ঢাকা      মঙ্গলবার ২২, মে ২০১৮ - ৮, জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৫ - হিজরী



ডা. নাজমুল ইসলাম

মেডিকেল অফিসার

মেডিসিন বিভাগ, গণস্বাস্থ্য সমাজ ভিত্তিক মেডিকেল কলেজ


২৪ এপ্রিল-ভয়াল রানা প্লাজা ট্র্যাজেডি

চোখের সামনে মৃত্যুর মিছিল!

তখন এমবিবিএস ৩য় বর্ষে পড়ি সম্ভবত। ফার্মাকোলজি এক্সাম ছিল দুই-তিন দিন পর। হরতাল হওয়ায় সেদিন বাসাতেই ছিলাম। হঠাৎ করে দুপুরের পর সংবাদ এলো সকালের দিকে সাভারের রানা প্লাজা ধসে পড়েছে। স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে যেতে হবে। মেসে থেকে  মোশারফ সিকদার ও উত্তম কুমার সুশীলসহ আমি বেরিয়ে পড়লাম। বেরিয়ে রাস্তায় দেখি সাভারমুখী সকল গাড়ি চলাচল বন্ধ। যাওয়ার কোন উপায় নেই।

ভাগ্যক্রমে চ্যানেল-২৪ এর একটা গাড়ি পেলাম নবীনগর। গাড়ির ড্রাইভারকে অনুরোধ করলাম সাভার পৌছে দিতে। গায়ে জড়ানো সাদা অ্যাপ্রন দেখে সহজেই চিনতে পারলেন ড্রাইভার সাহেব। পৌছে দিলেন ঘটনাস্থলে। গিয়ে দেখলাম ভীষণ খারাপ পরিস্থিতি। শ্বাস প্রশ্বাস নেয়া ভীষণ কষ্টকর। রানা প্লাজার পাশের দালানে উঠে স্বচোক্ষে দেখলাম মানুষের পুরো দেহ ভালো আছে শুধু একটা পা বা হাত আটকে থাকায় বের হতে না পেরে মৃত্যকে বরণ করে নিয়েছে সজ্ঞানে। সে দৃশ্য বড় নির্মম, বড় হৃদয়বিদারক।

চারদিকে বেচে থাকার চরম আকুতি। উদ্ধারকারী দেখেই চিৎকার ‘আমাকে বাঁচান, আমাকে বাঁচান।’ 

- ১৪ ব্যাচের  ফারহানা ফেরদৌস তন্নী আপু এসে বললেন ‘নাজমুল এইপাশে একজনের পা কেটে বের করে আনতে হবে। তুই পারবি?’ 
- আমি বললাম জ্বি আপু পারবো। আপু আমাকে এক্স ব্লেড দিতে যাবেন তখন আমি বললাম আপু চেতনা নাশক দিয়ে তো কাটবো?
- আপু বললেন না, এমনি কাটবি। 
- এত হৃদয়হীন মানুষ হওয়া যায়? সাহসে পেড়ে উঠেনি তখন। সম্ভবত কাজটা তখন  আশরাফ সিদ্দিকী ভাই করছিলেন।

উদ্ধার কাজে উদ্ধারকারীরা আলো স্বল্পতা এবং পানির অভাবে উদ্ধারকাজ করতে অসুবিধা বোধ করছিলেন, সমস্যা হচ্ছিল। আমি আর শাওকিন হাসান সানজিদ উপস্থিত মানুষদের কাছে থেকে টাকা তোলা আরম্ভ করলাম। সাথে আমরাও কিছু টাকা দিলাম। দোকানে গিয়ে আমরা টর্চ লাইট, মোম এবং পানির বোতল কিনে উদ্ধারকারীদের দেই।

আমাদের সাথে দোকানে সেই মুহুর্তে এনাম মেডিকেল কলেজের এক বড় আপু ছিলেন। সেই আপুও কিছু টর্চ লাইট কিনে দেন। প্রচুর ভ্যাপসা গরম এবং বদ্ধ পরিবেশ হওয়ায় অক্সিজেনের অভাব ছিল। তাই উদ্ধারকারীরা দ্রুত হাপিয়ে যাচ্ছিলেন।

চারদিকে ছিল বেঁচে থাকার জন্য আকুল আবেদন, আর মানুষ গুলো তাদের অক্ষমতার দরুন ছিল শৃংখল শিকলে আবদ্ধ। তাই চোখের সামনে মৃত্যর মিছিলে একজন মানুষকে শামিল হতে দেখেও অনেকে কিছুই করতে পারে নাই। সেই তাড়না কারো কারো বিবেককে আজও তাড়িয়ে বেড়ায়। যে তাড়না বিবেক দংশনের তাড়না!

 

সংবাদটি শেয়ার করুন:

 


পাঠক কর্নার বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

তৃতীয়-চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারীর হাতে সরকারি হাসপাতাল জিম্মি

তৃতীয়-চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারীর হাতে সরকারি হাসপাতাল জিম্মি

এক রোগীকে আমরা ছুটি দিলাম। সে যাবে না, বেড নাকি সে কিনেছে…

কারো পোস্টিং লন্ডন, কারো প্যারিসে! 

কারো পোস্টিং লন্ডন, কারো প্যারিসে! 

সরকারি চাকরির এক বছর পূর্ণ হল আজ! আমার অনুভূতিগুলো মিশ্র। ভাল লাগা…

প্রথম কর্মস্থলে যোগদানের গল্প 

প্রথম কর্মস্থলে যোগদানের গল্প 

সময়টা ১৯৮৮ সালের ২ জুলাই।  পোস্টিং অর্ডার হাতে পেয়ে কর্মস্থলে যাওয়ার পথ…

ভূড়িওয়ালা ডাক্তারদের কি পছন্দ হয় না?

ভূড়িওয়ালা ডাক্তারদের কি পছন্দ হয় না?

ইদানিং আউটডোরে দেখছি মায়েরা কোলের বাচ্চাটাকে নিয়ে এসে বসতে না বসতেই, কিছু…

কী করলে মেডিকেল আঙিনা স্বাগত জানাবে তোমাকে?

কী করলে মেডিকেল আঙিনা স্বাগত জানাবে তোমাকে?

ডাক্তার হয়ে মানুষের সেবা করায় ব্রত ছাত্র-ছাত্রীর সংখ্যাটা দিনদিন বেড়েই চলছে। কেননা…

চিকিৎসকরা প্রতিটি মুহূর্ত চ্যালেঞ্জ নিয়ে চিকিৎসা করেন

চিকিৎসকরা প্রতিটি মুহূর্ত চ্যালেঞ্জ নিয়ে চিকিৎসা করেন

স্যার, আমার মা কি ভালো হবে? কোন রিস্ক নাই তো?  রোগী জ্বর…



জনপ্রিয় বিষয় সমূহ:

দুর্যোগ অধ্যাপক সায়েন্টিস্ট রিভিউ সাক্ষাৎকার মানসিক স্বাস্থ্য মেধাবী নিউরন বিএসএমএমইউ স্বাস্থ্যমন্ত্রী ঢামেক গবেষণা ফার্মাসিউটিক্যালস স্বাস্থ্য অধিদপ্তর