ঢাকা      শুক্রবার ১৭, অগাস্ট ২০১৮ - ২, ভাদ্র, ১৪২৫ - হিজরী



ডা. ফাহিম উদ্দিন

ইন্টার্ন চিকিৎসক

খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল।


হাসপাতালে অব্যবস্থাপনা

সব ঝড়-ঝাপটা জুনিয়র ডাক্তারদের ওপর!

একটা হসপিটালের লিফট নষ্ট। একজন অসুস্থ রোগী যাঁর কিনা হাঁটতেই কষ্ট হচ্ছে, তাঁকে অহেতুক সাত তলা থেকে সিঁড়ি দিয়ে নিচে নেমে আবার উঠতে হল শুধু সিস্টেমজনিত সমস্যা আর মিস-কমিউনিকেশনের জন্য। আবার, একজন মুমূর্ষু রোগীর ডিসচার্জ নেয়ার জন্য ত্রিশ মিনিট ধরে এদিক-সেদিক দৌড়াদৌড়ি, অহেতুক সময় নষ্ট করতে হল। সুতরাং ওই রকম অবস্থায় রোগীর লোক ক্ষেপে যাবে সেটাইতো স্বাভাবিক। 

বাংলাদেশের প্রতিটা সরকারি বেশিরভাগ স্বায়ত্তশাসিত হসপিটাল এই সিস্টেমের সমস্যায় জর্জরিত। আপনি কয়টা টেস্ট করাতে যান সেখানেও দেখবেন সিস্টেম জনিত ভোগান্তি আর হয়রানি। একজন মুমূর্ষু রোগী রেফার করে জরুরি ভিত্তিতে অন্য হাসপাতালে নিতে যান, দেখবেন সিস্টেমজনিত ভোগান্তি আর কমিউনিকেশন গ্যাপ।

এর মারপ্যাঁচে পড়ে দেরি হতে হতেই রোগী আরো খারাপ হয়ে যাচ্ছে। এমনকি রাগ করে হসপিটাল থেকে চলে যাওয়ার জন্য যদি ডিসচার্জ পেপার নিতে যান সেখানেও সিস্টেমজনিত নানান ভোগান্তি। 

এছাড়া হসপিটালগুলোতে সুনির্দিষ্ট কোনো দিক নির্দেশনা নেই। তাই একই প্রশ্ন প্রতিদিন সাধারন লোকজন ডাক্তার, নার্স ও স্টাফদেরকে বাবার জিজ্ঞেস করায় তারাও বিরক্ত হয়ে রিএক্ট করে বসেন। তার ওপর দেশে নেই কোনো হেল্থ ইন্সুরেন্স, নেই কোনো রেফারেল সিস্টেম। সবাই গিয়ে কনসাল্ট্যান্ট ও প্রফেসরদের রুমে ভিড় জমায়। তিন দিন আগে সিরিয়াল দিয়ে তিন ঘন্টা ওয়েট করে ত্রিশ সেকেন্ডও ঠিকমত ডাক্তারের রুমে বসতে পারেন না ইত্যাদি।

এবার সব ক্ষোভ এসে ডাক্তারদের ওপর ঝাড়ে মানুষ। আবার, সাধারণ মানুষ মনে করে হসপিটাল সংক্রান্ত সবকিছু যে ডাক্তার চিকিৎসা দেন তাঁর দেখার কথা! এজন্য মানুষ ডাক্তারদের ওপর আরো ক্ষেপে যায়। আর কিছু হলেই সামনে পায় জুনিয়র ডাক্তারদের, এবার তাঁদের সাথে গিয়ে ঝামেলা করে, সব ক্ষোভ ঝাড়ে। 

অথচ সিস্টেমজনিত সমস্যাগুলোর সমাধান করলে মানুষের ভোগান্তি আর হয়রানি অনেক কমে যেতো। কিন্তু কর্তৃপক্ষের সেগুলো নিয়ে কোনো মাথা ব্যাথা নেই। কারণ এতে তাঁদের কিছুই যায় আসে না! যত ঝড় ঝাপটা সবতো বর্তমানে জুনিয়র ডাক্তারদের ওপর দিয়েই যাচ্ছে।

সব ক্ষোভ মানুষ এসে তাঁদের উপর ঝাড়ছে! কর্তৃপক্ষের কী আসে যায়! দেশের স্বাস্থ্যব্যাবস্থার অবস্থা যা'ই হোক, স্বাস্থ্যসেবার ওপর বিভিন্ন অর্জন আর পুরস্কারতো ঠিকই পাচ্ছে। এতেই তাঁরা খুশি। জনগন আর জুনিয়র ডাক্তারদের বারোটা বাজুক, তাতে তাদের কিছুই যায় আসে না!

সংবাদটি শেয়ার করুন:

 


সম্পাদকীয় বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

সুচিকিৎসার জন্য দরকার দক্ষ মেডিকেল টেকনিশিয়ান

সুচিকিৎসার জন্য দরকার দক্ষ মেডিকেল টেকনিশিয়ান

আউটডোরে রোগী দেখছি, সাথে ডা. নাজমুল। হঠাৎ নাজমুল একটি রিপোর্ট আমার দিকে…

আরো সংবাদ














জনপ্রিয় বিষয় সমূহ:

দুর্যোগ অধ্যাপক সায়েন্টিস্ট রিভিউ সাক্ষাৎকার মানসিক স্বাস্থ্য মেধাবী নিউরন বিএসএমএমইউ স্বাস্থ্যমন্ত্রী ঢামেক গবেষণা ফার্মাসিউটিক্যালস স্বাস্থ্য অধিদপ্তর