ঢাকা      বুধবার ১৮, জুলাই ২০১৮ - ৩, শ্রাবণ, ১৪২৫ - হিজরী

এক কার্ডে ৫০ রোগের বিনামূল্যে চিকিৎসা!

মেডিভয়ে ডেস্ক: দেশের প্রত্যেক মানুষকে স্বাস্থ্যবীমার আওতায় আনার পরিকল্পনা করেছে সরকার। এরই অংশ হিসেবে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য সুরক্ষা কর্মসূচির আওতায় একটি পাইলট প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে।

টাঙ্গাইলে শুরু হয়েছে ৫ বছর মেয়াদি স্বাস্থ্যবীমার প্রকল্প। এ প্রকল্প সফল হলে সারাদেশে এটি পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা হবে।

টাঙ্গাইলের কালিহাতি, মধুপুর ও ঘাটাইলে অতি দরিদ্রদের জন্য বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা দিতে ‘শেখ হাসিনা হেলথ কার্ড’ বিতরণ করা হয়েছে। এই কার্ডের মাধ্যমে ৫০টি রোগের বিনা মূল্যে চিকিৎসা দেয়া হবে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদ বলেন,‘আমরা টাঙ্গাইলে স্বাস্থ্যবীমা প্রকল্প শুরু করেছি। তিনটি উপজেলায় এখন বাস্তবায়িত হচ্ছে। সেখানে প্রকল্পের সাফল্য পেলে আমরা সারাদেশে এই কার্যক্রম চালু করবো।’

টাঙ্গাইলের সিভিল সার্জন শরীফ হোসেন খান বলেন, ‘প্রথম স্তরে টাঙ্গাইলের কালিহাতিতে তিন বছর আগে এই প্রকল্পের কাজ শুরু হয়। এরপর গত ছয় মাস আগে মধুপুর ও ঘাটাইলে এই প্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছে।  এই তিন উপজেলার অতি দরিদ্র নাগরিকদের প্রায় ৫০ হাজার টাকা করে স্বাস্থ্যবীমা করে দেওয়া হয়েছে। বীমা গ্রহণকারী পরিবার থেকে কোনও অর্থ দিতে হয়নি।’

তিনি বলেন, ‘এই বীমার আওতায় মোট ৫০টি রোগের সেবা পাবে ওইসব পরিবার। এসব পরিবারের কেউ হাসপাতালে ভর্তি হলে তার সব ধরণের চিকিৎসা খরচ বীমার আওতায় দেওয়া হয়। রোগ নির্ণয়ের জন্য যদি কোন পরীক্ষা-নিরীক্ষা লাগে তবে তা উপজেলা হেলথ কমপ্লেক্স-এ না থাকলে তাকে জেলা সদর হাসপাতালে পাঠিয়ে তার সেই পরীক্ষাগুলো করে দেওয়া হয় কালিহাতিতে ৩০ হাজার, ঘাটাইলে ১৮ হাজার ও মধুপুরে ১৬ হাজার অতি দরিদ্র পরিবারকে এই স্বাস্থ্য কার্ড করে দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় উপজেলা চেয়ারম্যান বা নির্বাহী কর্মকর্তা বা স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এসব দরিদ্র মানুষের তালিকা তৈরি করে তাদের কার্ড করে দিতে সাহায্য করেন।’

শরীফ হোসেন বলেন, ‘উপজেলা হেলথ কমপ্লেক্সে তো সব ওষুধ থাকে না। কোনও কোনও উপজেলায় ৬০০ থেকে ৭০০ রোগী থাকে। এসব রোগীকে আমরা দুই-তিন দিনের বেশি ওষুধ দিতে পারি না। এমনকি অ্যান্টিবায়োটিকও দুই-তিন দিনের বেশি দিতে পারি না। আমরা রোগীর চাহিদা অনুযায়ী ইনজেকটেবল অ্যান্টিবায়োটিক দিতে পারি না। আমাদের অনেক গর্ভবতী নারীর আলট্রাসনোগ্রাম করা লাগে, কিন্তু এখানে আলট্রাসনোগ্রাম মেশিন না থাকায় তা বাইরে থেকে করতে হয়। কোনও ডেলিভারি রোগী আসলে তার সিজার করাতে হবে। তার সিজারের সব ওষুধ ওই বীমার আওতায় কিনে দেওয়া হয়।’

হেলথ রাইটস মুভমেন্টের প্রেসিডেন্ট ডা. রশীদ-ই-মাহবুব বলেন,‘বাংলাদেশে সেভাবে স্বাস্থ্যবীমা চালু নেই। উন্নত বিশ্বে সব চিকিৎসার জন্য বীমা আছে। কোনও বীমা স্থানীয় সরকারের আওতায়, কোনও বীমা কোনও ইন্সটিটিউটের আওতায় চলমান।’

তিনি বলেন, ‘কোনও দেশকে স্বাস্থ্যবীমা করাতে গেলে একটা ন্যূনতম মাথাপিছু আয় ৬ হাজার ডলার থাকতে হয়। কিন্তু আমাদের দেশের অবস্থা তো তেমন নয়। তাই এখানে সেভাবে স্বাস্থ্যবীমা চালু হয়নি। বেসরকারি পর্যায়ে কিছু কর্পোরেট অফিসে কিছু গ্রুপ বীমা রয়েছে। ব্যক্তিগত পর্যায়ে এই দেশে স্বাস্থ্যবীমা নেই বললেই চলে। আর সরকারিভাবে টাঙ্গাইলে যেটা চালু হয়েছে তা পরীক্ষামূলকভাবে চলছে।

কনটেন্ট ক্রেডিট : বাংলাট্রিবিউন

সংবাদটি শেয়ার করুন:

 


জাতীয় বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

মেডিকেল শিক্ষার্থী রাফা আর নেই

মেডিকেল শিক্ষার্থী রাফা আর নেই

মেডিভয়েস রিপোর্ট: আদ দ্বীন উইমেন্স মেডিকেল কলেজের শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী জেরিন তাসনিম রাফা…

প্রধানমন্ত্রীর স্বর্ণপদক পাচ্ছেন ডা. নীলিমা ইয়াসমিন

প্রধানমন্ত্রীর স্বর্ণপদক পাচ্ছেন ডা. নীলিমা ইয়াসমিন

মেডিভয়েস ডেস্ক: সর্বোচ্চ নম্বর পাওয়ায় প্রধানমন্ত্রীর স্বর্ণপদক পাচ্ছেন ডা. নীলিমা ইয়াসমিন। এছাড়াও সর্বোচ্চ…

‘জান্নাতের পাখি হয়ে ভালো থাকুক রাফা’

‘জান্নাতের পাখি হয়ে ভালো থাকুক রাফা’

রাফা। এ দুই শব্দের নামের প্রতি মেডিকেল শিক্ষার্থী চিকিৎসকদের কী যে টান!…

রাফার জীবনের শেষ স্ট্যাটাসে তার বাবা!

রাফার জীবনের শেষ স্ট্যাটাসে তার বাবা!

মেডিভয়েস ডেস্ক: মেডিকেল শিক্ষার্থী ও চিকিৎসক সমাজকে কাঁদিয়ে না ফেরার দেশে চলে গেছে…

চিকিৎসকদের নিরাপত্তায় পদক্ষেপ নিবে বিএমএ

চিকিৎসকদের নিরাপত্তায় পদক্ষেপ নিবে বিএমএ

মেডিভয়েস ডেস্ক : চিকিৎসকদের নিরাপত্তাসহ অন্যান্য সংশ্লিষ্ট বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করার সিদ্ধান্ত…

বিশ্বকাপে সুযোগ পাওয়া এক বাংলাদেশি চিকিৎসকের গল্প

বিশ্বকাপে সুযোগ পাওয়া এক বাংলাদেশি চিকিৎসকের গল্প

বিশ্ব ফুটবল সংস্থা ফিফার বিশ্বকাপ ডোপিং নিয়ন্ত্রক দলের সদস্য হিসেবে দায়িত্বপালন করছেন…

আরো সংবাদ














জনপ্রিয় বিষয় সমূহ:

দুর্যোগ অধ্যাপক সায়েন্টিস্ট রিভিউ সাক্ষাৎকার মানসিক স্বাস্থ্য মেধাবী নিউরন বিএসএমএমইউ স্বাস্থ্যমন্ত্রী ঢামেক গবেষণা ফার্মাসিউটিক্যালস স্বাস্থ্য অধিদপ্তর