ঢাকা      বৃহস্পতিবার ২৬, এপ্রিল ২০১৮ - ১৩, বৈশাখ, ১৪২৫ - হিজরী



মোহাম্মেদ নাইম হাসান

শিক্ষার্থী, ইউএসটিসি মেডিকেল কলেজ


দ্বিতীয় খণ্ড

বাংলাদেশিদের ভারতীয় চিকিৎসার উপাখ্যান: পর্ব-২

আগের পর্বতে বলছিলাম CMC hospital, Vellore এর সিরিয়াল নেবার ঘটনা। আমি নিজের ব্যক্তিগত ঘটনাই শেয়ার করছি এই খন্ডে। কিছুটা ভ্রমণকাহিনীর মত মনে হতে পারে।

# আমি আর আমার এক আত্নীয় গিয়েছিলাম সেখানে। উনার সমস্যা ইউরেথ্রাল স্ট্রিকচার। আমরা সিরিয়াল নেবার পূর্বশর্ত সব কিছু শেষ করে গেলাম নির্ধারিত ভবনে। সেটা প্রায় ৫-৬ দিন পরের ঘটনা। তারপর, সিরিয়াল নিতে কাউন্টারে দাঁড়ালাম। সর্পিলাকারে বসার চেয়ার সাজানো। সেভাবেই সিরিয়াল আগায়। ৩ ঘন্টায় পেলাম কাউন্টারের দেখা। গিয়েই শুনলাম প্রাইভেট ডাক্তারের সিরিয়াল ২ মাস পরে ছাড়া পাওয়া যাবে না। জেনারেল ডাক্তার পাওয়া যাবে আরো ৩ মাস পর। প্রাইভেট মানে সব প্রফেসর (এসোসিয়েট, এসিস্ট্যান্টসহ) আর জেনারেল মানে রেসিডেন্ট, ট্রেইনি, রেজিস্ট্রার ওনারা। প্রাইভেট ওর খরচ ৬২০ রুপি। জেনারেল এর খরচ ২০০ রুপির মত।

সিরিয়ালের অবস্থা দেখে তো মাথায় হাত, হয় দুইমাস অপেক্ষা অথবা দুইমাস পর আবার আসতে হবে। আমাদের চিন্তাভাবনা দেখে সেই স্টাফ ইংরেজীতে বলল, "Gentlemen, you go to counter no 1, they might help you I guess!" গেলাম সেখানে, কাউন্টারে আগেই বলা ছিল, আমরা ফিরে এসে টাকা জমা দেবার জন্য আবার লাইন ধরতে পারবনা। সে সায় দিল। তো সেই ১ নাম্বার কাউন্টারে গেলাম। গিয়ে একটি অফার পেলাম। তাদের হাসপাতালের পক্ষ থেকে "ক্রিশ কার্ড (Christ card) নামের একটি অপশন আছে। এটা ডেবিট কার্ডের মতই। এটা ব্যবহার করলে ৩ দিন পরে একটি সিরিয়াল পাওয়া যাবে। অগত্যা রাজি হলাম। টাকা দিলাম, কার্ড নিলাম। নিজেদের আইডি দেখিয়ে সিরিয়াল নিলাম। ওরা টাকার হিসাব পাই টু পাই প্রিন্টেড কাগজে বুঝিয়ে দিল। এখানে একেকদিনের জন্য একেক রঙের রিস্টব্যান্ড দেয়া হয়। সাতদিনের জন্য সাতরং। শুধু রবিবার বন্ধের দিনে ইনডোরের রোগীর জন্য লাল রঙ নির্দিষ্ট। 

# তিনদিন পর সকাল ৮ টায় হাজির হলাম। কাগজ-কলমে সিরিয়াল মেইন্টেইনেন্স এর ব্যাপার নাই। সব ইলেক্ট্রনিক বোর্ডে ফ্ল্যাশ হবে, ভয়েস সহ। সিরিয়াল নাম্বার, টোকেন নাম্বার উচ্চারিত হলে, দেখালে যেতে হবে। এর আগে নয়। ডাক্তারের রুমের দরজায় গার্ডের মত স্টাফ আছে। ওরা রোগী এবং রোগীর লোকের সাথে একজন ছাড়া বাকিদের প্রবেশ আটকাতে ব্যস্ত। ঢুকলাম ইউরোলজি ইউনিট ২-এ। 

আমাদের ডাক্তার Dr Nirmal Thampi John,(MBBS, MS, DNB, MRCS, FRCS), Associate Professor, CMC। বয়স আনুমানিক ৪০ বছর। যথেষ্ট হাসিখুশি এবং সুন্দর ব্যবহারের অধিকারী ভদ্রলোক। CMC এর ইউরোলজী এর এসোসিয়েট প্রফেসর। রোগীর হিস্ট্রি জানতে চাইলেন। মেডিকেল টার্ম ব্যবহার করে হিস্ট্রি দিচ্ছিলাম দেখে জানতে চাইলেন আমি কি করি। মেডিকেল পড়ুয়া শুনে খুশি হলেন। জানালেন, এখানে বাংলাদেশীরা এলে দোভাষীর প্রয়োজনীয়তা প্রকট হয়ে দাঁড়ায় (হিন্দী দক্ষিণ ভারতীয়রা তেমন বলতে পারেন না। আর ইংরেজীতে বাংলাদেশীরা দুর্বল)। এরকম মেডিকেল টার্মে সবাই হিস্ট্রি দিলে কাজগুলো আরো অনেক স্মুথ হয়ে যেতো ইত্যাদি ইত্যাদি। সব বললাম, এখানে আমার মেডিকেলের স্যারদের দেখিয়েছি, ইউরেথ্রাল স্ট্রিকচার ডায়াগনোসিস হয়েছে। অপারেশনের পরামর্শ দেয়া হয়েছে। শুনে এক্সামিন করে বললেন, ডায়াগনোসিস তো ঠিকই আছে। অপারেশনের দরকার। 

Buccal Mucosa থেকে graft তুলে নিয়ে ইউরেথ্রা রিপেয়ার করতে হবে। অপারেশনের পর তিনদিন হাসপাতালে থাকাসহ মোট ২১ দিন থাকবে ক্যাথেটার। তারপর চলে যেতে পারবে দেশে। অপারেশনের খরচ ৪০ হাজার রুপি, এর ভিতরে হাসপাতালের ভাড়াও যুক্ত। খাওয়া, ওষুধ খরচ ইত্যাদি আলাদা। কিছু প্রি অপারেটিভ ইনভেস্টিগেশন শেষ করলাম, অপারেশন খরচ জমা দিলাম। ভর্তি করলাম। ডেট পেলাম ১২ দিন পরের। তাও অনেক কাহিনী করার পর। এখানে বলে রাখি, কোন মেডিকেলীয় কাগজপত্র হাতে বহন করতে হয়না। সবই আইডি কার্ডের পিন নাম্বারে জমা থাকে যেটা শুরু ডাক্তাররা দেখতে পান। রোগীরা জানতেও পারেননা কি আছে ভিতরে। আমি অনেক গাঁইগুঁই করে জেনেছিলাম টেস্টের রেজাল্ট। ইনভেস্টিগেশন এর খরচ দিতে লাইন ধরতে হয়, লিফটে উঠতে নামতে লাইন, টেস্ট করাতে লাইন সব জায়গায় লাইন ধরাধরি। আমার ধারণা মতে ঠিক ওই মুহুর্তে মোট ৫০ হাজারের বেশি লোক ওই হাসপাতালে ভিতরে বাইরে চিকিৎসাধীন। বারবার লাইন ধরতে গিয়ে অনেকে মেজাজের খেই হারিয়ে ফেলেন। একজন তো রাজনৈতিক পরিচয় দিয়ে আগেভাগে দেখিয়ে চলে যেতে চাইলেন। বারবার ভয় দেখিয়েও কারো ভাবান্তর না দেখে নার্স আর সুপারভাইজারদের ডাকলেন। তারা উলটো ধমকে দিয়ে চলে গেলেন। বেচারা নেতাসাহেব চুপচাপ লাইনে দাঁড়িয়ে রইলেন। এই ধরনের গাটসের পেছনে একটা কারণ থাকতে পারে। এই পোস্টগ্রাজুয়েশন হাসপাতাল ছাড়া তামিলনাড়ুতে উচ্চতর চিকিৎসা পাওয়া যায় চেন্নাই Apollo Hospitals-এ। কিন্তু apollo এর খরচ এখানকার অন্তত ৫ গুণ। এছাড়াও Apollo থেকে রেফার্ড হওয়া রোগীগুলো CMC তে আসে। তাই ওদের দামটা বেশি।

