ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১৭ অক্টোবর ২০১৯, ২ কার্তিক ১৪২৬,    আপডেট ৪৪ মিনিট আগে
ডা. ফাহিম উদ্দিন

ডা. ফাহিম উদ্দিন

ইন্টার্ন চিকিৎসক

খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল।


৩০ এপ্রিল, ২০১৮ ১১:১০

এরকম ডাক্তাররা বেঁচে থাকুক হাজার বছর

এরকম ডাক্তাররা বেঁচে থাকুক হাজার বছর

আমার এলাকার বড় ভাই ডা. মো. ফেরদৌসুর রহমান ভাইয়ার বাইক এক্সিডেন্টে ডান হাতের রেডিয়াস ফ্র্যাকচার হয় কয়েকদিন আগে। এরপর অপারেশন এর জন্য ঢাকায় গ্রীণ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে একজন অর্থোপেডিক সার্জনকে দেখাতে আসেন।  স্যার সাধারণত ছোট বাচ্চাদের হ্যান্ড সার্জারির কাজ করেন।  তাই প্রথমে স্যারের কমপাউন্ডার সিরিয়ালই নিতে চায়নি।  যাক কোনো রকমে সিরিয়াল দেয়া হল।  

এবার স্যারের কাছে যাবার পর ডাক্তার পরিচয় পেয়ে স্যার অপারেশন করতেও রাজি হলেন। স্যার আন্তরিকতাটাই অন্যরকম।  ডাক্তার শোনার পর ভিজিট তো নেননি, বরং স্যারের ওটি চার্জও ফ্রি করে দিয়েছেন।  এমনকি ডা. ফেরদৌস ভাই যখন জোর করে ওটি চার্জ দেয়ার কথা বললেন, তখন স্যারের রিপ্লাইটা ছিল এরকম: “আমার চল্লিশ বছরের ইতিহাসে আমি কোনো ডাক্তারের কাছ থেকে কোনোদিন ওটি চার্জ নেইনি, তুমি যদি ওটি চার্জ দিতেই চাও তবে অন্য কোথাও গিয়ে অপারেশন করাও!” 

অনেকেই হয়ত এতক্ষণে বুঝে ফেলেছেন।  এই স্যার হলেন অর্থোপেডিক্স এর লিজেন্ডারি প্রফেসর ডা. রামদেও রাম কায়রি স্যার।  যাঁর টিমে দশ জন অর্থোপডিক সার্জন আছেন, যাঁর ফার্স্ট এসিস্ট্যান্ট হলেন একজন ফুল প্রফেসর।  যেমন বড় মাপের স্যার, তেমনি বড় মনের মানুষ।  এছাড়া এনেস্থেসিওলজিস্ট হিসেবে ছিলেন প্রফেসর ডা. খলিলুর রহমান স্যার।  স্যারেরও আন্তরিকতার কোনো কমতি ছিল না।  

শুধু জ্ঞান বা অভিজ্ঞতাই নয়, এরকম স্যারদের কাছ থেকে আমাদের অনেক কিছু শেখার আছে।কিছু কিছু স্যার/ম্যাডাম আছেন, যাঁদের নাম শুনলেই শ্রদ্ধায় মাথা নত হয়ে আসে।  এটা শুধু ভিজিট/ওটি চার্জ না রাখার জন্য নয়, বরং তাঁদের আন্তরিকতা, স্নেহ আর ভালোবাসার জন্য।  এরকম স্যার/ম্যাডামগণ বেঁচে থাকুক হাজার বছর।  ওনাদের জন্য কখনো দোয়া করতে হয় না, অটোমেটিক মন থেকে দোয়া চলে আসে।

এরকম স্যারদের আন্তরিকতাপূর্ণ ঘটনাগুলো আমাদের সামনে আসা উচিত, যাতে আমরা ভবিষ্যত প্রজন্ম ওনাদের থেকে কিছু শিখতে পারি। )

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত