ঢাকা      সোমবার ১৮, জুন ২০১৮ - ৪, আষাঢ়, ১৪২৫ - হিজরী



ডা. মুনাদি আল ইসলাম

প্রাক্তণ শিক্ষার্থী, ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল


বাংলাদেশের হাসপাতাল: যেন একেকটা মাছের বাজার!

ইংল্যান্ডের লেইস্টারশায়ারের কাউন্টি হাসপাতালের এডমিশন রুমে আমি আর আব্বু। এটা সেই ১৯৯৭ এর ঘটনা! Gastroenteritis এ আক্রান্ত হওয়ায় আমাকে সেখানে ভর্তি হতে বলে আমার জিপি। ডিউটি ডাক্তার আমার হিস্টরি নিয়ে ভর্তি করালো। এরপর যা হলো বাংলাদেশের লোকজন তা শুনলে আৎকে উঠবে! কিন্তু এটাই হওয়া উচিত।

রিসিপসনের কর্মকর্তা এসে জিজ্ঞেস করলো আব্বুকে, "ছেলের সাথে কে থাকবে?" আব্বু তার কথা জানিয়ে দিতেই, আব্বুর হাতে একটা ফরম ধরিয়ে দিল লোকটি। বলল যেকোন সময় মাত্র একজন এটেন্ডেন্ট থাকতে পারবে, তার বেশি নয়। এরপর মনে আছে প্রায় ৫-১০ মিনিট ধরে আব্বুকে পূরণ করতে হয়েছে সে ফরম। নাম থেকে শুরু করে কি করে না করে সব কিছুর বিস্তারিত। অগত্যা নিয়মের কারণে আম্মু আর থাকতে পারল না সেদিন! পরের দিন আম্মু আমাকে দেখতে আসলো। ঠিক একই অবস্থা, ফরম পূরণ করে তারপর দেখো ছেলে কে!

দ্বিতীয় ঘটনাটি থাইল্যান্ডের ব্যাংককের বামুরুংগ্রাদ হাসপাতালের। হাসপাতাল তো না যেন এক ফাইভ স্টার হোটেল। একজন কন্সালটেন্টের কাছে এপয়েন্টমেন্ট নিতে হবে। রিসিপশনের লোক প্রথমে রুগীর জন্য একটা ফরম দিল। এরপর কে কে এপয়েন্টমেন্টের দিন রুগির সাথে আসবে তারও একটা ফরম দিয়ে দিল। পূরণ করে দিতেই কিছুক্ষন অপেক্ষার পর রুগীর জন্য পেশেন্ট কার্ড এবং আমরা যারা এটেনড্যান্ট ছিলাম তাদের জন্যও দেয়া হলো একটা করে কার্ড। চিন্তা করুন শুধু কন্সালটেন্টকে দেখাবো তাতেও তার সাথে কারা আসবে তার তথ্য আর কার্ড করে দেয়া, হিসাব রাখা।

প্রথম যে ঘটনা বললাম সেটা ইংল্যান্ডের একটা সরকারি হাসপাতাল। সেখানেও দেখুন রুগীর সাথে কয়জন থাকতে পারবে তা শুধু নির্দিষ্ট করে দেওয়া না, একদম প্রবেশাধিকার পর্যন্ত সংরক্ষিত করে দলিল করে দেয়া। আর আমাদের হাসপাতাল- একজন রুগী তো সাথে ১০ জন লোক। যেন এক মাছের বাজার! এর মধ্যে অকাজের প্রায় সবগুলাই। এর মধ্যেই আবার কিছু উকি ঝুকি মারা স্বভাব খারাপ লোকও সুযোগ বুঝে ঢুকে পরে।

আসলে সব দেশই জানে "অতি সন্ন্যাসীতে গাঁজন নষ্ট"। তারা নিয়ম মানে তাই ডাক্তার সহ হাসপাতলের সবাই আরামে থাকে। আর আমরা মাছের বাজার বসাই বলে ডাক্তারের তো মাথা নষ্ট হয়ই, সাথে সাথে ক্ষণে ক্ষণে প্রায়ই দু চারটা কিলও পরে পিঠের উপরে, ফাটে মাথা!

সংবাদটি শেয়ার করুন:

 


পাঠক কর্নার বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আমি তাদের বেদনাটা টের পাই

আমি তাদের বেদনাটা টের পাই

কেউ যখন ডাক্তারি পড়তে যায় ধরে নেওয়া যায় পেশাটার প্রতি তার একটা…

ট্রান্সফিউশন মেডিসিনে নতুন দিগন্ত

ট্রান্সফিউশন মেডিসিনে নতুন দিগন্ত

ট্রান্সফিউশন মেডিসিনের ডায়াগনোসিস সেক্টরে একসময় যাদের পদচারণা ছিল তাদের মধ্যে আমাদের অনেক…

জীবন-মৃত্যু

জীবন-মৃত্যু

ঝুম বৃষ্টি। বৃষ্টিতে কাক ভেজা হয়ে রাস্তায় হাঁটছে ডা. তমাল। উৎসুক জনতা…

অ্যানেস্থেসিয়ায় মৃত্যুতে চিকিৎসকদের দোষ কেন?

অ্যানেস্থেসিয়ায় মৃত্যুতে চিকিৎসকদের দোষ কেন?

একজন সচেতন মানুষ মাত্রই এটা বুঝেন যে, অ্যানেস্থেসিয়া বা অজ্ঞান অবস্থাটা মৃত্যুর…



জনপ্রিয় বিষয় সমূহ:

দুর্যোগ অধ্যাপক সায়েন্টিস্ট রিভিউ সাক্ষাৎকার মানসিক স্বাস্থ্য মেধাবী নিউরন বিএসএমএমইউ স্বাস্থ্যমন্ত্রী ঢামেক গবেষণা ফার্মাসিউটিক্যালস স্বাস্থ্য অধিদপ্তর