# যাই হোক ভর্তি করে দিতে রাত ৮ টায় গেলাম। ওয়ার্ডের হোয়াইট বোর্ডে মার্কারে লেখা নাম চেক করলাম। আমার আংকেলের আছে কিনা। দেখলাম আছে। কিন্তু যে বেডে দেয়া হবে সেটা খালি নেই। রিলিজ হতে সময় নেবে। তাই আপাতত আশে পাশের লোকজনের অবস্থা দেখার জন্য ঘুরছি, বাকি ইউনিট গুলোতে, রেজিস্ট্রার এবং এসিস্ট্যান্ট রেজিস্ট্রারের খোঁজ করছি। অনেক বাঙালির সাথে কথা হল। তারাও ভাষার সমস্যা মোকাবেলায় সাথে করে সাহায্যকারী নিয়ে এসেছেন। একটু বিচ্ছিরি বাংলায় বললে দালাল। দিনপ্রতি ২ থেকে ৩ হাজারের বিনিময়ে তাদের সাহায্য করবেন চিকিৎসা নিতে। ওদের ইনকাম শুরু হয় সেই ভারতীয় ভিসা পাওয়ার দিন হতে। 

তারপর থেকে একেবারে দেশে আসা পর্যন্ত। কথা বলে আরো বুঝলাম, এখানে আসা এসব লোকদের বিশ্বাসকে ফাঁকি দিয়ে কিভাবে আরো অনেক টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে এই দালালেরা। বুঝিয়ে বলি। ধরুন এক লোকের এনজিওগ্রাম হবে। সেইলোক এনজিওগ্রাম হবে সেই শোকে একদিকে বসে বিলাপ করছেন। আর দালাল সাহেব তার প্রয়োজনীয় ফরমালিটিস পূরণ করছেন। ২০১৫ সালে তখন ভারতে এনজিওগ্রামের খরচ ১২৫০০ রুপি। জেনারেল ওয়ার্ডে রাখলে এই খরচ। আরো দুটো অপশন আছে। সাব স্পেশাল এবং ভিআইপি। সাব স্পেশাল হলে ১৭০০০ এবং ভিআইপি ২৫০০০। এরকম বিলাপরত এক লোককে জিজ্ঞেস করলাম, কত খরচ হচ্ছে? জানালো, ২৫ হাজার। কোন ওয়ার্ডে রাখবে? জানালো জেনারেলে। আমি অবাক হলাম। আমাকে কথা বলতে দেখে দালাল সাহেব দৌড়ে আসতে লাগলেন। বললেন ডাক্তার নিষেধ করেছে কথা বলতে। আরো অনেকের কথায় জানলাম, প্রতি পদে পদে মিথ্যা শুনিয়ে এভাবে আত্নসাৎ হচ্ছে কষ্টের টাকা। যদিও হাসপাতাল সব বিল প্রিন্টেড কাগজে দিচ্ছে। তবুও সামান্য লেখাপড়া না জানার এতবড় শাস্তি!

