ডা. সৃজনী আহমেদ

ডা. সৃজনী আহমেদ


০২ মে, ২০১৮ ০১:১৫ পিএম

সন্তানের অভ্যাস পরিবর্তনে প্রয়োজন মানসিক প্রস্তুতি

সন্তানের অভ্যাস পরিবর্তনে প্রয়োজন মানসিক প্রস্তুতি

সন্তানের রাগ নিয়ন্ত্রণে, কথা না শোনার সমস্যায়, সামাজিক দক্ষতা শেখাতে অনেক ক্ষেত্রে তাকে আচরণগত চিকিৎসার একটা অংশ দেয়া যেতে পারে ঘরের কাজে সাহায্য করা, ভাইবোনদের কে সাহায্য করা, নিজের কাজ নিজে করা। এগুলো শুরু করতে কোন বাড়তি খরচ নাই, বরং সন্তান দায়িত্ববোধ শিখবে, যারা কাজ করে তাদের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হবে, সমাজে তার নিজের একটা অবস্থান খুঁজে পাবে, তার আবেগও নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে, জীবন নিতে পারবে। কিন্তু এই বিষয়টা শুরু করতে গেলে অভিভাবকের কিছু মানসিক প্রস্তুতি লাগবে।

একটা উদাহরন বলি: একজন ২৫-২৬ বছর বয়স্ক মা আমাকে জিজ্ঞেস করলেন উনার বাচ্চার দুষ্টুমি আর মোবাইল ব্যবহার কিভাবে কমাবেন। বাচ্চার বিষয়ে জানতে গেলে যা তথ্য পেলাম-বাচ্চার বয়স পাঁচ বছর। এবং বাচ্চা দিনরাত অস্থিরতা করে ঘরের সব কিছু ভেংগে ফেলে, সবাইকে মারতে থাকে, ছটফট করে, আর মোবাইলটা পেলে শান্ত থাকে এবং ঘন্টার পর ঘন্টা সেটাতে সময় কাটায়। বাবা-মা দুইজনই মোবাইল ব্যবহার নিয়ে এতদিন খুশিই ছিলেন কিন্তু ঝামেলা শুরু হলো বাচ্চার চোখ নিয়ে। ডাক্তার দেখালে তিনি স্ক্রীন কম ব্যবহার করার পরামর্শ দিলেন। কিন্তু মোবাইল কেড়ে নিলেই বাচ্চা অস্থির হয়ে যায়, "কি করবো, কি করবো" করতে থাকে, কাউকেই সুস্থির হয়ে বসতে দেয় না।

বাচ্চাটি ছেলে এবং তার জামা পড়ায় দেয়া থেকে শুরু করে খাওয়ানো, এমনকি এখনো টয়লেট যাওয়ার জন্য মনে করায় দেয়া বাবামাকেই করতে হয়। এই বাচ্চাটি ছেলে হলেও অভিভাবক তার ক্ষেত্রে ঘরের কাজে তাকে ব্যস্ত করার বিকল্প আচরণটি খুব ভালোমতো মেনে নিলেন। বাবা-মা তাকে বাজারে নিয়ে যাওয়া শুরু করলেন। বাসার পাশের একটা গলিতে খেলতে নিয়ে যাওয়া শুরু হলো। বাসাতেও ফুটবল খেলতে দেয়া হলো। আগে কিছু ভাঙলে মা পরিষ্কার করতেন, কিন্তু এখন বাচ্চা কিছু ভাঙলে তাকেই পরিষ্কার করতে হয়, এতে করে সে বুঝে গেল ভাংগলেই বিপদ। মা বাবা রাজি হলেন মোবাইলটা পুরোপুরি তার থেকে দূরে রাখবেন যতই সে কান্নাকাটি করুক না কেন। প্রথম প্রথম সে মাটিতে গড়াগড়ি দিয়ে, অনেক রাগ করে, খাওয়ার সময় মুখ ফিরায় নিয়ে মোবাইল কেড়ে নেয়ার প্রতিবাদ করতো। বাবা মা কিছুদিন এই বিষয়গুলো পাত্তা না দেয়াতে আর করেনাই। এরমধ্যে একদিন নিজেই বাবার সাথে টেবিলে বসে সে নিজের হাতে খাওয়া শুরু করলো, অনভ্যাসে ছিটিয়ে খেলেও বিষয়টাতে মজা পাচ্ছিলো কারণ বাবা-মা খুব খুশি হয়ে গিয়ে তার প্রশংসা শুরু করলেন। ওইদিন মা আমাকেও ধন্যবাদ দিলেন।

উদাহরণটি এই কারণে দিলাম যে এই কার্যক্রমের মূলতত্ত্ব জানা ছিলো বই থেকে, আর প্রশিক্ষণ পেয়েছি আমার শিক্ষকদের কাছ থেকে, আর অভিভাবক বৈজ্ঞানিকভাবে গ্রহন করাতে সন্তানের আচরণ পরিবর্তন করা গেল। তত্ত্বগুলো না জানা থাকলে, কিভাবে অভিভাবকদের এই পর্যায়ে মনোবল বজায় রাখতে হয় সেই কায়দা না জানলে এটা সম্ভব ছিলো না।

সিন্ডিকেট মিটিংয়ে প্রস্তাব গৃহীত

ভাতা পাবেন ডিপ্লোমা-এমফিল কোর্সের চিকিৎসকরা

প্রস্তুতির নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

অক্টোবর-নভেম্বরে ২য় ধাপে করোনা সংক্রমণের শঙ্কা

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
বেশিদিন ওমিপ্রাজল খেলে হাড় ক্ষয়ের ঝুঁকি বাড়ে 
কিডনি পাথরের ঝুঁকি বাড়ায় নিয়মিত অ্যান্টাসিড সেবন 

বেশিদিন ওমিপ্রাজল খেলে হাড় ক্ষয়ের ঝুঁকি বাড়ে