১৭ এপ্রিল, ২০১৮ ০৭:২২ পিএম

নারীরা কেন ধর্ষণের বিরুদ্ধে সোচ্চার হচ্ছেন না?

নারীরা কেন ধর্ষণের বিরুদ্ধে সোচ্চার হচ্ছেন না?

এক. ধর্ষণ আমাদের দেশে দিনকে দিন বেড়েই চলেছে। মেয়েরা আজকাল কোথাও নিরাপদ না। বাসায় নিরাপদ না। স্কুলে, কলেজে,ভার্সিটিতে, মক্তব, মাদ্রাসায়ও নিরাপদ না। মসজিদে, মন্দিরেও নিরাপদ না। রাস্তায় নিরাপদ না,অটো-সিএনজি,বাসে নিরাপদ না। নিজ আত্মীয় স্বজনের কাছে নিরাপদ না। এমনকি পিতার কাছেও নিরাপদ নয়। দূর সম্পর্কের আত্মীয়দের কাছে নিরাপদ থাকার আশাতো বাতুলতা মাত্র।

দুই. আজকাল মেয়েদের নিরাপত্তা শূন্যের কোটায় নেমে এসেছে। যেকোন সময়, যেকোন স্থানে, যে কেউ মেয়েদের নিরাপত্তাহীনতার কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

বাসের মত জনবহুল পরিবহনে ধর্ষণের শিকার হচ্ছে নারীরা। গণধর্ষণের শিকার হচ্ছে মেয়েরা।

এমনকি মা সাথে থাকার পরওে বিভিন্ন যৌন হয়রানির শিকার হচ্ছে মেয়েরা!

তিন. টাঙ্গাইলে বাসে কলেজছাত্রী রূপা গণধর্ষণ ও হত্যা আমাদের জানান দিয়েছে ধর্ষকরা কতটা পাষান। কিছুদিন আগেও বাসে একটি মেয়েকে গণধর্ষণ করা হয়েছে, ধর্ষকদের গ্রেফতার করা হয়েছে, তার আগেও বাসে পোশাক শ্রমিক এক নারীকে ধর্ষণ করা হয়েছে। এক ছাত্রীকে বাসের হেলপার বাসে আটকে রাখার চেষ্টা করেছে যদিও মেয়েটির মা তার সাথে ছিল। মেয়ের মা বাস থেকে আগে নেমে গিয়েছিল, মেয়েটি পরে নামতে গেলে হেলপার তাকে বাসে আটকে রাখার চেষ্টা করে। মেয়েটি তার হাতে থাকা টিফিন বক্স দিয়ে হেলপারের মাথায় আঘাত করে কোনরকমে বাস থেকে নেমে যেতে পারায় আজ ধর্ষণের হাত থেকে রক্ষা পেয়েছে।

চার. আজ মেয়েরা কেন এত নিরাপত্তাহীন? মেয়েদের নিরাপত্তা দেয়া কি রাষ্ট্রের দায়িত্ব নয়?

এখনও পুলিশ কেন অভিযুক্ত সেই বাস ড্রাইভার, হেলপারকে গ্রেফতার করছে না? এসব অপরাধীদের খুঁটির জোর কোথায়?

তবে আমার মতে, শুধু গ্রেফতার করেই মেয়েদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যাবে না। দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না দেয়ার কারণে সমাজে এমন অনাচার বাড়তেই থাকবে। বিশেষ করে ধর্ষকরা আইনের নানা ফাঁকফোকরে সহজেই জামিন পেয়ে যাচ্ছে। আর অধিকাংশ সময়ই ধর্ষণের যথাযথ বিচার না হওয়ায় দেশে ধর্ষণ বাড়িয়ে দিচ্ছে। এজন্য ধর্ষণের বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে।

পাঁচ. ভারতে আসিফা ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ড নিয়ে ওই দেশজুড়ে তোলপাড় হচ্ছে। রাজনীতিবিদ, চলচ্চিত্র জগতের জনপ্রিয় তারকা ও জাতীয় দলের খেলোয়াড় থেকে শুরু করে আমজনতা সবাই এই আন্দোলনে শামিল হয়েছে। এর আগে বাসে নির্ভয়া গণধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের বিচারের দাবিতেও সারা ভারতজুড়ে তীব্র আন্দোলন হয়েছিল। অথচ বিপরীত দিক দিয়ে আজ পর্যন্ত আমাদের দেশে একটি ধর্ষণের বিচার চেয়েও কোন সামাজিক আন্দোলন গড়ে উঠেনি।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও কেউ হ্যাশ-ট্যাগ দিয়ে বিচার চাই এই দাবি নিয়ে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলেনি। তনুর ক্ষেত্রে যা-ও হয়েছিল তার ধারাবাহিকতা না থাকায় সেটি থমকে গেছে।

ছয়. সবচেয়ে অবাক করা বিষয় হলো আমাদের দেশের নারীরাও ধর্ষণের বিরুদ্ধে তেমন সোচ্চার হচ্ছেন না। নারীবাদীরাও কোন ধর্ষণের বিচার চেয়ে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলেননি। আর নারীবাদীরা নারী অধিকার নিয়ে ব্যস্ত, সম-অধিকারের দাবি নিয়ে যতটা ব্যস্ত,কিন্তু নিজেদের নিরাপত্তা দাবি জানাতে তারা ততটা সোচ্চার নন।

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত