ডা. জয়নাল আবেদিন টিটু

ডা. জয়নাল আবেদিন টিটু

সদস্য, বাংলাদেশ মেডিকেল এসোসিয়েশন,
সদস্য, বিসিএস (হেলথ) অফিসার'স এসোসিয়েশন।


১৯ এপ্রিল, ২০১৮ ১০:০৫ পিএম

দয়া করে আপনার সন্তানের জীবন বাঁচান

দয়া করে আপনার সন্তানের জীবন বাঁচান

আজকের কথা।

১৬ বছর বয়সের এক কিশোর। ঠোঁটের উপর গোঁফ উঁকি দিচ্ছে মাত্র। প্রচণ্ড বুক-ব্যাথা নিয়ে ঢাকার একটি হাসপাতালে উপস্থিত হয়। ডাক্তার সাহেব তার অবস্থা দেখে তৎক্ষণাৎ হাসপাতালে ভর্তি করে দেন। সন্দেহের তীর হৃদরোগের দিকে। ইসিজি করে দেখা গেল, ল্যাটারেল লিডগুলোতে এস-টি ইলিভেটেড হয়ে আছে। মাত্র ষোল বছরের কিশোরের এই অবস্থা! রক্তের কার্ডিয়াক ট্রোপোনিন আই এবং ক্রিয়েটিন কাইনেজ (মায়োকার্ডিয়াল ব্যান্ড) পরীক্ষা করে দেখা গেল, দুটোরই পরিমাণ স্বাভাবিক মাত্রার চেয়ে অনেক বেশী। অর্থাৎ ছেলেটির হার্ট এটাক হয়েছে।

মাত্র ষোল বছরের কিশোর হৃদরোগে আক্রান্ত! কী মারাত্মক!

ষোল বছরের এই ছেলেটি আপনার হতে পারত, আমার হতে পারত। এই ছেলেটি বড় হয়ে ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার বা প্ল্যানার হতে পারে। হতে পারে দেশের জন্য জীবন উৎসর্গ করা কেউ।

হৃদরোগের এই মারাত্মক প্রাদুর্ভাব আজ মহামারীর মত দেখা যাচ্ছে। অল্প বয়সের মানুষও এ রোগে আক্রান্ত হয়ে প্রাণ হারাচ্ছে। গত তিন সপ্তাহের মধ্যে আমার খুবই অন্তরঙ্গ দু'জন স্বাস্থ্য প্রশাসক ডা মাহবুবুর রহমান এবং ডা দেবাশীষ দেবনাথ হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে অল্প সময়ের মধ্যে মারা গেছেন।

আপনার সন্তান শুধু আপনার নয়। এরা দেশের সম্পদ। আপনি আপনার সন্তানের জীবন বাঁচান।

সামান্য কয়েকটি টিপস দেই। নিজের মঙ্গলের জন্য এগুলো মেনে চলুন।

১) আপনার ছেলেকে তাঁর শৈশবকাল থেকেই ধূমপান না-করার শিক্ষা দিন, এবং ধূমপান বিরোধী মনোভাব গড়ে দিন।

২) আপনার সন্তানকে দীর্ঘক্ষণ শুয়ে বা বসে থাকতে দিবেন না। এদের হাঁটতে বা খেলতে পাঠান। কোন কাজ না পেলে বাজার করতে পাঠান। লক্ষ্য রাখবেন, সে সন্তান যেন গাড়ীতে বা রিকসায় না-চড়ে। অলস বসে থাকলে, দীর্ঘক্ষণ টিভি দেখলে, গেমস/খেলা দেখলে রক্তের ঘনত্ব বেড়ে যায়। একে আমরা রক্তের বলি। এতে হৃদরোগ ত্বরান্বিত হয়।

৩) চিনি (মিষ্টি)-চর্বি-লবণ যেখানে আছে সে ধরণের খাবারগুলো পরিহার করতে বলুন। বাজারের কেক, পেস্ট্রি, আইসক্রিম, আলুর চিপস খেতে দিবেন না।

৪) প্রতিদিন কমপক্ষে আধঘণ্টা জোরসে হাঁটতে বা দৌড়াতে দিন - যেন শরীরে ঘাম ছুটে।

(দৌড়াতে না চাইলে পেছনে কুকুর লেলিয়ে দিন; সে কথা বলছি না)

৫) প্রতিদিন তিন বেলা শাক সব্জি খাওয়ান।

৬) আপনার সন্তানকে প্রতিযোগিতা থেকে দূরে রাখুন। প্রতিযোগিতা উদ্বেগ এবং দুশ্চিন্তা বাড়ায়। মনের শান্তি নষ্ট করে।

৭) তাঁকে দুশ্চিন্তা এবং উদ্বিগ্ন মুক্ত থাকার শিক্ষা দিন। কারণ, দুশ্চিন্তা এবং উদ্বিগ্নতা রক্তের কোর্টিসল-এর মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। বাড়তি কোর্টিসল হৃদরোগকে ত্বরান্বিত করে।

৮) আপনার সন্তানের ওজন নিয়ন্ত্রণ করুন। শরীরের বাড়তি ওজন হাই ব্লাড প্রেসার, ডায়াবেটিস, হাঁটুতে এবং কোমরে স্থায়ী ব্যাথা এবং Gastro-Esophageal Reflux Disorder রোগকে ডেকে আনে।

৯) আপনার সন্তানকে তাড়াতাড়ি ঘুমানোর এবং সূর্য উঠার আগে ঘুম থেকে জেগে উঠার শিক্ষা দিন। যারা রাতে দেরী করে ঘুমায়, রাত জাগে এবং বিলম্বে ঘুম উঠে, তাদের হাই ব্লাড প্রেসার, ডায়াবেটিস এবং হৃদরোগ হওয়ার সম্ভাবনা বেশী থাকে।

১০) আপনার সন্তানকে অল্পে তুষ্টি শিক্ষা দিন। যে অল্পে তুষ্ট হয় না, সে বেশী পেলেও তুষ্ট হয় না। যে হৃদয় তুষ্ট হয় না, সে হৃদয় শান্তি পায় না। যে হৃদয় শান্তি পায় না, সে হৃদয় অল্পতেই ভেঙ্গে পড়ে।

অসুখে আক্রান্ত হয়ে লক্ষ লক্ষ টাকা ব্যয় করে চিকিৎসা করানোর চেয়ে রোগ প্রতিরোধ করাই উত্তম এবং সহজতর।

সিন্ডিকেট মিটিংয়ে প্রস্তাব গৃহীত

ভাতা পাবেন ডিপ্লোমা-এমফিল কোর্সের চিকিৎসকরা

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা উপেক্ষা

অতিরিক্ত বেতন নিচ্ছে একাধিক বেসরকারি মেডিকেল

প্রস্তুতির নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

অক্টোবর-নভেম্বরে ২য় ধাপে করোনা সংক্রমণের শঙ্কা

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
বেশিদিন ওমিপ্রাজল খেলে হাড় ক্ষয়ের ঝুঁকি বাড়ে 
কিডনি পাথরের ঝুঁকি বাড়ায় নিয়মিত অ্যান্টাসিড সেবন 

বেশিদিন ওমিপ্রাজল খেলে হাড় ক্ষয়ের ঝুঁকি বাড়ে