ঢাকা শুক্রবার, ১৮ অক্টোবর ২০১৯, ২ কার্তিক ১৪২৬,    আপডেট ৫৯ মিনিট আগে
ডা. ফাহিম উদ্দিন

ডা. ফাহিম উদ্দিন

ইন্টার্ন চিকিৎসক

খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল।


১৮ এপ্রিল, ২০১৮ ১৩:৩০

বড় স্যাররা আসলে সবদিক দিয়েই বড়!

বড় স্যাররা আসলে সবদিক দিয়েই বড়!

ফার্স্ট ইয়ারে এনাটমীর প্রফেসর ডা. ওয়ালী স্যার ক্লাসে পুরোনো একটা কথা স্মরণ করিয়ে দিয়েছিলন, যেটা আমরা অনেকেই জানি।

জ্ঞানের তিনটি স্তর

প্রথম স্তরে প্রবেশ করলে মানুষকে অহংকারী হয়ে ওঠে।
দ্বিতীয় স্তরে প্রবেশ করলে মানুষ বিনয়ী হয়।
আর তৃতীয় স্তরে প্রবেশ করলে মানুষ বুঝতে পারে যে সে অনেক কিছুই জানে না।

শ্রদ্ধেয় ডা. ওয়ালী স্যারও ঠিক এরকম একজন মানুষ ছিলেন। কোনো কিছু না পারলে, কোনো প্রশ্ন করলে খুব সুন্দর করে বুঝিয়ে দিতেন। আমি কৌতুহলী হয়ে অনেক প্রশ্ন করতাম। যেখানে লেকচারার স্যারদের রুমে প্রবেশ করতে ভয় লাগতো, সেখানে প্রফেসর স্যারের রুমে খুব সহজেই প্রবেশ করতাম। কারণ স্যার অনেক বিনয়ী একজন মানুষ। এত জ্ঞান থাকা সত্ত্বেও কখনো বিন্দুমাত্র অহংকারী, সবজান্তা মনোভাব দেখিনি। উল্টো আমাদেরকে বলতেন, আমারতো ফিজিওলজি/বায়োকেমিস্ট্রি অত মনে নেই। আমি তোমাদের কাছ থেকে সেগুলো শিখব, তোমরা আমাকে শিখাবা। কতটা বিনয়ী হলে একজন প্রফেসর এভাবে বলতে পারেন! 

কথাগুলো বলার কারণ, বিএসএমএমইউ এন্ডোক্রাইনোলজি ডিপার্টমেন্টের সামনে এসে সক্রেটিসের এই বিখ্যাত উক্তিটি চোখে পড়ল- ‘The only true wisdom is in knowing you know nothing’.

একটা কাগজে কম্পোজ করে দেয়ালে টানানো আছে। শুধু উক্তিটা থাকলে অতটা অবাক হতাম না। এমন উক্তিতো অনেক জায়গাতেই থাকে কিন্তু অবাক হলাম। কারণ উক্তি সম্বলিত ঐ কাগজটি এন্ডোক্রাইনোলজি ডিপার্টমেন্টের চেয়ারম্যান প্রফেসর ডা. এম এ হাসনাত স্যারের রুমের সামনে টানানো এবং সেই কাগজে স্যারের সিগনেচার এবং অফিসিয়াল সীল দেয়া। সুতরাং আর কিছু বোঝার বাকি রইল না।

গতকালকেই লিফটে স্যারকে দেখেছিলাম। তখন উনার কথা শুনেই একটু ভাল লেগেছিল। তখন চিনতাম না, যদিও বুঝেছিলাম বড় কোনো স্যার। বড় বড় স্যাররা আসলে সবদিক দিয়েই বড়।

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত