ঢাকা      বৃহস্পতিবার ১৭, জানুয়ারী ২০১৯ - ৪, মাঘ, ১৪২৫ - হিজরী



এ আর আনিস

শিক্ষার্থী, ঢাকা মেডিকেল কলেজ


ভালবাসাময় মেডিকেল জীবন

মোটামুটি সুস্থ অবস্থায় সেদিন বাড়ি গিয়েছিল এবং সেই মানুষটি আজও বেচে আছে। যাকে কিনা সবাই সেদিন মাটি দেওয়ার প্রায় সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছিল। যাই হোক যাওয়ার সময় মাথায় হাত দিয়ে, দোয়া করে গেল। সত্যি বলতে মাথায় হাত দিয়ে দোয়া করার সময় আমি আমার চোখের পানি ধরে রাখতে পারিনি।

একজন অসুস্থ মানুষ হাসপাতালে এসে সুস্থ হয়ে বাড়ি যাবার সময় মাথায় হাত দিয়ে দোয়া করলে কেমন অনুভূতি হয়, সেটা কেবল একজন মেডিকেল স্টুডেন্ট বা ডাক্তারই জানে। এত এত পড়াশোনার চাপ, কারও বা হতাশার মাঝে এই ধরণের ঘটনাগুলো এ্যান্টিডট হিসেবে কাজ করে।

কয়েকমাস পর হঠাৎ একদিন একজন ফোন দিয়ে বলতেছে, আমি তোমার দাদা বলতেছি। আমি তো অবাক হয়ে গেলাম। আমার দাদা মারা গেছে আমার বয়স যখন মাত্র দুই বছর তখন। এ আবার কোন দাদা?

সত্যি বলতে আপনি যখন ভালো কোনো যায়গায় চান্স পাবেন বা জীবনে ভালো কিছু করতে পারবেন। তখন অনেক বসন্তের কোকিল আপনার আসে পাশে পাবেন। যারা আপনার দু:সময়ে বা আপনি আজকে এই ভালো অবস্থানে না আসতে পারলে, আপনাকে চিনতইনা। যাই হোক আমি এই দাদাকে আবার বসন্তের কোকিল বলছি না। কারণ যেহেতু সে আমার দাদা আমি তার নাতি সেহেতু আমার উপর তাঁর কিছু অধিকার অবশ্যই আছে।

তো, আমি যখন একটু কনফিউশড হয়ে কথা বলছি, ঐ পাশ থেকে দাদা আমাকে বলছে। আমার আর তোমার দাদার বাড়ি পাশাপাশি ছিল। পরে নদী ভেঙ্গে যাওয়ার পর আমরা আলাদা হয়ে গেছি। সত্যি বলতে নদীতে বাড়িঘর ভিটেমাটি ভেঙ্গে যাওয়ার যে কি দুঃখ সেটা যাদের ভাঙ্গে শুধু তারাই বুঝতে পারে।

একবার এক লোক বলতেছিল নদীতে ভাঙ্গার চেয়ে আগুনে পুড়ে গেলে কম কষ্ট লাগে। কারণ নদীতে ভেঙ্গে গেলে পুরো ভিটেমাটি চলে যায়। আগুনে পুড়লে শুধু ঘরটাই পুড়ে ভিটেমাটিটা থাকে। এটাই নির্মম বাস্তবতা।
 
যাই হোক দাদা ফোন দিয়ে বলছে তোমার দাদির পায়ে ঘা হয়েছে ডাক্তার বলছে পা কেটে ফেলতে হবে। জামালপুর নিয়ে গিয়েছিলাম সেখানে ডাক্তার বলছে ৬০-৭০ হাজার টাকা লাগবে। এত টাকা কোথায় পাব বল? দাদার কথা শুনে আমারও খারাপ লাগল। আসলেই দাদার পক্ষে এত টাকা জোগাড় করে চিকিৎসা করা প্রায় অসম্ভব।

আমি বললাম আমি আপনাকে আগামীকাল ফোন দিচ্ছি দেখি কি করা যায়। পরের দিন কলেজে গিয়ে সাজার্রী ইউনিট-৩ এর রোনি স্যারকে বললাম, স্যার এই অবস্থা। স্যার বললেন আসতে বল ঢাকায় দেখি পায়ের কি অবস্থা। সেদিন ফোন দিয়ে ঢাকাতে আসতে বললাম। পরের দিন ঢাকা আসল।

যেদিন ঢাকা আসল সেদিনই অপারেশন স্যার দেখে অপারেশন করতে বললেন। রোগীকে অপারেশন রুমে প্রবেশ করানো হল। অপারেশন আল্লাহতায়ালার অশেষ রহমতে ভালভাবে শেষ হল। পরবর্তীতে আরও ৫দিন তাদের থাকতে হল হাসপাতালে। মাঝে মাঝে গিয়ে ব্লাড প্রেশার এবং গ্লুকোজ লেভেল মেপে আসতাম। যেহেতু রোগীর ছিল hypertensive এবং ডায়াবেটিক।

যেদিন তাদের হাসপাতাল থেকে ছুটির দিন। সেদিন কোন এক কাজে আমি ঢাকায় ছিলাম না। তারা বাড়ি চলে গেল। সত্যি বলতে আমি এখনও যদি সেই গ্রামে যাই, আর যদি তারা কোনো রকমে শুনতে পারে যে আমি আসছি। তাহলে আর আমার রক্ষা নাই! যাইতেই হবে তাদের বাড়ি। খাবার দাবার সেতো অন্য আলাপ।

এই যে ভালবাসা। যে ভালবাসা কিনতে পাওয়া যায় না, যে ভালবাসা শেষ হবার নয়, যে ভালবাসা অর্জিত হয় আপনার জীবনের মুল্যবান একটু সময় আর ধৈর্যের বিনিময়ে।

ভালবাসাময় মেডিকেল জীবন। 

সংবাদটি শেয়ার করুন:

 


পাঠক কর্নার বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

চার বছর বয়সেই ডিপ্রেশনে আক্রান্ত!

চার বছর বয়সেই ডিপ্রেশনে আক্রান্ত!

ইশরাত জাহান, বয়স বর্তমানে ১৫। তার মা-বাবা থেকে জানা গেল যখন তার…

সরকারী স্বাস্থ্য সেবা এখন জনগণের দোরগোড়ায়

সরকারী স্বাস্থ্য সেবা এখন জনগণের দোরগোড়ায়

আমাদের দেশের জনগনের বড় অংশ বসবাস করেন গ্রামে। সুতরাং গ্রামের মানুষের কথা…

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও আমার কিছু কথা

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও আমার কিছু কথা

ওএসডি মেয়াদ শেষে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে যোগ দান করতে গেলাম সেই ফারুক সাহেবের…

বাঁচতে হলে জানতে হবে, জানতে হলে পড়তে হবে

বাঁচতে হলে জানতে হবে, জানতে হলে পড়তে হবে

"পড়, তোমার প্রভুর নামে যিনি সৃষ্টি করেছেন" -আল কোরআনের প্রথম আদেশ। কোরআনের…

কত রঙের স্বপ্ন দেখি…

কত রঙের স্বপ্ন দেখি…

হাসপাতালের গাইনি ওয়ার্ডে শোরগোল পড়েছে। কয়েকজন মানুষ মিলে হৈচৈ করছে। পুরুষের চাইতে…



জনপ্রিয় বিষয় সমূহ:

দুর্যোগ অধ্যাপক সায়েন্টিস্ট রিভিউ সাক্ষাৎকার মানসিক স্বাস্থ্য মেধাবী নিউরন বিএসএমএমইউ স্বাস্থ্যমন্ত্রী ঢামেক গবেষণা ফার্মাসিউটিক্যালস স্বাস্থ্য অধিদপ্তর