ইউরেথ্রাল স্ট্রিকচার এর চিকিৎসার জন্য এসেছেন এক লোক। আমি তখন রেজিস্ট্রার Dr Johann Boaz এবং Dr Sudhindra Jayasimha Martinez এর সাথে কথা বলছিলাম। অসম্ভব ব্যস্ত তারা, ফলো আপ এ রোগীদের খোঁজ খবর দেখছেন। ৯ টা বেজেছে এখনো ভর্তির নাম নেই। তারাও বুঝাচ্ছেন রোগী রিলিজ হয়নি। তাই বেড আপাতত দেয়া যাচ্ছেনা। আমার ইংরেজীর কারণে আমাকে দিয়ে বাংলাদেশীয় রোগীগুলোর ফলোআপ নেওয়াল। আমিও সাহায্য করলাম।

তো সেই রোগী আমাকে বাঙালি কিনা জিজ্ঞেস করলেন। বাড়ি চট্টগ্রাম শুনে আঞ্চলিক ভাষাতে কথা বললেন। জানতে চাইলেন এই ডাক্তারগুলো আমার সাথে এতো কথা কিভাবে বলছে? ওদের যেই দালাল লোক তার সাথে তো এত কথা বলেনা। কিছু জানতে চাইলে উলটো ঝাড়ি দেয়। আমি ডাক্তারদের পূর্ব পরিচিত কিনা এসব জানতে চাইলেন। আমি বুঝালাম এমন কিছুই না, মেডিকেল পড়ুয়া আর ইংরেজীটা বলতে পারি দেখে আমার একটু সাহায্য নিল।

বলে রাখা ভালো, যেসব বাঙালি ইংরেজী বলাতে সাবলীল না, এই তামিল এলাকার ভারতীয়রা এক বাক্যে বুঝে ফেলে এরা অশিক্ষিত। এরাই সেই দল যারা ভারতীয় চিকিৎসাকে গড লেভেলের ভাবে। অতএব এদের এত বেশি পাত্তা দেবার দরকার নেই। বেশিরভাগ ভারতীয়রাই বাংলাদেশকে গরীব, চাষা-ভূষার দেশ ভাবে। তবে যারা ইংরেজী বলতে পারেন, তাদের সাথে কিছুটা সমীহ ভাব বজায় রেখে কথা বলেন। এটা যারা বেশ অনেকবার ভারতে চিকিৎসা নিতে গেছেন তারা আরো ভালো বলতে পারবেন।

# রোগী ভর্তি হল। রাত প্রায় ১২ টা বাজে, হোটেলে যেতে হবে। যাওয়ার পথে Dr Sudhindra এবং Dr Johann এগিয়ে এসে ধন্যবাদ দিয়ে গেলেন, ওয়ার্ডে সেই অল্প একটু সাহায্যের জন্য। পরেরদিন অপারেশন এর আগে এনেস্থেটিস্ট এলেন। দেখলাম, দুজন স্ট্রিকচার এর রোগীকে ভিন্ন ভিন্ন এনেস্থিসিয়া। ভিডিও করছেন পারমিশন নেবার প্রক্রিয়া। কথা বললাম, জানতে চাইলাম, কেন এসব হল। জানলাম, উনি ট্রেইনি। থিসিস পার্টের জন্য এই অংশটা তার লাগবে। অপারেশন শেষ হবার পর ওয়ার্ডে শিফট করা হল রোগীকে। আংকেল জ্ঞান ফিরে পিপাসার কথা জানিয়েছিলেন। একপ্রকার চিৎকার চেঁচামেচি জুড়ে দিলেন, পানি তার চাইই চাই। আমাকে স্পষ্টভাবে নিষেধ করা হয়েছে ২ ঘন্টার আগে বিন্দুমাত্র পানিও খেতে দেয়া যাবেনা।

