ঢাকা      মঙ্গলবার ২৪, এপ্রিল ২০১৮ - ১১, বৈশাখ, ১৪২৫ - হিজরী



মোহাম্মেদ নাইম হাসান

শিক্ষার্থী, ইউএসটিসি মেডিকেল কলেজ


প্রথম খণ্ড

বাংলাদেশিদের ভারতীয় চিকিৎসার উপাখ্যান: পর্ব-২

গত পর্বে দেবী শেঠীর হাসপাতাল নিয়ে কিছুটা ধারণা দিয়েছিলাম। এই পর্বে Christian Medical College, Vellore (CMC) নিয়ে কথা বলব।

# CMC হাসপাতাল তামিল নাড়ু রাজ্যের ভেল্লোর এ অবস্থিত। এটা রাজধানী চেন্নাই এর এয়ারপোর্ট থেকে ১২৬ কি.মি দূরে অবস্থিত। এই হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা হয়েছিল ১৯০০ সালে। ব্রিটিশ শাসনামলে ইংরেজরা ভারতের দক্ষিণাঞ্চলীয় এলাকায় তাদের নিজেদের চিকিৎসার জন্য একটি হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করে। এই কারণে ১৯০০ সালে Dr Ida S Scudder এই হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করেন। প্রতিষ্ঠাকাল থেকে এই হাসপাতাল একটি আমেরিকান মিশনারি পরিচালনা করে যাচ্ছে। এটা মূলত খ্রিস্ট ধর্মাবলম্বীদের জন্য তৈরি। এটি ভারতের অন্যতম সেরা আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিপ্রাপ্ত প্রাইভেট মেডিকেল কলেজ যেখানে আন্ডারগ্রাজুয়েট এবং পোস্টগ্রাজুয়েট এর বিভিন্ন বিষয়ে পড়াশোনা করার জন্য ভারতীয় মেডিকেল পড়ুয়া পছন্দের তালিকায় উপরের দিকে। এটা ভারতের প্রথম হাসপাতাল যেখানে ভারতের ইতিহাসে প্রথম reconstructive surgery for leprosy (1948), open heart surgery (1961), kidney transplant (1971), bone marrow transplantation (1986) ইত্যাদি করা হয়েছে। প্রাইভেট হাসপাতাল হলেও এখানে চিকিৎসার খরচ তুলনামূলক ভাবে অনেক কম।

মূল অংশে আসি। ভেল্লোর জেলা মূলত একটি নোংরা এবং খুবই কম উন্নত এলাকা। মূলত রাজধানী চেন্নাইয়ে সব রকমের সুযোগ সুবিধার তুলনায় এখানে তেমন কিছুই হয়নি। ভেল্লোর এর এই মেডিকেল কলেজ হাসপাতালই ভেল্লোর জেলার একটি মূল আকর্ষণ এবং এটাকে ঘিরেই লোকাল মানুষদের ব্যবসা এবং আয়। বলে রাখি, আমি চট্টগ্রামের ছেলে। তাই চমেক হাসপাতালে আমার যাওয়া হয়েছে। এই হাসপাতালও আকার আকৃতিতে চমেকের মতই, তবে আরেকটু বড়। ঢামেকের তুলনায় বড় কিনা জানা নেই। এই হাসপাতাল এর ভিতরে অনেকগুলো চার্চ আছে। নিয়মিত প্রার্থনাসহ যাবতীয় ধর্মীয় কার্যক্রম পরিচালনা হয়। একটি পরিসংখ্যান জানিয়ে দিই।
এখানে- 
*ডাক্তারদের মধ্যে ৯৭-৯৮% খ্রিষ্টান, ২-৩% হিন্দু।
*নার্সদের মধ্যে ৭৫-৮০% খ্রিস্টান এবং ২০-২৫% অন্যান্য।
*MLSS, Aya, gate-keeper, guard Masalchi, Driver, Cook, cleaner ইত্যাদি পেশার লোকজনের মধ্যে ৭০% মুসলিম, ২৪-২৫% হিন্দু এবং অন্যান্য।

# এখানে ঢুকে প্রথমত বাংলাদেশিরা রেজিস্ট্রেশন করেন। বলা বাহুল্য, এখানকার প্রতিটা প্রক্রিয়া অনেক অনেক সময় সাপেক্ষ। ক্ষেত্রবিশেষে ৩-৪ মাস। রেজিস্ট্রেশনের জন্য ফর্ম তোলার জন্য সিরিয়াল নেয়া থেকে শুরু করে, ফর্ম তোলা, একটা নির্দিষ্ট রুমে গিয়ে সিরিয়াল নাম্বার দেখিয়ে ফর্ম নেয়া, সাইন করে পূরণ করা, পুলিশ ভেরিফিকেশনের ফর্ম এর জন্য ফরেন রিলেশন অফিসে গিয়ে ফর্ম নেয়া সহ প্রতিটি ধাপে ধাপে লাইন ধরতে হয়। ধরুন ৩-৪ দিনের ব্যাপার। এখানে রোগীর সংখ্যা আমাদের দেশের সরকারী হাসপাতালের মত ভিড়ে পরিপূর্ণ।

পুরো পদ্ধতি নিয়ে কথা বলার আগে একটি কথা বলে রাখি, আমার কাছে এটাই সবচেয়ে অপমানজনক বলে মনে হয়েছে।

এখানে আমি রেজিস্ট্রেশন ফর্মের সাথে বিদেশী রোগীদের জন্য পুলিশ ভেরিফিকেশন ফর্মের কথা বলছিলাম। এই ভেরিফিকেশন হাসপাতাল থেকে হাঁটার দূরত্বে ২০ মিনিট দূরে একটি থানায় গিয়ে করতে হয়। এটা শুধুমাত্র বাংলাদেশীদেরকেই করতে হয়। আবারো বলছি অন্য বিদেশীদের নয়, শুধু বাংলাদেশীদের। এখানে ফর্মের সাথে পাসপোর্ট এর ফটোকপি, ছবি, থাকার হোটেলের কার্ড এবং বিনামূল্য বলা হয়েও পুলিশের মন মেজাজের উপর নির্ভর করে জনপ্রতি ৫০ রুপি থেকে ক্ষেত্রবিশেষে ৫০০/১০০০ রুপিও দিতে হয়। একটি সাইন এবং সিল নিতে আমাকে ৪ দিন ৩ বেলা করে পুলিশ স্টেশনে দৌড়াতে হয়েছে। ফ্রি বসে থেকেও করেনি আমি বাঙালি বলে। বিকাল ৪টার পরে আসুন বলে পাঠিয়ে দিয়েছে। বিকালে গেলে সন্ধ্যায় আসুন। সন্ধ্যায় গেলে পরেরদিন সকালে আসুন। এই ভেরিফিকেশন ছাড়া আপনার কোন চিকিৎসা করানো হবে না। চলমান চিকিৎসা বন্ধ থাকবে। ফর্মে ফরেনার বলা হলেও অন্য কোন ফরেনার কে এই কাজে দৌড়াতে হয়নি আমি যতদূর জানি। ভেল্লোর সরকারি মেডিকেল পড়ুয়া বন্ধু মুরুগেশ কোলাঞ্চিয়াপ্পান, নাসরিন কে ধন্যবাদ। ওদের সাহায্য ছাড়া জায়গাটার এই কাজের প্রতি ঘৃণা এসে গিয়েছিল।

# রেজিস্ট্রেশন এর পর আপনাকে কোড নাম্বার সংবলিত একটি কার্ড দেয়া হবে। এই নাম্বারটাই আপনার ডিটেইলস ইনফো বহন করে যেটা কম্পিউটার এ জমা আছে। আগেই বলেছি অনেক বড় হাসপাতাল। গেটের বাইরে ডিপার্টমেন্ট এর নাম, কোন ব্লক, কোন বিল্ডিং এ কোনদিকে সব দেয়া আছে। সেখান থেকে দেখে নিয়ে অই বিল্ডিংয়ে ঢুকতে হয়। সেটা ৪-৫ তলায় ও হতে পারে। লিফট আছে, একটা সাধারণ মানুষ এবং রোগীদের, একটা স্ট্রেচার-ট্রলি-অটোক্লেভ করা জিনিসপত্র ক্যারি করার জন্য, আরেকটা শুধুই ডাক্তারদের। বাইরের কেউ এই লিফটে এলাউড না। দারোয়ান আপনাকে ধাক্কা দিয়ে নামিয়ে দিবে। ভালো কথা, লিফটে উঠার জন্যও লাইন ধরতে হয়। প্রথম ১০ জন উঠবে, তারপর এর ট্রিপে পরের ১০ জন এভাবে। কোনভাবেই লাইন ভেঙে আগে যাওয়া যাবেনা। সব জায়গায় গার্ড আছে, প্রচন্ড ব্যস্ত। দেবী শেঠীর হাসপাতালের স্টাফদের ব্যবহার কর্পোরেট অফিসের মত। এখানকার স্টাফদের ব্যবহার কুকুরের চেয়ে জঘন্য। একেকজনের ভাব সচিব আমলার চেয়ে বেশি। আপনি যদি স্মার্ট ইংরেজি না বলেন তাহলে ওরা আপনাকে অশিক্ষিত, মূর্খ, ইতর, সমাজের নিম্ন স্তরের নর্দমার কীট ভাববে। তবে ইংরেজী হল রিয়েল টনিক। ইংরেজী মানেই আপনি শিক্ষিত লোক। আপনাকে নাকে দড়ি দিয়ে ঘুরানো যাবেনা।

নির্দিষ্ট বিল্ডিংয়ে ঢোকার পর, রিসেপশন এ গিয়ে লাইন ধরবেন, যে কাউন্টারে আপনার ইচ্ছা। রিসেপশনিস্ট জিজ্ঞেস করবে কি সমস্যা নিয়ে এসেছেন। এটা একটা জরুরী পয়েন্ট। এখানে আমাদের দেশের ক্ষেত্রে আমরা অনেক সময় ডাক্তার চয়েজ করতে পারিনা, অর্থাৎ সব রোগীরা জানেন না কোন সমস্যার জন্য কোন বিভাগের ডাক্তারের কাছে যেতে হয়। ধরুন, কারো ব্যথার সমস্যা। এটার জন্য রিউমাটোলজিস্ট কিংবা ফিজিক্যাল মেডিসিনের ডাক্তার দেখানো উচিত। কিন্তু রোগীর পরিচিত হলেন কার্ডিওলজিস্ট Dr X অথবা নিউরোলজিস্ট Dr Y। উনি ওদের কাছে গিয়ে দুপক্ষেরই সময়, টাকা সব নষ্ট করেন।

যাই হোক, এই রিসেপশনিস্টদের কাজই হল, আপনি সঠিক বিভাগে যাচ্ছেন কিনা সেটা নিশ্চিত করা। এটা মনে আমাদের দেশে জরুরী। সঠিক রোগের সঠিক ডাক্তার চেনাটা অনেক বেশী সময় সাশ্রয়ী এবং যথাযথ চিকিৎসার জন্য অত্যাবশ্যকীয়। ওরা আপনার ফর্মে ছোট এক লাইনে আপনার হিস্ট্রি লিখে দিবে। ধরুন বলেছেন, আমার পেটের সমস্যা, ব্যথা। ওরা লিখবে, "Pain in stomach for....  days,
referred to Department of Gastroenterology, block F".

ফর্মে একটা বড় করে কাউন্টার নাম্বারও লিখবে। এবার আপনি ফর্ম নিয়ে সেই কাউন্টারের লাইনে গিয়ে লাইন ধরবেন। এখানে লাইন ভেঙে আগে যাবার সুযোগ নেই। যতক্ষণ লাগবে ততক্ষণই অপেক্ষা করতে হবে। আমি অপেক্ষা করেছি ৩ ঘন্টা। তারপর কাউন্টার এর মুখে এসে জিজ্ঞাসা করা হবে প্রাইভেট ডাক্তার চান, নাকি জেনারেল ডাক্তার। যেটা চাইবেন ফিস জমা দিয়ে রিসিপ্ট নিবেন, সাথে রিস্ট ব্যান্ড। এক এক দিনের জন্য এক এক রঙের। যেমন শনিবারের জন্য লাল, সোমবারের জন্য সবুজ এরকম। সবই কম্পিউটারাইজড।

প্রাইভেট ডাক্তারের ফিস ৬২০ রুপি, জেনারেল ডাক্তার ১২০ রুপি। এক সপ্তাহের ভেতরে যদি আবার আসতে হয় তখন প্রাইভেট ডাক্তার ১৭৫ রুপি, জেনারেল ৬০ রুপি। বলে রাখি এখানে প্রাইভেট ডাক্তার হলেন যারা প্রফেসর, এসোসিয়েট প্রফেসর এবং এসিস্ট্যান্ট প্রফেসর। আর জেনারেল ডাক্তার হলেন, রেজিস্ট্রার, সিএ, এমও, রেসিডেন্টস, ট্রেইনি।

প্রফেসররা রোগী দেখেন একদিনে ১৫-২০ জন। জেনারেল রোগীর পরিমাণ ৩০০-৪০০ জন দৈনিক। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কথা, প্রাইভেট এবং জেনারেল ডাক্তারের সিরিয়াল সেইদিনই পাওয়ার কোন সম্ভাবনা নেই। অন্তত তিন-চারদিন, অনেক ক্ষেত্রে ৩-৪ মাস, ৬ মাস পরের সিরিয়াল নিয়ে অনেকে বাংলাদেশে ফিরে আসেন। কারণ ডাক্তাররা প্রায়ই দেশের বাইরে থাকেন। সব ডিপার্টমেন্ট এর ১ নং কাউন্টারে ডেবিট কার্ডের আদলে ক্রিস কার্ড পাওয়া যায়। সুবিধা হল, ক্যাশ টাকা বহন না করে কার্ড ব্যবহার করা যায় (চার্জ প্রযোজ্য)। এটা ব্যবহার করানোর জন্য তারা বলে থাকে, আপনি যদি ক্রিস কার্ড ব্যবহার করেন, আপনি তিনদিন পরের একটি সিরিয়াল হয়ত পেতে পারেন। মানুষ তখন ওটা নিতে পড়িমরি করে ছুটে। দেবী শেঠীর হাসপাতালে এই অসুবিধাগুলো নেই। সিরিয়াল, ডাক্তার একই দিনেই পাওয়া যায়, কন্সাল্টেশনও পাওয়া যায়। এখানে দিনের পর দিন অপেক্ষা করতে হয় সিরিয়াল পাওয়ার সেই দিনের অপেক্ষায়। তারপর কোন একদিন সিরিয়াল আসে। সেদিন রিসিপ্ট নিয়ে হাসপাতালে যাবেন সেই নির্দিষ্ট বিভাগে। ঢোকার পথে দারোয়ান চেক করবে পুঙ্ক্ষানুপুঙ্ক্ষ। তারপর ভেতরে যেতে হবে। সাদা রঙের হাসপাতালের দেয়াল। সব জায়গায় যিশুর বাণী, ছবি। বাগান, গাছ পেরিয়ে হল পেরিয়ে তারপর সিঁড়ি। তারপর কন্সাল্টেশন রুম। ওয়েটিং রুমে বসে ডিজিটাল ডিসপ্লে এর দিকে তাকিয়ে থাকতে হয়।

আপনার সিরিয়াল নাম্বার, টোকেন নাম্বার যখনি দেখাবে এবং মাইকে বেজে উঠবে তখনি যাবেন। এখানে হাতে লেখা কোন কার্যক্রম নেই। সবই মেশিনে, তাই কেউ আগে যেতে চাইলেও পারবেননা। কারো সাথে ধাক্কাধাক্কি করার সুযোগও নেই। রোগী ডাক্তারের রুমে ঢুকবেন। কথা বলবেন, পরীক্ষা নিরীক্ষা শেষ, টেস্ট করতে দিবেন, তারপর প্রয়োজনীয় অর্ডার দিয়ে পাঠিয়ে দিবেন। যথারীতি খুবই সুন্দর ব্যবহার। তবে জিপিদের ব্যবহার এমন নয়। শুধু সিনিয়র প্রফেসরদের ব্যবহার অসম্ভব সুন্দর। এই হাসপাতালে সিনিয়র ডাক্তার (প্রফেসর), কিছু নার্স এবং নান বাদে বাকিদের (ডাক্তারসহ) ব্যবহার অতিমাত্রায় কুরুচিপূর্ণ এবং বিশেষমাত্রায় জঘন্য। 

বাই দ্য ওয়ে, এখানে কিন্তু নো প্রেস্ক্রিপশন। আবারো বলছি নো প্রেস্ক্রিপশন। কম্পিউটারে রোগীর কোড নাম্বারেই প্রেস্ক্রিপশন আছে যেটা শুধু অফিশিয়ালরাই জানবেন। এখানে আমাদের দেশে ওষুধ কোম্পানির লোকদের মত প্রেস্ক্রিপশনের ছবি তোলা, প্রেস্ক্রিপশন নিয়ে কোয়াক, ওষুধের দোকানদার সবার মতামত নেয়ার সুযোগ নাই। আপনার হাতে কিছুই থাকবেনা। সব কাউন্টার টু কাউন্টার কম্পিউটারে পাস হয়ে যাবে। আমরা তো দেশে ডায়াগনোসিস করাই প্রফেসর দিয়ে, সেটা বুঝতে পান্ডিত্য দেখিয়ে বিরক্ত করি জিপিদের। যেমনঃ আমি অমুক স্যার এবং তমুক স্যারের রোগী। আপনার এখানে আসার আগে দেখাইছি। দেখেন তো কি দিছে। উনি কি ভালো? কি কি জানি ওষুধ দিছে দেখেনতো। আপনাদের এই অমুক স্যার কিন্তু আমার আত্নীয়। ব্যস, জিপি সাহেব বড় স্যারের আত্নীয় জেনে সন্মান করে সব বুঝালেন। কিন্তু ওষুধ খাই কোয়াকের কথায়। কারণ, আমাদের দেশে লজিকের চেয়ে ম্যাজিক বেশি বিশ্বস্ত। তাই সায়েন্টিস্টদের চেয়ে কোয়াক, ওঝা, বাবা, দরবেশ, পীর এদের ভ্যালু বেশি।

তো ল্যাব পরীক্ষার জন্য আলাদা ভবন, লাইন ধরে ফিস জমা দেয়া, লাইন ধরে টেস্ট করানো। তারপর চলে আসা। রিপোর্ট গুলো কিন্তু রোগীর হাতে কখনো আসেনা। কম্পিউটারেই ডাক্তারের কাছে পৌছে যায়। তারপর ওষুধ কিনার ভবন, কাউন্টার আলাদা। ফিস জমা দেয়ার জন্য লাইন ধরে, জমা দিয়ে, ওয়েট করতে হয়। ওরা ওষুধ সব গুলো রেডি করে স্পীকারে নাম ধরে ডাকলেই নির্দিষ্ট কাউন্টারে গিয়ে নিতে হয়। এখানে একই ওষুধ বাইরে থেকে কিনলে কিছু বেশি দামে কিনতে হয়। বাইরের চেয়ে হাসপাতালের ভেতরে দাম কম। 

অপারেশনের তারিখ নেয়াটা আরেকটা ঝক্কির কাজ। যতদিন পরে তারিখ পাবেন, ততদিন বসে থাকা ছাড়া কাজ নেই।

দেবী শেঠির হাসপাতালের মত এখানে সব কিছুর বিল একেবারে নেয়া হয়না। অপারেশন বিল এর সাথে শুধু হাসপাতাল ভাড়া নেয়া হয়। খাবার, ওষুধ সব আলাদা। একটাকা ডিস্কাউন্ট এরও সুযোগ নেই। ফ্রি তো দূরের কথা। যা দিতে বলবে তাই দিবেন। বাড়াবাড়ি করলে কাগজ নিয়ে ছিড়ে ফেলে বের করে দেবে। আবার রেজিস্ট্রেশন করে প্রসেস করে আসতে আসতে মাসখানেক লাগবে।

আরও পড়ুন-

বাংলাদেশিদের ভারতীয় চিকিৎসার উপাখ্যান: পর্ব-১

বাংলাদেশিদের ভারতীয় চিকিৎসার উপাখ্যান: পর্ব-২ ২য় খন্ড

সংবাদটি শেয়ার করুন:

 


সম্পাদকীয় বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

কেন এই পরকীয়া?

কেন এই পরকীয়া?

পরকীয়া শব্দটা দেখেই আমার রুচিবোধ নিয়ে অনেকেই সন্দিহান হলেও লেখাটা ঠিকই পড়বেন।…

‘উটপাখির দেশে একটি ডান হাতের গল্প’

‘উটপাখির দেশে একটি ডান হাতের গল্প’

বিবেকের কাছে হেরে যাওয়ার চাইতে মৃত্যুর কাছে হেরে যাওয়া কি বেশি ভালো?…

ডাক্তারদের ‘কসাই’ উপাধি এবং বাংলাদেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থা

ডাক্তারদের ‘কসাই’ উপাধি এবং বাংলাদেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থা

ডাক্তারদেরকে কসাই বলা বা হাসপাতালকে কসাইখানা বলার প্রচলন সাম্প্রতিক বাংলাদেশের কমিশনখোর বা…

উন্নত দেশগুলোতে আত্মহত্যার হার কেন বেশি?

উন্নত দেশগুলোতে আত্মহত্যার হার কেন বেশি?

নেদারল্যান্ডের রাজধানী আমস্টারডামে অনুষ্ঠিত ‘ফিউনারেল ফেয়ার’ মেলায় আত্মহত্যা বা স্বেচ্ছামৃত্যুর সুযোগ করে…

চিকিৎসকদের পক্ষে কথা বলার কেউ নেই?

চিকিৎসকদের পক্ষে কথা বলার কেউ নেই?

চিকিৎসক নিপীড়ন চলছেই। পহেল বৈশাখ নাটোরের সিংড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসকের ওপর…

নারীরা কেন ধর্ষণের বিরুদ্ধে সোচ্চার হচ্ছেন না?

নারীরা কেন ধর্ষণের বিরুদ্ধে সোচ্চার হচ্ছেন না?

এক. ধর্ষণ আমাদের দেশে দিনকে দিন বেড়েই চলেছে। মেয়েরা আজকাল কোথাও নিরাপদ…



জনপ্রিয় বিষয় সমূহ:

দুর্যোগ অধ্যাপক সায়েন্টিস্ট রিভিউ সাক্ষাৎকার মানসিক স্বাস্থ্য মেধাবী নিউরন বিএসএমএমইউ স্বাস্থ্যমন্ত্রী ঢামেক গবেষণা ফার্মাসিউটিক্যালস স্বাস্থ্য অধিদপ্তর