ঢাকা      বুধবার ২২, অগাস্ট ২০১৮ - ৬, ভাদ্র, ১৪২৫ - হিজরী



ডা. নাজমুল ইসলাম

মেডিকেল অফিসার

মেডিসিন বিভাগ, গণস্বাস্থ্য সমাজ ভিত্তিক মেডিকেল কলেজ


২৪ এপ্রিল-ভয়াল রানা প্লাজা ট্র্যাজেডি

চোখের সামনে মৃত্যুর মিছিল!

তখন এমবিবিএস ৩য় বর্ষে পড়ি সম্ভবত। ফার্মাকোলজি এক্সাম ছিল দুই-তিন দিন পর। হরতাল হওয়ায় সেদিন বাসাতেই ছিলাম। হঠাৎ করে দুপুরের পর সংবাদ এলো সকালের দিকে সাভারের রানা প্লাজা ধসে পড়েছে। স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে যেতে হবে। মেসে থেকে  মোশারফ সিকদার ও উত্তম কুমার সুশীলসহ আমি বেরিয়ে পড়লাম। বেরিয়ে রাস্তায় দেখি সাভারমুখী সকল গাড়ি চলাচল বন্ধ। যাওয়ার কোন উপায় নেই।

ভাগ্যক্রমে চ্যানেল-২৪ এর একটা গাড়ি পেলাম নবীনগর। গাড়ির ড্রাইভারকে অনুরোধ করলাম সাভার পৌছে দিতে। গায়ে জড়ানো সাদা অ্যাপ্রন দেখে সহজেই চিনতে পারলেন ড্রাইভার সাহেব। পৌছে দিলেন ঘটনাস্থলে। গিয়ে দেখলাম ভীষণ খারাপ পরিস্থিতি। শ্বাস প্রশ্বাস নেয়া ভীষণ কষ্টকর। রানা প্লাজার পাশের দালানে উঠে স্বচোক্ষে দেখলাম মানুষের পুরো দেহ ভালো আছে শুধু একটা পা বা হাত আটকে থাকায় বের হতে না পেরে মৃত্যকে বরণ করে নিয়েছে সজ্ঞানে। সে দৃশ্য বড় নির্মম, বড় হৃদয়বিদারক।

চারদিকে বেচে থাকার চরম আকুতি। উদ্ধারকারী দেখেই চিৎকার ‘আমাকে বাঁচান, আমাকে বাঁচান।’ 

- ১৪ ব্যাচের  ফারহানা ফেরদৌস তন্নী আপু এসে বললেন ‘নাজমুল এইপাশে একজনের পা কেটে বের করে আনতে হবে। তুই পারবি?’ 
- আমি বললাম জ্বি আপু পারবো। আপু আমাকে এক্স ব্লেড দিতে যাবেন তখন আমি বললাম আপু চেতনা নাশক দিয়ে তো কাটবো?
- আপু বললেন না, এমনি কাটবি। 
- এত হৃদয়হীন মানুষ হওয়া যায়? সাহসে পেড়ে উঠেনি তখন। সম্ভবত কাজটা তখন  আশরাফ সিদ্দিকী ভাই করছিলেন।

উদ্ধার কাজে উদ্ধারকারীরা আলো স্বল্পতা এবং পানির অভাবে উদ্ধারকাজ করতে অসুবিধা বোধ করছিলেন, সমস্যা হচ্ছিল। আমি আর শাওকিন হাসান সানজিদ উপস্থিত মানুষদের কাছে থেকে টাকা তোলা আরম্ভ করলাম। সাথে আমরাও কিছু টাকা দিলাম। দোকানে গিয়ে আমরা টর্চ লাইট, মোম এবং পানির বোতল কিনে উদ্ধারকারীদের দেই।

আমাদের সাথে দোকানে সেই মুহুর্তে এনাম মেডিকেল কলেজের এক বড় আপু ছিলেন। সেই আপুও কিছু টর্চ লাইট কিনে দেন। প্রচুর ভ্যাপসা গরম এবং বদ্ধ পরিবেশ হওয়ায় অক্সিজেনের অভাব ছিল। তাই উদ্ধারকারীরা দ্রুত হাপিয়ে যাচ্ছিলেন।

চারদিকে ছিল বেঁচে থাকার জন্য আকুল আবেদন, আর মানুষ গুলো তাদের অক্ষমতার দরুন ছিল শৃংখল শিকলে আবদ্ধ। তাই চোখের সামনে মৃত্যর মিছিলে একজন মানুষকে শামিল হতে দেখেও অনেকে কিছুই করতে পারে নাই। সেই তাড়না কারো কারো বিবেককে আজও তাড়িয়ে বেড়ায়। যে তাড়না বিবেক দংশনের তাড়না!

 

সংবাদটি শেয়ার করুন:

 


পাঠক কর্নার বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

ডাক্তারদের ছাত্রজীবন কোনকালেই শেষ হয় না!

ডাক্তারদের ছাত্রজীবন কোনকালেই শেষ হয় না!

গতিশীল এই পৃথিবী আমাদেরকে নিয়েই যেন গতিশীল। পৃথিবী যেমন তার কক্ষপথে এক…

সাফল্যের পরিমাপক

সাফল্যের পরিমাপক

সফলতা বলতে আসলে কী বুঝায়? ছোটবেলায় পড়তাম আর ভাবতাম, ক্লাশে প্রথম দশজনের…

এখন বেশিরভাগ ডাক্তার নিজের পিঠ বাঁচানোর চিন্তাই আগে করেন

এখন বেশিরভাগ ডাক্তার নিজের পিঠ বাঁচানোর চিন্তাই আগে করেন

সব মানুষের একটা পারসেপশন হল কমবয়সী/মধ্যবয়সী ডাক্তারদের মধ্যে যারা একটু লম্বা, স্বাস্থ্যবান,…

শেষ সময়ে হাসপাতালে গেলে ডাক্তারের কী করার থাকে?

শেষ সময়ে হাসপাতালে গেলে ডাক্তারের কী করার থাকে?

প্রেগন্যান্সির আগেও মেয়েটাকে ঠিকমত খাইতে দেন নাই। পুষ্টিকর খাবার তো বহু দূরের…

সন্তান ছেলে না মেয়ে দায় কার?

সন্তান ছেলে না মেয়ে দায় কার?

সালেহা। সাত মাসের পোয়াতি। ক্লান্ত বিষন্ন দুটো চোখ অনেক কিছু বলতে চায়,…

ঈদ ভ্রমণে স্বাস্থ্যঝুঁকি এড়াতে করণীয়

ঈদ ভ্রমণে স্বাস্থ্যঝুঁকি এড়াতে করণীয়

ঈদের সময়ে অনেকেরই দূর-দূরান্তে ভ্রমণে যেতে হয়। ভ্রমণকালে অনেকে বেশ কিছু স্বাস্থ্য…



জনপ্রিয় বিষয় সমূহ:

দুর্যোগ অধ্যাপক সায়েন্টিস্ট রিভিউ সাক্ষাৎকার মানসিক স্বাস্থ্য মেধাবী নিউরন বিএসএমএমইউ স্বাস্থ্যমন্ত্রী ঢামেক গবেষণা ফার্মাসিউটিক্যালস স্বাস্থ্য অধিদপ্তর