মায়ের উপদেশ আসলে কতটা মূল্যবান ছিলো। কারণ, বেশি খেলে পাকস্থলী বড় হতে থাকে। নিয়মিতভাবে বেশি খেলে সেটি আকার অনেক বড় হয়ে যায়। এক পর্যায়ে অভ্যাস এমন হবে যে, বেশি না খেলে ক্ষুধা লাগবে। এভাবে বেশি খেতে খেতে আপনার পাকস্থলীর আকার কী হবে বুঝুন!’

‘খেতে ভালো লাগে, এজন্য বেশি বেশি খাওয়া দাওয়া করা। অনেকেই এমনটি করে থাকেন। কিন্তু আমি খুবই নিয়ম মেনে চলি। শুধু এক্ষেত্রে না, আরও অনেক ক্ষেত্রে। আমার মায়ের উপদেশ মেনে চলি। অন্যদেরকেও বেশি খেতে মানা করি। সব সময় মনে রাখবেন, যখন সামনে রাখা খাবারগুলো খুবই চমৎকার, তখন দয়া করে নিজেকে থামানোর চেষ্টা করেন। জানি এটা কঠিন। কিন্তু কিছুদিন চেষ্টা করলে খুব সহজেই অভ্যাস হয়ে যাবে। এক পর্যায়ে নিজের আবেগ অনুভূতিকে নিয়ন্ত্রণ করা শিখে যাবেন’, বলেন মাহাথির।

হার্টের সমস্যার কারণে দুইবার বাইপাস অপারেশনের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে ৯২ বছর বয়সে নতুন করে প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হওয়া এই নেতাকে। এ বিষয়ে বলতে গিয়ে একটু রসিকতার আশ্রয় নেন ‘গ্রান্ডপা’। বলেন, ‘আসলে আমি মনে করি আমি খুব বেশি টেনশন করি না। কিন্তু সমস্যা হলো আমার হার্ট আমাকে বুঝতে চায় না! তাই দুইবার অপারেশন করতে হয়েছে। তবে যাইহোক, সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো- আমি খুবই শৃঙ্খলাপূর্ণ জীবন যাপন করি।’

শুধু কি শারিরীকভাবে দেখতে তরুণ লাগে তাকে? না, মানসিকভাবেও মাহাথির একজন তরুণ। সাংবাদিক সুমিকো তাই প্রশ্ন করলেন, ‘মনের দিক থেকেও তো আপনি এক জলজ্যান্ত তরুণ! কেমনে এত সজীব ও উদ্যোমে ভরপুর থাকেন সব সময়?!’

এবার আরেক হাসি দিয়ে বললেন, ‘হ্যাঁ, মেন্টালি ইয়াং! আসলে হয়েছে কী যখন তরুণ ছিলাম, অনেক বই পড়তাম। আমার মূল্যবোধ এগুলো থেকে তৈরি হয়েছে। ব্রিটিশদের (মালয়েশিয়ার উপনিবেশক) নিয়ে পড়েছি, বীরত্ব ও সাহসিকতার গল্প পড়েছি, জীবনে সৎ ও সঠিক থাকার বিষয়ে পড়েছি, কিভাবে সুশৃঙ্খল জীবন যাপন করতে হয়- ওগুলো নিয়েও পড়েছি। এসব বিষয় আমার ওপর সব সময় প্রভাব বিস্তার করে চলেছে। তরুণ ছেলেমেয়েদেরকে আমি সব সময় অনুরোধ করি, দয়া করে পড়ো। কিন্তু এখন মানুষ বই অতোটা পড়ে না। পড়লে অনেক কিছু জানা যায়। এর মাধ্যমেই আমার পর্যবেক্ষণ ক্ষমতা তৈরি হয়েছে। আমি চলতে ফিরতে অনেক কিছু দেখতে পাই। কিন্তু অন্য লোকজন তা দেখতে পায় না (কারণ তারা পড়েনি)। আমি কোথাও বেড়াতে গেলে টাকাটা উসুল হয় (কারণ আমি অনেক বেশি দেখতে পাই)!

সংবাদটি শেয়ার করুন:

 


জীবন ও কর্ম বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

ব্রিটিশ মেডিকেল জার্নাল দক্ষিণ এশিয়া পুরস্কার পেলেন ডা. কান্তা

ব্রিটিশ মেডিকেল জার্নাল দক্ষিণ এশিয়া পুরস্কার পেলেন ডা. কান্তা

মেডিভয়েস রিপোর্ট:‘ব্রিটিশ মেডিকেল জার্নাল দক্ষিণ এশিয়া পুরস্কার-২০১৮’ অর্জন করেছেন গণস্বাস্থ্য সমাজভিত্তিক মেডিকেল…

আরো সংবাদ














জনপ্রিয় বিষয় সমূহ:

দুর্যোগ অধ্যাপক সায়েন্টিস্ট রিভিউ সাক্ষাৎকার মানসিক স্বাস্থ্য মেধাবী নিউরন বিএসএমএমইউ স্বাস্থ্যমন্ত্রী ঢামেক গবেষণা ফার্মাসিউটিক্যালস স্বাস্থ্য অধিদপ্তর