আমাদের রোগীর সার্জন Dr Nirmal তার HOD Dr Anthony Devasia কে সাথে নিয়ে এলেন। Dr Anthony তার রেজিস্ট্রার এবং ট্রেইনিদের ডাকলেন। ব্যাখ্যা চাইলেন, রোগীর সাথে আমি কেন উপস্থিত? আমাকে কে ঢুকতে দিয়েছে? ওয়ার্ডের বাকিরা আমার দিকে ভয়ভয় চোখে তাকিয়ে। Dr Johann বললেন আমার কথা, বাংলাদেশে মেডিকেলে পড়ি। Dr Anthony হেসে বললেন, "Welcome young man, hopefully my team is making you satisfied with their hardwork & dedication." জিজ্ঞেস করলেন কোথায় পড়ি, আমি নিজ থেকেই বললাম প্রাইভেট মেডিকেলের ছাত্র আমি। সাথে কিছুটা ইতিহাসও। 

বাংলাদেশের প্রথম প্রাইভেট মেডিকেল, যেখানে সবচেয়ে বেশি বিদেশীরা অধ্যয়নরত। উনি উনার ডাক্তারদের সাথে আমাকে নিয়ে কিছুক্ষণ মজা করলেন। বলছিলেন, "Sudhindra I thought your sleeping so you brought a new recruit for your replacement!" Dr Sudhindra ও জবাব দিলেন, "Sir, thanks to Jesus you didn't consider him the new HOD of your Department!"।  

বেশ অনেক হাসাহাসির পর নিজেকে দেখিয়ে জানতে চাইলেন, "What is your first impression on this fat man?" সবাই হাসল। আমি বললাম, "Sir, I think your BMI is really high!" আরো অনেক হাসাহাসির পর বুঝিয়ে বললেন পরবর্তী দিনগুলোতে রোগীর খাবার, চলাফেরা কেমন হবে সবকিছু। ভবিষ্যতে কি পড়তে চাই জানতে চাইলেন, শুভকামনা দিয়ে বিদায় নিলেন। 

# সেদিন রাতে ইউরোলজী ওয়ার্ডের করিডোরে থাকার কথা নার্সরা জানিয়েছিল দিনেই। রাতে একা বোর হয়ে যাব। তাই ভেল্লুর মেডিকেলের বন্ধুদের ফোন দিলাম রাতে সাথে থাকার জন্যে। জানাল, পরীক্ষা চলছে। তারপর ইঞ্জিনিয়ার বন্ধু Tintu Jacob কে ফোন দিলাম। সে সন্ধ্যায়ই গাড়িতে উঠে পড়বে জানাল। রাতটা ওর সাথে গল্প করে কাটানোর প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম। Dr Johann এবং Dr Sudhindra এর দেখা পেলাম। ওদের রুমে ডাকল আমাদের। কথা বললাম। দুজনেই MBBS, DNB, MS সব কয়টা এই মেডিকেল থেকেই করেছে। ওদের ডিউটি সকাল ৭ টা থেকে রাত ১১টা। বিকালে ১ ঘন্টার ব্রেক। দুপুরে লাঞ্চ আর সকালের ব্রেকফাস্ট এর ব্রেক আছে ৩০ মিনিটের। জিজ্ঞেস করলাম, প্রাইভেট চেম্বার করে কিনা? জানালো এত খাটুনির পর আবার চেম্বারের টাইম কই। তাছাড়া সব জায়গায় Dr Nirmal, Dr Anthony sir এর মত সিনিয়র নেই। এদের পাশে ৫ মিনিট দাঁড়ালেও যা শেখা যায়, অন্য কোথাও ২-৩ বছরেও শেখা যায় না। জিজ্ঞেস করলাম, ঝাড়ি দেয় না ভুলের জন্য? কিংবা গালমন্দ? একদম অবাক হয়ে গেল। ভুলের জন্য গালমন্দ দেবার কি আছে? ভুল হলে নিজে শিখিয়ে দেয়। বুঝলাম ওদের মধ্যে অনেক দারুণ বোঝাপড়া। ওদের নিজেদের প্রতি আত্নসন্মানকে সন্মান দেখিয়ে বেতনের কথা জিজ্ঞেস করিনি। অনেক গালগল্প শেষে দিনগুলো শেষ করে রিলিজ নিয়ে এসেছিলাম।

রিপোর্ট গুলো প্রিন্ট করে পাঠিয়ে দেবার জন্য ঠিকানা দিয়ে এসেছিলাম যেন ডাকে পাঠিয়ে দেয়, দিয়েছিল সঠিকভাবে। মোট তিন পোস্টে আমি Dr Devi Shetty'র হাসপাতাল এবং Christian Medical College, vellore নিয়ে আমার অভিজ্ঞতা, অবজারভেশন জানালাম। আমার পোস্টের উদ্দেশ্য ছিল, মূলত তাদের দেশের চিকিৎসার সাথে আমাদের দেশের চিকিৎসার একটি তুলনামূলক চিত্র তুলে ধরা। আমি চেষ্টা করলাম আমাদের ডাক্তার কমিউনিটির লোক যারা হয়ত অনেকে সেখানকার চিকিৎসা ব্যবস্থার সম্পর্কে অবগত নন অথবা কেন ভারতীয় ডাক্তারদের বাজারদর বেশি সেটা জানানোর। কারো উপকারে এসে থাকলে খুশি হব।

আরও পড়ুন-

বাংলাদেশিদের ভারতীয় চিকিৎসার উপাখ্যান: পর্ব-১ 

বাংলাদেশিদের ভারতীয় চিকিৎসার উপাখ্যান: পর্ব-২ প্রথম খণ্ড

সংবাদটি শেয়ার করুন:

 


সম্পাদকীয় বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

কেন এই পরকীয়া?

কেন এই পরকীয়া?

পরকীয়া শব্দটা দেখেই আমার রুচিবোধ নিয়ে অনেকেই সন্দিহান হলেও লেখাটা ঠিকই পড়বেন।…

মৃত ব্যক্তির কিছু অস্বাভাবিক ঘটনা!

মৃত ব্যক্তির কিছু অস্বাভাবিক ঘটনা!

' আপনি কইলেন্ রোগী মইরা গেছে ...... অহনে রোগী দেহি হাত পা…

সব ঝড়-ঝাপটা জুনিয়র ডাক্তারদের ওপর!

সব ঝড়-ঝাপটা জুনিয়র ডাক্তারদের ওপর!

একটা হসপিটালের লিফট নষ্ট। একজন অসুস্থ রোগী যাঁর কিনা হাঁটতেই কষ্ট হচ্ছে, তাঁকে…

‘উটপাখির দেশে একটি ডান হাতের গল্প’

‘উটপাখির দেশে একটি ডান হাতের গল্প’

বিবেকের কাছে হেরে যাওয়ার চাইতে মৃত্যুর কাছে হেরে যাওয়া কি বেশি ভালো?…

ব্রেস্ট সমস্যায় রোগীরা যে কারণে ভোগান্তিতে পড়ে

ব্রেস্ট সমস্যায় রোগীরা যে কারণে ভোগান্তিতে পড়ে

সার্জারিতে মেয়ে ডাক্তার কম হওয়ার কারণে অনেক ডাক্তার, মেডিকেল শিক্ষার্থী নারী রোগীর…

ডাক্তারদের ‘কসাই’ উপাধি এবং বাংলাদেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থা

ডাক্তারদের ‘কসাই’ উপাধি এবং বাংলাদেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থা

ডাক্তারদেরকে কসাই বলা বা হাসপাতালকে কসাইখানা বলার প্রচলন সাম্প্রতিক বাংলাদেশের কমিশনখোর বা…



জনপ্রিয় বিষয় সমূহ:

দুর্যোগ অধ্যাপক সায়েন্টিস্ট রিভিউ সাক্ষাৎকার মানসিক স্বাস্থ্য মেধাবী নিউরন বিএসএমএমইউ স্বাস্থ্যমন্ত্রী ঢামেক গবেষণা ফার্মাসিউটিক্যালস স্বাস্থ্য অধিদপ্তর