ঢাকা শুক্রবার, ১৮ অক্টোবর ২০১৯, ২ কার্তিক ১৪২৬,    আপডেট ১ ঘন্টা আগে
ডা. ফাহিম উদ্দিন

ডা. ফাহিম উদ্দিন

ইন্টার্ন চিকিৎসক

খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল।


০৭ মে, ২০১৮ ১২:১০

ফাইনাল প্রফের আগ মুহূর্তে পড়তে পারিনি

ফাইনাল প্রফের আগ মুহূর্তে পড়তে পারিনি

নটরডেম কলেজ থেকে মেডিকেলে যাওয়ার পর ইন্টার্নাল এনভায়রনমেন্টে ব্যাপক ব্যাবধান দেখে প্রথমদিকে খুব মন খারাপ আর হতাশা কাজ করেছে। ওই পরিবেশ আসলে আমি মেনে নিতে পারিনি। বিশেষ করে রাজনীতি আর র‌্যাগিংয়ের বিষয়টা।

প্রথমদিকে পড়াশোনায় মনোযোগ বা আগ্রহ কম ছিল, শুধু পরীক্ষার জন্য পড়তাম। পরবর্তীতে মেডিকেলের সেকেন্ড ইয়ার থেকে Exam Oriented পড়াশোনা প্রায় ছেড়ে দেই। নিজের কৌতুহল মেটাতেই বেশি পড়ি।

বিশেষ করে পরীক্ষায় কোনো কাজে আসবে না জেনেও মেডিকেল সায়েন্সের এক্সপ্লানেসন এন্ড কোরিলেসনে অনেক সময় ব্যয় করেছি।

কিন্তু জানতে ভালো লাগে তাই পড়ি। এমনকি পরীক্ষার আগের দিনও এসব কাজ করেছি যা একটু অস্বাভাবিকই বটে!

কারণ, Exam Oriented পড়াশোনা মোটেও ভালো লাগে না, ভালো লাগার মতও না। আমাদের এডুকেশন সিস্টেমে অনেক সমস্যা আছে।

সুতরাং এরকম একজন ছাত্রের জন্য পরীক্ষা মানেই অনেক কষ্টের একটা বিষয়। নিজের মনের বিরুদ্ধে পড়াশোনা। তার ওপর ফাইনাল প্রফের আগ মুহূর্তে পড়তে পারিনি। নিজ প্রফেশনের একজন সিনিয়র, যাঁর জন্য এত আন্তরিকতা দেখিয়েছি, এত কিছু করেছি, ওনার কিছু কথা আর মনোভাবে খুব কষ্ট পেয়েছি। এতটাই কষ্ট পেয়েছি যে, পরীক্ষার আগের কিছুদিন পড়াশোনাই করতে পারিনি।

শেষমেস আমার রুমমেট, সিনিয়র ভাইয়েরাও অনেক অনুরোধ করলো যাতে পরীক্ষাটা খারাপ না হয়! এছাড়া কিছু কাছের সিনিয়র ভাই/আপুর মেন্টাল সাপোর্টের কথা ভুলবো না।

এমনকি প্রথম পরীক্ষাটাও আমি বলতে গেলে না পড়েই অংশগ্রহণ করেছি। এরপর একটু সিরিয়াসলি পড়তে পেরেছিলাম। কারণ আলহামদুলিল্লাহ প্রথম পরীক্ষা ভালো হওয়ায় অনেক স্পিরিট পাই।

দুই.

আমি নিজের জন্য টেনশন করিনি।

বরং আমার বাবা-মা, আত্মীয়-স্বজনের এত এত প্রত্যাশার কারনে সেই সময় খুব মানসিক চাপে ছিলাম। অনেকদিন ফেসবুক আইডি ডিএক্টিভেটেড ছিল। যাই হোক এরপর একে একে সব পরীক্ষা শেষ হতে থাকলো।

মানসিকভাবে খুবই আনস্ট্যাবল ছিলাম। যে জিনিস সবাই কয়েকবার পড়ে পরীক্ষার হলে গিয়েছে, আমি সেটা ঠিকমত একবারও পড়তে পারিনি। আমার হাতিয়ার ছিল আল্লাহর দয়া, মানুষের দোয়া আর সারাবছরের ক্লাস, ওয়ার্ড আর নিজের সামান্য বুঝে বুঝে কোরিলেট করে পড়ার চেষ্টা থেকে অর্জিত যৎসামান্য জ্ঞান।

আলহামদুলিল্লাহ সবগুলো পরীক্ষাই মোটামুটি ভালো হয়। শেষ পরীক্ষাটা সবচেয়ে ভালো হয়, কয়েকজন স্যারই খুব এপ্রেশিয়েট করেন। যা আসলেই আল্লাহর পক্ষ থেকে অনেক বড় অনুগ্রহ। ওই মানসিক অবস্থা থেকে ফিরে এসে পাশ করাটা আসলে অনেক কষ্টের ছিল।

আল্লাহর রহমত না থাকলে সম্ভব হতো না কোনোদিন। তবে যা বুঝলাম, ফাইনাল প্রফে ভাল করার জন্য আসলে বই-পুস্তকের গদবাঁধা থিওরেটিক্যাল পড়াশোনার চেয়ে টুকটাক ক্লিনিক্যাল নলেজই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

তিন.

এক্সামের ব্যাপারে আমি বরাবরই ড্যাম কেয়ার। ভবিষ্যতেও হয়ত এরকমই থাকবো। যাই হোক, ডাক্তার হতে পেরেছি এটা যেমন আনন্দের, নিজের সবচেয়ে কাছের বন্ধুদের অনাকাঙ্ক্ষিত খারাপ করাটাও অত্যন্ত দুঃখের। তাছাড়া যারা আমার চেয়ে অনেক গুণ পড়াশোনা করেও খারাপ করলো দুর্ভাগ্যবশত, তাদের জন্যও খুব খারাপ লাগছে।

চার.

সবশেষে, বড় ডাক্তার হয়ে দেশ ও দশের সেবা সবাই করতে চায়। তবে এর পাশাপাশি আমি যে দোয়াটা চাই তা হল, আর্থিক লোভ লালসার কাছে কোনোদিন যাতে নিজের বিবেককে বিসর্জন না দেই, যেকোনো পরিস্থিতিতেই যেনো নিজের মান-মর্যাদা আর সততাকে সমুন্নত রেখে চলতে পারি।

অন্যায়, অনাচার, অনিয়মকে প্রতিরোধ করতে না পারি,, অন্তত সেই স্রোতে যেনো কোনোদিন গা ভাসিয়ে না দেই।

সর্বোপরি ভালো ডাক্তারের পাশাপাশি যেনো একজন ভালো মানুষ হয়ে মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে নিতে পারি যে, মানুষকে সবাই মৃত্যুর পরেও মনে রাখবে।

আরও পড়ুন

► প্রফ পরীক্ষা মানেই দুশ্চিন্তা!

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত