ঢাকা      মঙ্গলবার ২২, মে ২০১৮ - ৮, জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৫ - হিজরী



ডা. মিথিলা ফেরদৌস

বিসিএস স্বাস্থ্য

সাবেক শিক্ষার্থী, রংপুর মেডিকেল কলেজ। 


কেন এই পরকীয়া?

পরকীয়া শব্দটা দেখেই আমার রুচিবোধ নিয়ে অনেকেই সন্দিহান হলেও লেখাটা ঠিকই পড়বেন।  আর আগ্রহ নিয়েই পড়বেন। তারপরও জানি নাক সিটকানোর ভাব নেবেন। তাই লিখবো লিখবো না করেও লিখে ফেললাম। ব্যাপারটা এখন গুরুতর সামাজিক ব্যাধিতে রূপ নিয়েছে।

আমি সম্প্রতি অনেকগুলো এমন কাহিনী শুনেছি, সবগুলো নারীদের মুখ থেকে শোনা। তাই আমার লেখাটা পুরুষের বিপক্ষে গেলেও আমি ব্যক্তিগতভাবে বলতে চাই, এই ব্যাপারে নারী পুরুষ সমানভাবে দায়ী। কারণ ছেলেরা কোন না কোন মেয়ের সঙ্গেই তো ইনভলবড হয়। সাধারণত মাঝবয়সীরা এই ব্যাধিতে আক্রান্ত।

অফিসের কলিগ, রিসেপশনিস্ট, গৃহবধূ, বিধবা আর ডিভোর্সিদের ব্যপারে টার্গেট থাকে। অবিবাহিত মেয়েরা বিচিত্র কারনে নাকি এই ঝামেলা মুক্ত। এছাড়া মাধ্যম হলো ফেসবুক, ভাইবার, ইমো, ভারতীয় টিভি সিরিয়াল, স্বামী-স্ত্রীর দুই জায়গা চাকরী সংক্রান্ত কারনে দূরে থাকার কারণেও এসব হয়ে থাকে। পরকীয়ায় আসক্তরা তার পরিবারের সাথে দুই ধরনের আচরণ করে বলে শোনা যায়।

১.ভায়োলেন্ট পরকীয়া 

এরা তার পরিবারের স্ত্রী-সন্তানের সঙ্গে অমানবিক আচরণ করে। স্ত্রীর কিছুই ভালো লাগে না। স্ত্রী আন স্মার্ট, আনকালচার্ড মনে হয়। সন্তানদের কথায় কথায় মারপিট করে। মোট কথা এরা সম্পর্কটাকে আর কনটিনিউ করতে চায় না। কিন্তু বিচ্ছেদও ঘটাতে পারে না। কারণ তার অপরপক্ষ হয়তো জামাই বাচ্চা ছেড়ে আসতে পারে না (বিবাহিতাদের ক্ষেত্রে)। এরা আবার তার অবৈধ পার্টনারের জন্যে ডেডিকেটেড।

২.ব্যালান্সড পরকীয়া

এই শ্রেণির মানুষ দুই দিকেই সমতা রক্ষা রেখে চলে। এরা মূলত টাইম পাস বা বিনোদনের জন্যে এমনটা করে থাকে। এরা আবার তার পরিবারের ব্যাপারে ডেডিকেটেড। এদের প্রোফাইলে পিকচারে থাকে স্ত্রীর সাথে রোমান্টিক ছবি। স্ট্যাটাস এ প্রায় সময় লেখা থাকে my beloved one,my better half।

এই প্রোফাইল পিকচার নিয়েই তারা তার অবৈধ পার্টনারের সাথে চ্যাটিং করে miss u,sweet heart,janu। তবে এরা বউ বাচ্চার সঙ্গে খুব সুইট সুইট ব্যাবহার করে। এরা পারিবারিকভাবে খুব সুখী। এই ঘটনাগুলো যে পরিবারের সঙ্গে ঘটুক,যেমনভাবেই ঘটুক, খুব দুঃখজনক। আমার মনে হয় প্রত্যেকের তার পরিবারের প্রতি সৎ থাকা উচিত, নারী হোক বা পুরুষ হোক।

আসলে আমার খুব কাছের কিছু মানুষের কাছে কিছু কথা শুনার পর এ নিয়ে খুব লিখতে ইচ্ছা করছিলো। শুধু লেখালেখি দিয়ে এই সমস্যার সমাধান অসম্ভব। দরকার মানুষের বিবেক জাগ্রত করার। মনে রাখতে হবে, যারা এই ভয়াবহ নেশায় আসক্ত তারা পরিবার, সমাজ এবং নিজের সাথেই প্রতারণা করে চলছে প্রতিনিয়ত।

সংবাদটি শেয়ার করুন:

 


সম্পাদকীয় বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

ফিলিস্তিনি তরুণ চিকিৎসক হাইসামের গল্প

ফিলিস্তিনি তরুণ চিকিৎসক হাইসামের গল্প

হাইসাম আবু সুলতান। ফিলিস্তিনের এক বোকাসোকা টাইপ আবেগী ছেলে। নিজের দেশ ছেড়ে…

মুমূর্ষু রোগীর পাশে এ কেমন অসভ্যতা?

মুমূর্ষু রোগীর পাশে এ কেমন অসভ্যতা?

সকাল সকাল হাসপাতালে ঢুকে ইমার্জেন্সি ডিউটির দায়িত্ব হাতে নিয়েই বিপদে পড়লাম। ইমার্জেন্সি…

ঘুষ, দুর্নীতির চেয়েও মাদক মারাত্মক!

ঘুষ, দুর্নীতির চেয়েও মাদক মারাত্মক!

মধ্যরাতে পুলিশ এক যুবককে ধরে নিয়ে এলো হাসপাতালে। দা দিয়ে নিজেই তার…



জনপ্রিয় বিষয় সমূহ:

দুর্যোগ অধ্যাপক সায়েন্টিস্ট রিভিউ সাক্ষাৎকার মানসিক স্বাস্থ্য মেধাবী নিউরন বিএসএমএমইউ স্বাস্থ্যমন্ত্রী ঢামেক গবেষণা ফার্মাসিউটিক্যালস স্বাস্থ্য অধিদপ্তর