১২ এপ্রিল, ২০১৮ ০৩:৩৯ পিএম

অসহায় মুমূর্ষু রোগীর জীবন বাঁচাতে রক্ত দিলেন চিকিৎসক

অসহায় মুমূর্ষু রোগীর জীবন বাঁচাতে রক্ত দিলেন চিকিৎসক

কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে অসহায় মুমূর্ষু রোগীর জীবন বাঁচাতে রক্ত দিলেন গাইনী বিভাগের ইন্টার্ন চিকিৎসক ডা. ওমর ফারুক ও ডা. আপন সাহা।

গত মঙ্গলবার (১০ এপ্রিল) কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সেলিনা আক্তার (৩৫) নামের মুমূর্ষু রোগীর জীবন বাঁচাতে রক্ত দিয়েছেন এই দুইজন চিকিৎসক। 

জানা যায়, গত মঙ্গলবার বেলা ১২টার দিকে কুমিল্লা জিলার চান্দিনা শ্ৰীমন্তপুর গ্রামের বর্গাচাষী সুলতান আহমেদের স্ত্রী সেলিনা আক্তারকে মুমূর্ষু অবস্থায় কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তখন রোগীর প্রচুর পরিমাণে রক্তপাত হচ্ছিল। শরীরের পালস এবং ব্লাড প্রেসার ছিল না। কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাকে পরীক্ষা করে দেখেন সে অন্ত:সত্ত্বা। হাসপাতালে আনার আগেই তার জরায়ু সংলগ্ন টিউব ফেটে গিয়ে রোগীর শারীরিক অবস্থা সংকটাপন্ন অবস্থায় ছিল।

এসময় রক্তশূন্যতার কারণে প্রচুর পরিমাণ ও পজেটিভ রক্তের প্রয়োজন হয়। কিন্তু ওই রোগীর সাথে তার কোনো স্বজন না থাকায় ডাক্তাররা বিপাকে পড়েন। পরে রোগীর জীবন বাঁচাতে তারা নিজেরাই রক্ত সংগ্রহে নামেন। রক্তের গ্রুপ মিলে যাওয়ায় গাইনী বিভাগের ইন্টার্ন চিকিৎসক ডা. ওমর ফারুক ও ডা. আপন সাহা ওই রোগীর জন্য রক্ত প্রদান করেন। 

কুমেক হাসপাতালের গাইনী বিভাগের প্রধান ডা. করুনা রানী কর্মকারের পরামর্শে বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে ডাক্তার ইশান, ডা, আসমা ও ডা. ইসরাত এর তত্ত্বাবধানে অপারেশন সম্পন্ন করা হয়।

এ বিষয়ে রোগীর স্বামী সুলতান মিয়া জানান, তিন সন্তানের জননী সেলিনা আক্তারের মঙ্গলবার সকালে প্রচুর বুক ব্যথা শুরু হয়, বাড়িতেই সে অজ্ঞান হয়ে পড়ে। পরে তাকে চান্দিনা সেন্ট্রাল হাসপাতালে নিয়ে আসার পর সেখানকার ডাক্তাররা তাকে কুমিল্লা নিয়ে আসতে বলেন। তাই তাকে কুমিল্লা মুন হাসপাতালে নিয়ে গেলে তার অবস্থা খারাপ দেখে ডাক্তাররা কুমিল্লা মেডিকেল কলেজে নিয়ে আসার পরামর্শ দেন। 

তিনি বলেন, রোগীর জীবন রক্ষার মালিক আল্লাহ, কিন্তু আমার স্ত্রীকে বাঁচাতে ডাক্তাররা নিজের রক্ত দেয়ার পাশাপাশি যে প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। এটাকে আমি আল্লাহর রহমত মনে করছি। আমি ডাক্তারদের কাছে কৃতজ্ঞ। 

ডা. করুনা রানী কর্মকার জানান, রোগীর গর্ভের সন্তান জরায়ুতে না হয়ে পাশের টিউবে জন্মেছিল, এতে টিউব ফেটে গিয়ে রক্তপাত শুরু হয়। মুমূর্ষু অবস্থায় আমাদের কাছে আসলে আমরা তৎক্ষনিভাবে তার অপারেশন করি। রোগী এখনও আশংকামুক্ত নয়।

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
নিবন্ধনহীন ওষুধ লিখলে চিকিৎসকের শাস্তি
জাতীয় ওষুধনীতি-২০১৬’ এর খসড়ার নীতিগত অনুমোদন

নিবন্ধনহীন ওষুধ লিখলে চিকিৎসকের শাস্তি