ডা. নাজমুল ইসলাম

ডা. নাজমুল ইসলাম

অনারারি মেডিকেল অফিসার

শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ, বগুড়া।


২৪ এপ্রিল, ২০১৮ ০১:০৯ পিএম
অধ্যাপক ডা. সায়েদুর রহমান

এন্টিবায়োটিক আর কাজ করবে না, মরতে হবে সামান্য ইনফেকশনেই

এন্টিবায়োটিক আর কাজ করবে না, মরতে হবে সামান্য ইনফেকশনেই

যখন আপনি কারো কাছে থেকে কিছু নিবেন, তখন আপনি তাদের কাছে দায়বদ্ধ হয়ে গেলেন। নেয়ার হাতের চেয়ে দেয়ার হাত ভাল। যে ওষুধ কোম্পানি থেকে আপনি কিছু নিলেন, সেই কোম্পানির ওষুধ লিখতে আপনি তাড়িত হবেন। স্যারের কাছে থেকে এ রকম অসংখ্য নীতির জ্ঞান পেয়েছি ক্ষুদ্র এই জীবনে। যখনই দেখা হয়েছে নীতির প্রশ্নে কোন আপোস চলবে না বলে স্যারের আদেশ ছিল। বর্তমান যুগে এ রকম নীতিবান শিক্ষক পাওয়া সত্যি দুষ্কর। স্যার যেমন স্নেহপরায়ণ, তেমন শাসনও করতে জানেন। ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে স্যারের জনপ্রিয়তা অসম্ভব রকমের। খুব সহজবোধ্যভাবে পড়া বোঝানোর অদ্ভুত ক্ষমতা স্যারের। চিকিৎসা বিজ্ঞানের মৌলিক বিষয় ফার্মাকোলজী। যা অনেকের কাছে বেশ কঠিন। কিন্তু স্যারের ক্লাসে এই সাবজেক্টটাই সবাই মন্ত্রমুগ্ধের মত শুনতো। কেউ কোনরূপ বিরক্ত হতেন না।

স্যারের সুন্দর সুন্দর শব্দ চয়ন, বাচনভঙ্গী আর বক্তৃতা করার এক অসাধরন দক্ষতা রয়েছে। কন্ঠস্বরও অসাধরন। যিনি একবার বক্তৃতা শুনেছেন তিনি ভক্ত হয়ে যাবেন। আমার ধারণায়, স্যার যদি গান করতেন তাহলে মাইকেল জ্যাকসনের কাছাকাছি পৌছতেন। আর যদি অভিনয় করতেন তাহলে ছবি বিশ্বাসকে ছাড়িয়ে যেতেন। বক্তৃতার ভিতরে স্যার এই দুই জিনিসের চমৎকার সমন্বয় করতে পারেন।

এত কথার বাইরে স্যারের মূল পরিচয় তিনি একজন শিক্ষক। বর্তমানে ফার্মাকোলজির অধ্যাপক হিসেবে আছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল ইউনিভার্সিটিতে। ১৯৯২ সালে স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজে লেকচারার পদে যোগদানের মধ্যে দিয়ে শিক্ষকতা শুরু। মাঝখানে শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হয়ে বিএসএমএমইউতে। ২০১২ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত বিএসএমএমইউর রেজিস্ট্রার ছিলেন। শিক্ষকতার বাইরে সরকারি বহু গুরুত্বপুর্ণ পদে ছিলেন। রয়েছে অসংখ্য গবেষণা। হ্যা, এতক্ষন আমাদের সবার প্রিয় সায়েদুর রহমান স্যারের কথা বলছিলাম।

সারা বিশ্বেই এন্টিবায়োটিকের যত্রতত্র ব্যবহার হচ্ছে। তৃতীয় বিশ্বের দেশে এই অবস্থা আরও ভয়াবহ। বিশেষ করে বাংলাদেশে মুড়ির মত এন্টিবায়োটিক ব্যবহার করা হয়। ফলশ্রুতিতে দেখা দিয়েছে এন্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স। যাকে চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা সন্ত্রাসবাদের মতোই বড় ঝুঁকি এবং ‘জীবন্ত টাইম বোমার’ সাথে তুলনা করেছেন। বাংলাদেশে এন্টিবায়োটিকের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে অধ্যাপক ডা. সায়েদুর রহমান নিরলস পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। বিভিন্ন সভা-সেমিনারে তিনি এন্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স নিয়ে বক্তৃতা করছেন। মানুষকে সচেতন করার জন্য নিরলস পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। সুযোগ পেলেই ছাত্রছাত্রীদের নিয়ে ক্যাম্পেইন করছেন।

ব্যাকটেরিয়াজাতীয় জীবাণু অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধী হয়ে ওঠা প্রসঙ্গে অধ্যাপক ডা. সায়েদুর রহমান বলেন, বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অ্যান্টিবায়োটিকের যথেচ্ছ ব্যবহার হচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে এমন দিন আসবে, যেদিন ইনফেকশনে আক্রান্ত রোগীদের পাশে শোকেস ভর্তি অ্যান্টিবায়োটিক থাকবে। কিন্তু কোনোটিই তাদের কাজে আসবে না। ওষুধের দিকে তাকিয়ে থেকেই মৃত্যুকে আলিঙ্গন করতে হবে।

 

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত