ঢাকা      মঙ্গলবার ২৪, এপ্রিল ২০১৮ - ১১, বৈশাখ, ১৪২৫ - হিজরী



ডা. মুনিম রেজা

মেডিকেল অফিসার, হাই-টেক মডার্ন সাইকিয়াট্রিক হাসপাতাল। 


ডা. গোলাম মাহবুব স্যার

একজন লিজেন্ডারি সার্জনের বিদায়

আমি তখন ৩য় বর্ষের ছাত্র। বগুড়ার মোহাম্মাদ আলী হাসপাতালে সামনে গিয়েছিলাম একটা কাজে। হঠাৎ করে লক্ষ্য করলাম একটা মানুষ হাতে একটা বই নিয়ে আনমনে হেটে আসছে। কাছে আসার পরে দেখলাম হাতে ফিজিক্সের বই, চিনতে পারলাম অতি সাদাসিধে মানুষটাকেও। তিনি আমাদের শজিমেকের কিংবদন্তী সার্জন প্রফেসর ডা. গোলাম মাহবুব স্যার। সম্ভবত ছেলের জন্য বই কিনে হেটেই বাড়ি ফিরছেন। স্যারের সাথে সেই প্রথম সাক্ষাত। চোখ বুজলে এখনো সে দৃশ্য চোখে ভাসে। স্যারের সাদামাটা, নির্ঝঞ্ঝাট জীবন আমাকে অনুপ্রাণিত করতো।

প্রচারবিমূখ সার্জারির লিজেন্ড এই মানুষটা আমাদের ফেলে পরকালে পাড়ি জমিয়েছেন। বহু জীবন বাচানোর উপলক্ষ্য স্যার চলে গেলেন অনেকটা নিভৃতেই। ফুসফুস ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে অসুস্থ ছিলেন বেশ কিছুদিন ধরে। ৬৮ বছর বয়সে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন নিজের দীর্ঘদিনের কর্মস্থল বগুড়া মেডিকেলের আইসিইউতে।

আল্লাহ স্যারকে দক্ষ সার্জনের যোগ্যতা দিয়েছিলেন। জেনারেল সার্জারি বিষয়ে বিশেষজ্ঞ ছিলেন তিনি। স্যারের ছিল যাদুকরী হাত। এই যাদুকরী হাত দিয়ে কতশত মানুষের অসুস্থতার কষ্ট তিনি দূর করেছেন তার ইয়ত্তা নেই। বগুড়ার সীমাবদ্ধ সুবিধার মাঝেও তিনি অনেক বড়বড় অপারেশন করতেন। তাঁর অপারেশনে সুস্থ হয়ে কতজন এখনো বেচে আছে, মাঝথেকে স্যার চলে গেলেন পরপারে। এই সুনিশ্চিত মৃত্যুর কাছে আমাদের জীবন কতই না অনিশ্চিত!

স্যারের ক্লাস পেয়েছিলাম অনেক। মেডিকেলে যেসব স্যার চমৎকার ক্লাস নিতেন, স্যার নিঃসন্দেহে তাদের মধ্যে অন্যতম। স্যার শুধু ভালো ক্লাসই নিতেন না, ছাত্রদের ব্যাপারেও ছিলেন বেশ আন্তরিক। ফাইনাল প্রফে স্যারের কাছে ভাইভা দেয়ার সৌভাগ্য হয়েছিল। স্যার মোটেই ভীতিকর ছিলেন না, বরং স্যারের মুখের দিকে তাকালে সাহস পাওয়া যেত।

মেডিকেল এডমিশনে ছাত্র হিসাবে স্যারের দুই ছেলেকে পেয়েছিলাম। দুইজনই অনেক মেধাবী ও ভদ্র, এখন মেডিকেলে পড়ছে। তখন স্যারের সাথে ফোনে কথা হত মাঝেমধ্যে। স্যার ছেলের প্রোগ্রেসের ব্যাপারে জানতে চাইতেন। এত বড় একজন মানুষ, অথচ স্যারের সাথে কথা বলার সময় কখনো আলাদা চাপ ফিল করিনি, যেমনটা অনেক স্যারের সাথে হত, স্যার এতটা আন্তরিকভাবে কথা বলতেন। কিছুটা আঞ্চলিক টানে কথা বলার কারনণ স্যারের কথা বেশ মিষ্টিও লাগতো।

একজন ভালো সার্জনের হাত তার মৃত্যুতে থেমে যায় না। বরং তাঁর কাছ থেকে কাজ শেখা অগনিত সার্জনের হাতের কারুকার্যে পরোক্ষভাবে বাচিয়ে চলে অসংখ্য জীবন। স্যারের অনেক ছাত্র আজ এদেশে মানুষের আরোগ্যের কারিগর হিসাবে কাজ করে যাচ্ছেন।

শজিমেক গর্বিত ছিলো স্যারকে নিয়ে। স্যার বেচে থাকবেন তার অসংখ্য রোগী এবং ছাত্রদের সুখ স্মৃতিতে।

আল্লাহ স্যারকে জান্নাত নসীব করুন, আমিন। 

সংবাদটি শেয়ার করুন:

 




জনপ্রিয় বিষয় সমূহ:

দুর্যোগ অধ্যাপক সায়েন্টিস্ট রিভিউ সাক্ষাৎকার মানসিক স্বাস্থ্য মেধাবী নিউরন বিএসএমএমইউ স্বাস্থ্যমন্ত্রী ঢামেক গবেষণা ফার্মাসিউটিক্যালস স্বাস্থ্য অধিদপ্তর