ঢাকা শুক্রবার, ১৮ অক্টোবর ২০১৯, ২ কার্তিক ১৪২৬,    আপডেট ১ ঘন্টা আগে
ডা. শাহপরান ইসলাম প্রবাল

ডা. শাহপরান ইসলাম প্রবাল

ইন্টার্ন ডাক্তার

গণস্বাস্থ্য সমাজ ভিত্তিক মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল।


০৯ মে, ২০১৮ ১০:৩৯

কিভাবে বুঝবেন আপনার সন্তানের থ্যালাসেমিয়া?

কিভাবে বুঝবেন আপনার সন্তানের থ্যালাসেমিয়া?

থ্যালাসেমিয়া একটি বংশগত রোগ। মেডিকেল টার্ম Autosomal Recessive Disease হিসেবে এর পরিচয়। 

থ্যালাসেমিয়া কি? 

আমাদের রক্তের লোহিত রক্তকণিকা গঠনের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হল হিমোগ্লোবিন যা নিজে লৌহ ও গ্লোবিনের মাধ্যমে তৈরি হয়। যদি এই গ্লোবিন প্রোটিন তৈরিতে কোন জন্মগত ত্রুটি থাকে তাহলে অপরিপক্ক গ্লোবিন তথা হিমোগ্লোবিন তৈরি হয়। সেক্ষেত্রে এই হিমোগ্লোবিনের কারণে রক্তকণিকা খুব দ্রুত ভেঙ্গে যায় যেখানে একটি রক্তকণিকা গড়ে ১২০ দিন বাঁচতে পারে। এর ফলে রক্তশূন্যতা দেখা দেয়।

কিভাবে হয়? 

বাবা মার যেকোন একজনের হিমোগ্লোবিন তৈরির জীনে সমস্যা থাকলে তাহলে বাচ্চাদের সরাসরি থ্যালাসেমিয়া রোগ হয় না। সেক্ষেত্রে তারা থ্যালাসেমিয়া রোগের বাহক হিসেবে সেই জীন বহন করে। কিন্তু বাবা এবং দুইজনই যদি থ্যালাসেমিয়ার জীন বহন করেন সেক্ষেত্রে তাদের প্রতি ৪টি বাচ্চার একটি বাচ্চার থ্যালাসেমিয়া রোগ সরাসরি দেখা দিবে।

কিভাবে বুঝবেন থ্যালাসেমিয়া? 

জন্মের পরপর থ্যালাসেমিয়া রোগ বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই বোঝা যায় না। জন্মের কয়েকমাস যাওয়ার পর রক্তশূন্যতা সর্বপ্রথম দেখা যেতে পারে। সেক্ষেত্রে ফ্যাকাশে ভাব, বাচ্চার দুর্বল ভাব, বেশি কান্না করা ইত্যাদি ধরা পড়ে। যদি সঠিকভাবে নিয়ন্ত্রণ করা না হয় পরবর্তীতে বেড়ে ওঠা ধীর হয়ে যায় এবং শরীরে বিশেষত চেহারায় পরিবর্তন দেখা দেয়। পরবর্তীতে স্প্লিন বড় হওয়া শুরু হয় এবং চামড়ায় হলুদাভ ভাব থাকা, প্রস্রাব গাড় রঙের হওয়া ইত্যাদি উপসর্গ দেখা যায়। 

কিভাবে পরীক্ষা করবেন? 

থ্যালাসেমিয়া হওয়ার পর রক্ত পরীক্ষা করলেই থ্যালাসেমিয়া রোগ ধরা পড়ে। এছাড়া হিমোগ্লোবিন ইলেক্ট্রোফোরেসিসের মাধ্যমে সঠিকভাবে রোগ নির্ণয় করা যায়।

কিভাবে প্রতিরোধ করবেন? 

বিয়ের আগে যদি হবু স্বামী স্ত্রী হিমোগ্লোবিন ইলেক্ট্রোফোরেসিস পরীক্ষার মাধ্যমে নিজেরা আগে থেকে নিশ্চিত হয়ে নেয় যে দুইজনেই থ্যালাসেমিয়ার জীন বাহক না তাহলে বাচ্চাদেরও কেউ থ্যালাসেমিয়া রোগী হবে না।

চিকিৎসা

বর্তমানে রক্তশূন্যতা রোধে রক্ত পরিসঞ্চালন করে থ্যালাসেমিয়া রোগের চিকিৎসা করা হচ্ছে। নির্দিষ্ট পরিমান রক্ত পরিসঞ্চালনের পর আয়রন কমানোর জন্য চিলেটিং ওষুধ ও গ্রহণ করছে। এছাড়া স্প্লিন বড় হয়ে গেলে স্প্লিন কেটে ফেলে দেয়া হচ্ছে।
আর প্রধান চিকিৎসা বলতে Haemopoietic Stem Cell Transplantation এখন পর্যন্ত সবার কাছে গ্রহণযোগ্য।

আসুন বিশ্ব থ্যালাসেমিয়া দিবসে থ্যালাসেমিয়া রোগ প্রতিরোধে বিয়ের পূর্বে রক্ত পরীক্ষা করে নেই। 

সূত্র: # de Gruchy's Clinical Haematology 
     # Davidson's Principles and Practice of Medicine

আরও পড়ুন-

►থ্যালাসেমিয়া রোগীদের আর্থিক সহায়তা দেওয়ার কথা ভাবছে সরকার

►  থ্যালাসেমিয়ার বাহক হতে পারে যে কেউ!

►থ্যালাসেমিয়া রোগ প্রতিরোধের উপায়

► ‘বিয়ের আগে ওদের রক্ত পরীক্ষা করলে কোনো দুশ্চিন্তায়ই হতো না’

► অস্বাভাবিক গর্ভধারণ কেন হয়?

► বিয়ের আগে যে পরীক্ষাটি জরুরী

► রক্তশূন্যতা কি, কেন হয়, লক্ষণ ও করণীয়

►থ্যালাসেমিয়া প্রতিরোধে সচেতনতা সৃষ্টিকারী যোদ্ধারা

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত