ঢাকা      বুধবার ২২, অগাস্ট ২০১৮ - ৬, ভাদ্র, ১৪২৫ - হিজরী



আয়েশা আলম প্রান্তী

শিক্ষার্থী, হলি ফ্যামিলি রেড ক্রিসেন্ট মেডিকেল কলেজ


হার্ট টু হার্ট ফর হিউম্যানিটি বাংলাদেশ

মানবতার টানে ও মানুষের সেবায়

জানুয়ারি, ২০১১। ঢাকা মেডিকেল কলেজের নতুন ব্যাচ। হসপিটালে রোগীদের উপচেপড়া ভীড়, একটা সিটের জন্য কষ্ট, রক্তের জন্য ছুটাছুটি, ঔষধ কিনতে গিয়ে টাকার অভাবে মানুষের ফিরে আসা মনে দাগ কাটে প্রবলভাবে। মানুষের জন্য কিছু করতে হবে। সেই ভাবনা থেকেই ২০১২ সালের ১৬ ডিসেম্বর যাত্রা শুরু ‘হার্ট টু হার্ট ফর হিউম্যানিটি বাংলাদেশ’এর। শুরু হয় মানবতার টানে দেশের এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তে। কিন্তু আমাদের ক্যাম্পের কার্যক্রম শুরু হয় ২০১১ থেকেই।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ থেকে শুরু দেশের প্রায় প্রতিটি সরকারী বেসরকারী মেডিকেল কলেজ ও ডেন্টাল কলেজের অসংখ্য চিকিৎসক ও মেডিকেল ছাত্র-ছাত্রী, এরা সবাই ‘হার্ট টু হার্ট ফর হিউম্যানিটি বাংলাদেশ’ এর সদস্য। যে যেমন হোক সবার ইচ্ছা একটাই। মানুষের দুর্দিনে সাধারণ মানুষের পাশে থাকা, তাদের সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেওয়া মানবতার এই সদস্যদের যাত্রা চলছে, চলবে।

মানবতার টানে ও মানুষের সেবায় এগিয়ে চলেছে ‘হার্ট টু হার্ট ফর হিউম্যানিটি বাংলাদেশ’ এর পথ চলা। নিয়মিত তারা করে চলেছে মেডিকেল ক্যাম্প। বাংলাদেশের দুর্গম এলাকার মানুষকে চিকিৎসা সেবা দেওয়া, প্রয়োজনীয় ঔষধ সরবরাহ করা, তাদের দুর্দিনে পাশে থাকা, মূলত এই সব ক্যাম্পের উদ্দেশ্য। এছাড়া বন্যা অথবা যে কোন জরুরি পরিস্থিতিতে অসহায় মানুষকে সাহায্য করার জন্য করা হয় ক্যাম্প। প্রতিটা ক্যাম্পে থাকে ইন্টার্নি চিকিৎসক, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, জরুরি প্রয়োজনীয় ঔষধপত্র, প্রাথমিক চিকিৎসা সরন্জাম, মানুষের জন্য প্রয়োজনীয় খাবার ও ত্রাণ সামগ্রী। মানুষের বিপদের দিনের সাথী হওয়ার মহান উদ্দেশ্যকে পুঁজি করে এ পর্যন্ত ‘হার্ট টু হার্ট ফর হিউম্যানিটি বাংলাদেশ’ অসংখ্য মেডিকেল ক্যাম্প করেছে বিভিন্ন জেলাতে। তারা এই ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পের নাম দিয়েছে ‘ফিল্ড ট্রেনিং ক্যাম্প।’

হার্ট টু হার্ট ফর হিউম্যানিটি বাংলাদেশের বর্তমান এক্সিকিউটিভ মেম্বার সংখ্যা প্রায় ৩০জন। আর সব মেডিকেল মিলে তাদের মেম্বার সংখ্যা ৫০০ এর মত। ডাক্তার সংখ্যা ২০০। প্রতিষ্ঠাতা ফাহাদ মুনতাসীরের নেতৃত্বে শুরু হওয়া এই সংগঠনে বর্তমানে ডাক্তার নুরুন নাহার রিগবী ও ডাক্তার কেয়া দাস যথাক্রমে প্রেসিডেন্ট ও সেক্রেটারি জেনারেল হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

হার্ট টু হার্ট ফর হিউম্যানিটি বাংলাদেশের লক্ষ্য

১. এক্সিস্টিং লোকবল ক্লিনিক্যালি এবং সাইকলজিক্যালি স্কিল্ড না হওয়া- এক্সিস্টিং ডাক্তারদের স্কিল সন্তোষজনক নয়, আর প্রচণ্ড স্বার্থপর এবং প্রতিযোগিতাপূর্ণ একটি পেশায় প্রতিটি ব্যক্তি প্রতি মুহূর্তে সাইকোলজিক্যাল ক্রাইসিসে ভোগে, কেউ বেশি আর কেউ কম। 
২. নতুন ডাক্তারদের উপযুক্ত প্রশিক্ষণের সুযোগের অপ্রতুলতা এবং অসামঞ্জস্যতা। 
৩. প্রসবকালীন মাতৃমৃত্যু হার কমানো।
৪. দূর্যোগ পরবর্তী মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা।
৫. নারীদের স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধি করা।

হার্ট টু হার্ট ফর হিউম্যানিটি বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করে মানবতার জন্য কাজ করার এক প্ল্যাটফর্ম তৈরি করেছে। অনেকেই যারা মানুষের জন্য কাজ করতে চায় তাদের জন্য এটা দারুণ এক প্ল্যাটফর্ম।শুধু তাই না, ডাক্তারদের বিভিন্ন ধরনের সাইকোলজিক্যাল ক্রাইসিসের জন্য দেশে সর্ব প্রথম আয়োজন করে ‘Coping Up With Medical Life’.

এটি একটি মনো-বৈজ্ঞানিক সেমিনার, যেখানে মেডিকেল লাইফের স্ট্রেস ম্যানেজম্যান্ট, লাইফস্টাইল ম্যানেজম্যান্ট, সাইকোলজিক্যাল এডাপ্টেশান এবং ক্যারিয়ার এডাপ্টেশনের ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা ডাক্তার ও মেডিকেল শিক্ষার্থীদের হাতে কলমে শিক্ষা দেন।

আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন ও দেশবরেণ্য সাইকিয়াট্রিস্ট এবং সাইকোলোজিস্টদের Lecture on latest developments in enriching individual's psychological resources, লেকচারের উপর ডিজাইন্ড prior ওয়ার্কশপ এবং রিফ্রেশিং কালচারাল সেগমেন্টের মাধ্যমে বিশ্ববিখ্যাত HARVARD UNIVERSITY-তে developed ‘peer instruction’ or ‘interactive problem solving based learning’ মেথডে বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো মেডিকেল এবং ডেন্টাল শিক্ষার্থীদের নিয়ে ACTIVE LEARNING এনভায়রনমেন্ট তৈরি করেছে ‘হার্ট টু হার্ট ফর হিউম্যানিটি বাংলাদেশ।’

এছাড়াও ডাক্তারদের জন্য ইন্টার্ণশীপ গাইড লাইন, ক্যারিয়ার গাইড লাইনের মত খুবই প্রয়োজনীয় কাজ করে যাচ্ছে। তারা স্বপ্ন দেখে ব্র্যাকের স্কুলগুলোর মত প্রতিটা জায়গায় এক একটা মানসিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করতে। যেন মানুষ তাদের যে কোন সাইকোলজিক্যাল ক্রাইসিসের দ্রুত কাউন্সিলিং পায়। আরও স্বপ্ন দেখে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরীর মত একটা করে ভ্রাম্যমাণ মেডিকেল টিম সব সময় প্রস্তুত রাখতে। যেন একই দিনে দেশের সব উপজেলায় একযোগে স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে পারে।

সকলের আন্তরিকতা ও সহযোগিতা পেলে অবশ্যই একদিন তা তারা পারবে ইনশা আল্লাহ।

আরও পড়ুন-

মেডিকেল ছাত্র থেকে রকস্টার

মনজুরের ব্লাডম্যান 

শিক্ষার আলো ছড়ানো ডাক্তার নাজমুল

সংবাদটি শেয়ার করুন:

 


সংগঠন বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

শোকের মাসে সন্ধানীর মাসব্যাপী কার্যক্রম

শোকের মাসে সন্ধানীর মাসব্যাপী কার্যক্রম

প্রতিবছরের ন্যায় এবারও শোকের মাস আগস্ট উপলক্ষ্যে মেডিকেল ও ডেন্টাল শিক্ষার্থীদের দ্বারা…

আরো সংবাদ














জনপ্রিয় বিষয় সমূহ:

দুর্যোগ অধ্যাপক সায়েন্টিস্ট রিভিউ সাক্ষাৎকার মানসিক স্বাস্থ্য মেধাবী নিউরন বিএসএমএমইউ স্বাস্থ্যমন্ত্রী ঢামেক গবেষণা ফার্মাসিউটিক্যালস স্বাস্থ্য অধিদপ্তর