ঢাকা      সোমবার ২২, অক্টোবর ২০১৮ - ৬, কার্তিক, ১৪২৫ - হিজরী



শুভ্র আসিফ

শিক্ষার্থী, শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ


মেডিকেলের সিলেবাস

স্টুডেন্টদের জন্য বরাদ্দকৃত নরকে ওভারফ্লো দেখে সৃষ্টিকর্তা বেশ শংকিত হয়ে পড়লেন ৷ তাই তিনি ভাবলেন একটা লিখিত পরীক্ষা নিয়ে উত্তীর্ণদের স্বর্গে পাঠানোর ব্যবস্থা করবেন ৷ যেই ভাবা সেই কাজ ৷ পরীক্ষার জন্য বিশাল সিলেবাসের এক কারিকুলাম তিনি প্রণয়ন করলেন ৷ সাধারণ স্টুডেন্টদের যেটা পড়তে সময় লাগে তিন মাস, সেখানে তিনি সময় দিলেন মাত্র তিন দিন ৷

এদিকে এই হঠাৎ পরীক্ষার খবরে স্টুডেন্ট নরকে বেশ হইচই পড়ে গেল ৷ যেহেতু নরক থেকে স্বর্গে ট্রান্সফার করার ব্যাপার স্যাপার , তাই সবাই খুব উঠে পড়ে লাগলো পরীক্ষার প্রিপারেশনের ব্যাপারে ৷ এর মধ্যে কিছু পুরান পাপী আবার খুঁজতে লাগলো দাদা নানার কোন কোটা আছে কি না , আবার কেউ বা খুঁজতে লাগলো প্রশ্ন ফাঁসের কোন লিংক পাওয়া যায় কি না ৷
কিন্তুু পুরো পরীক্ষার কন্ট্রোলার যেহেতু সৃষ্টিকর্তা নিজেই , তাই পরীক্ষায় কোন ফাঁক ফোকরের সুযোগ থাকলো না ৷

যথারীতি পরীক্ষার দিন উপস্থিত হলো ৷ দশটায় পরীক্ষা শুরু হবে ৷ এদিকে পরীক্ষার এক ঘণ্টা আগেও সবাই তুমুল গতিতে পড়ছে , কিন্তুু সিলেবাস তো আর শেষ হয় না ৷ রিভিশন তো দূরেই থাকলো ৷ কেউ গাছের ছালে বা চামড়ায় নকল তুলছে আর কেউ বা মাথায় হাত দিয়ে বসে আছে পড়া শেষ না করতে পারায় ৷ সবার মধ্যেই চরম উত্তেজনা বিরাজমান ৷

তবে এর মধ্যেও একটা গ্রুপকে দেখা গেলো একেবারে নিশ্চিন্ত ৷ তারা বেশ উৎফুল্ল ৷ কেউ হাসছে , একে অপরের সাথে কথা বলছে ৷ কেউ আরেকজনকে পড়া বুঝিয়ে দিচ্ছে ৷ কেউ আবার বিড়িতে সুখটান দিচ্ছে ৷

সেটা দেখে এক হতাশ স্টুডেন্ট সেই গ্রুপের একজনকে ধরে জিজ্ঞেস করলো ,

- কি ভাই ? আপনাদের কি মনে ভয় ডর নাই ? টেনশন নাই ? এতো বড় সিলেবাস ক্যামনে শেষ করলেন ?

উৎফুল্ল সেই ছাত্র উত্তরে বললো ,

- ভাইজান , পৃথিবীতে অবস্থানকালে আমরা মেডিকেল কলেজে পড়তাম ৷ এরকম সিলেবাসে পরীক্ষা দেয়ার অভ্যাস আমাদের অনেক আগে থেকেই আছে ৷

সংবাদটি শেয়ার করুন:

 


পাঠক কর্নার বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

ঢাকা ইউনিভার্সিটিতে চান্স না পেলে এখন মেডিকেলে পড়ে!

ঢাকা ইউনিভার্সিটিতে চান্স না পেলে এখন মেডিকেলে পড়ে!

মেইড ইন চায়না এখন শুধু জিনিসপত্রেই সীমাবদ্ধ নেই। শুরু হয়েছে হিউম্যান রিসোর্স…

মুলারিয়ান এজেনেসিস: প্রকৃতির অবিবেচক খেয়াল ও প্রমিতির কান্না

মুলারিয়ান এজেনেসিস: প্রকৃতির অবিবেচক খেয়াল ও প্রমিতির কান্না

প্রমিতি, বয়স- ১৬। এইচএসসি ১ম বর্ষে পড়ে। প্রাণবন্ত, উচ্ছ্বল প্রজাপতির মতো। যখন কথা…

সব মৃত্যুই দুঃখের, সুখের কোন মৃত্যু নেই!

সব মৃত্যুই দুঃখের, সুখের কোন মৃত্যু নেই!

তখন আমি সিওমেক হাসপাতালের ইন্টার্ন। মেডিসিন ওয়ার্ডে রাউন্ড দিচ্ছেন প্রফেসর ইসমাইল পাটোয়ারি…

ইন্টার্ন ডাক্তারদের আবার কষ্ট আছে নাকি?

ইন্টার্ন ডাক্তারদের আবার কষ্ট আছে নাকি?

আপনার বেতন কত? ছোটবেলায় শুনেছিলাম এ প্রশ্ন করা নাকি বেয়াদবি! সেই ভয়ে…

‘কেটা ফের জানতোক যে, পিঁপিয়া খাল্যে ছ্যালা ধলো হয়?’

‘কেটা ফের জানতোক যে, পিঁপিয়া খাল্যে ছ্যালা ধলো হয়?’

এক সদ্য গর্ভবতী রোগীকে কাঁচা পেঁপে খেতে নিষেধ করলাম। - আনারস আর কাঁচা…

ইন্টার্ন চিকিৎসকদের উদ্দেশ্যে কিছু কথা

ইন্টার্ন চিকিৎসকদের উদ্দেশ্যে কিছু কথা

ফাঁকিবাজির মহান ব্রত নিয়ে ইন্টার্নি শুরু করেছিলাম। আমি জন্মগত ভাবেই ফাঁকিবাজ। সবাই…



জনপ্রিয় বিষয় সমূহ:

দুর্যোগ অধ্যাপক সায়েন্টিস্ট রিভিউ সাক্ষাৎকার মানসিক স্বাস্থ্য মেধাবী নিউরন বিএসএমএমইউ স্বাস্থ্যমন্ত্রী ঢামেক গবেষণা ফার্মাসিউটিক্যালস স্বাস্থ্য অধিদপ্তর