ডা. সরকার সাইফুল

ডা. সরকার সাইফুল

মেডিকেল অফিসার

বাকেরগঞ্জ, বরিশাল।


০৯ মে, ২০১৮ ১১:২২ এএম

ফাইনাল প্রফের রেজাল্ট ও বেদনা মধুর একটি দিন

ফাইনাল প্রফের রেজাল্ট ও বেদনা মধুর একটি দিন

২০১৪ সালের মে মাস। এখনকার মতই রৌদ্রজ্জ্বল ছিলো দিনগুলি। ৮ মে'র সকাল বেলা রবীন্দ্র জন্মজয়ন্তীর স্ট্যাটাস দিয়ে, বিকেল থেকে আর ফেসবুকে ঢুকিনি। তার পরের বেশ কয়েকদিনও। কারণ ওইদিন ফাইনাল প্রফের রেজাল্ট দিয়েছিল।

রেজাল্ট আনতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়েছিলাম আমি আর সবুজ। সৌভাগ্যক্রমে দুজনেই ফেল করেছিলাম। বন্ধগেটে নেমে দুজন মিষ্টি আর দই খেলাম। প্ল্যানটা আমারই ছিল। সবুজকে বলেছিলাম, আরে ধুর পাশতো করবোই, আগেই খেয়ে নেই।

এরপর থেকে নিজেকে বেশ কিছুদিন ভারচুয়াল জগৎ থেকে, আশেপাশের কোলাহল ও কবিতা থেকে গুটিয়ে নিয়েছিলাম। ঘুম আসতে চাইতো না। যতক্ষণ ঘুমিয়ে থাকতাম, ভাল থাকতাম। ঘুম ভাংগলেই মনে পড়ত 'আমি পাশ করতে পারিনি।' এটা ছিলো দুঃসহ এক অভিজ্ঞতা।

সকালে ওঠে আমার সহপাঠীরা সবাই হসপিটালে যেত, আর আমি যেতাম ফুলবাবুর চায়ের দোকানে। পড়তে ইচ্ছে করত না। সবইতো পড়া। সবার হসপিটালে যাওয়া যখন শেষ হত তখন হোস্টেলে ফিরতাম।

এরইমধ্যে, সহপাঠীদের ফেসবুকের স্ট্যাটাস আলহামদুলিল্লাহ্‌ থেকে পরিবর্তিত হয়ে working as an Intern Doctor হওয়া শুরু হল। মানে সবার নতুন একটা Identity হল। গোলটা বাধলো তখনই।

এমনিতেই ফেসবুক ছেড়ে দিয়েছি। তারমধ্যে একদিন ফেসবুকে ঢুকে দেখি ফেসবুক আমাকে জিজ্ঞেস করছে, Sarker, where do you work? বুকটা ভেঙ্গে গিয়েছিল এটা দেখে। সেদিন হতাশ আমি নিজেকে জিজ্ঞেস করছিলাম, Where do I belong? 

এতক্ষণে আসল কথায় আসি। এই স্ট্যাটাসটি কাদের জন্য লেখা? এই কথাগুলো কেন বলছি?

সেদিনের আমি, আজকে হেলথ কমপ্লেক্সে ব্যস্ত দিন শেষে বরিশাল থেকে ঢাকায় আসার পথে লঞ্চের করিডোরে বসে লিখছি এই কথাগুলো- And now I do have some work,fb. এই লেখাটুকু তাদের জন্য যারা এই মে মাসের রৌদ্রজ্জ্বল ঝলমলে দিনগুলিতে ফাইনাল প্রফে খারাপ করে জীবনে নিজেকে অর্থহীন ভাবতে শুরু করে, চুপিসারে সবার অলক্ষ্যে বসে চা খায় আর নিজেকে জিজ্ঞেস করে, where do I belong? এবং সংসারের আরো অনেক জায়গায় যারা হতাশায় মগ্ন।

আসলে, Time heals every believe me everything. Though sometimes it left back it's scar. স্কার না রেখে গেলে হয়ত আজকে এই কথাগুলো কারো জন্য লিখতে বসতে পারতাম না। 

জীবন অনেক ছোট। হতাশায় কাটিয়ে একে নষ্ট করার সময় কোথায়? এবং চায়ের দোকানের dear you all, belongs in this beautiful world. One day you'll do whatever you wanted to. Work for what you believe in. Give her (your dream) time, She'll hug you. May be the day after. Can't you wait a day? huh?

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
তুমি সবার প্রফেসর আবদুল্লাহ স্যার, আমার চির লোভহীন, চির সাধারণ বাবা
পিতাকে নিয়ে ছেলে সাদি আব্দুল্লাহ’র আবেগঘন লেখা

তুমি সবার প্রফেসর আবদুল্লাহ স্যার, আমার চির লোভহীন, চির সাধারণ বাবা

বেশিদিন ওমিপ্রাজল খেলে হাড় ক্ষয়ের ঝুঁকি বাড়ে 
কিডনি পাথরের ঝুঁকি বাড়ায় নিয়মিত অ্যান্টাসিড সেবন 

বেশিদিন ওমিপ্রাজল খেলে হাড় ক্ষয়ের ঝুঁকি বাড়ে