ঢাকা      সোমবার ১৮, জুন ২০১৮ - ৪, আষাঢ়, ১৪২৫ - হিজরী



শাহারিয়ার মাহমুদ

শিক্ষার্থী, এমএইচ শমরিতা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল। 


চিকিৎসকের ভিজিট সমাচার

এক ভাইয়ের সাথে মাঝে মাঝে উনার চেম্বারে যাই। বলে রাখি, ভাইয়া একজন সরকারী চিকিৎসক এবং উনি ঢাকার বাইরে কোন এক জায়গায় চেম্বার করেন। মফস্বলের একটি জায়গায় তিনি চেম্বার করেন। সেখনে প্রায় সময়ই বিদ্যুৎ থাকে না।

যেহেতু উনার সাথে প্রায় সময় যাওয়া হয় তাই অনেক কিছু প্রত্যক্ষ করতে পারি। আমি যখন ভাইয়ের সাথে যাই, তখন দেখা যায় আমি রোগীর প্রেশার ওয়েট এবং চিফ কমপ্লেইন্টস শুনি। অনেক সময় ফাইন্ডিং থাকলে এক্সামিনেশন করি। আমার উদ্দেশ্য আসলে শেখা। এবং এজন্য সেই ভাইয়ের প্রতি আমি কৃতজ্ঞ। উনি আমাকে শেখার সুযোগ করে দিয়েছেন।

আসল কথায় আসি। এরকম অনেক রোগী আসেন, যারা কিনা শুধু রিপোর্ট দেখাতে আসেন। সম্প্রতি একটা বিতর্ক উঠেছে, ডাক্তাররা রিপোর্ট দেখার জন্য কেন টাকা নিবেন? যেহেতু ভাইয়েরটা নিজে দেখেছি, তাই তারটাই বলছি।

কোন সময় হয়ত ইসিজি, কোন সময় এক্সরে, কোন সময় সিটি স্ক্যান কিংবা এম আর আই। তো ভাই প্রথমে রিপোর্টটা নিজে ভালভাবে দেখেন। তারপর রোগীকে বুঝান এবং এই বুঝাতে কমপক্ষে ১০-১৫ মিনিট ব্যায় করেন। এদিকে, বাইরে রোগীরা চেঁচামেচি করে। যেহেতু মফস্বল শহর সেহেতু রোগীরাও সেরকম। একদিকে রোগীদের চেঁচামেচি আরেকদিকে প্রচণ্ড গরম, কারেন্ট থাকে না। ভাই ঘামতে থাকেন, তারপরও রোগীকে তার রিপোর্ট ঠিকভাবে বোঝাতে কার্পণ্য করেন না।

এখানে বলে রাখি, এই যে এতটা সময় ব্যায় করলেন, গরমে ঘামলেন, বাইরে রোগীদের চেঁচামেচি শুনলেন এর বিনিময়ে টাকা নেয়াটা কি অন্যায়! তারপরও বলে রাখি, অনেক রোগী অনেক সময় অর্ধেক টাকা দেয়, আবার অনেকে দেয়ও না। তারপরও ভাইকে কোনদিন এটা নিয়ে টু শব্দ করেননি।

যারা মেডিকেলে পড়েন এবং ডাক্তার হয়েছেন, তারা জানেন একটা ইসিজি, একটা এক্সরে, সিটি স্ক্যান, এমআরআই রিড করতে পারা কতটা ঝামেলার। কারণ এর প্রত্যেক পরতে পরতে, ক্লু লুকিয়ে থাকে ধরতে না পারলে এবং রোগীকে বোঝাতে না পারলে, ক্ষতিটা যে রোগীরই হবে তা নিশ্চয় জানার কথা।

এই রিপোর্ট দেখেতো ট্রিটমেন্ট ও দিতে হয়। অনেক রোগীকে ক্লিনিক্যালি কনফার্ম ডায়াগনোসিসে পৌছানো যায় না। সেক্ষেত্রে এই রিপোর্ট সাহায্য করে। সুতরাং ডাক্তার সাহেব যদি এর বিনিময়ে ভিজিট নেন খুব কি দোষের হবে? উনি কি উনার মেধা এবং সময় ব্যয় করছেন না! উনিতো ঘুষ নিচ্ছেন না, নিচ্ছেন উনার মেধা এবং সময়ের দাম।

যে মেধা অর্জন করতে তাকে কাটাতে হয়েছে হাজারো নির্ঘুম রাত, দিনের পর দিন অমানসিক পরিশ্রম, নিজের পরিবার এবং নিজের স্বার্থ এর জলাঞ্জলি। সবাই শুধু কলমের খোচা দিয়ে টাকা নেয়াটা দেখে, এই পরিশ্রম করা টা দেখে না।

বি.দ্র. জানি এই লেখা পড়া র পর অনেকেই বলবেন, অনেক ডাক্তার সময় দেন না, ইচ্ছামত টেস্ট দেন ব্লা ব্লা। হুম, এরকম অভিযোগ মানছি। কিন্তু আপনাকেও মনে রাখতে হবে, বিশাল সমুদ্রের মাঝে কিছু না কিছু দূষিত জিনিস থাকবে তাই বলে কিন্তু পুরো সমুদ্রটাই দূষিত না।

সংবাদটি শেয়ার করুন:

 


পাঠক কর্নার বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আমি তাদের বেদনাটা টের পাই

আমি তাদের বেদনাটা টের পাই

কেউ যখন ডাক্তারি পড়তে যায় ধরে নেওয়া যায় পেশাটার প্রতি তার একটা…

ট্রান্সফিউশন মেডিসিনে নতুন দিগন্ত

ট্রান্সফিউশন মেডিসিনে নতুন দিগন্ত

ট্রান্সফিউশন মেডিসিনের ডায়াগনোসিস সেক্টরে একসময় যাদের পদচারণা ছিল তাদের মধ্যে আমাদের অনেক…

জীবন-মৃত্যু

জীবন-মৃত্যু

ঝুম বৃষ্টি। বৃষ্টিতে কাক ভেজা হয়ে রাস্তায় হাঁটছে ডা. তমাল। উৎসুক জনতা…

অ্যানেস্থেসিয়ায় মৃত্যুতে চিকিৎসকদের দোষ কেন?

অ্যানেস্থেসিয়ায় মৃত্যুতে চিকিৎসকদের দোষ কেন?

একজন সচেতন মানুষ মাত্রই এটা বুঝেন যে, অ্যানেস্থেসিয়া বা অজ্ঞান অবস্থাটা মৃত্যুর…



জনপ্রিয় বিষয় সমূহ:

দুর্যোগ অধ্যাপক সায়েন্টিস্ট রিভিউ সাক্ষাৎকার মানসিক স্বাস্থ্য মেধাবী নিউরন বিএসএমএমইউ স্বাস্থ্যমন্ত্রী ঢামেক গবেষণা ফার্মাসিউটিক্যালস স্বাস্থ্য অধিদপ্তর