ঢাকা      বৃহস্পতিবার ২০, সেপ্টেম্বর ২০১৮ - ৫, আশ্বিন, ১৪২৫ - হিজরী



অধ্যাপক শুভাগত চৌধুরী

পরিচালক, ল্যাবরেটরি সার্ভিসেস বারডেম, ঢাকা


ডায়াবেটিস রোগীর কিছু নিয়মিত স্বাস্থ্য চেক আপ

ডায়াবেটিস এমন একটি রোগ যা মানুষের শরীরের অনেক অংশে প্রভাব ফেলে। আগে ভাগে রোগ ধরতে পারলে সম্ভাব্য অনেকগুলো সমস্যাই কার্যকর মোকাবেলা করা যায়। তাই ডায়াবেটিস সম্পর্কিত সমস্যাগুলো আগে চিহ্নিত করতে হলে রোগীকে বছরে কয়েকবার কিছু টেস্ট করতে হয়। 

নিয়মিত টেস্ট করানোর সুযোগ সুবিধা থাকলে ডায়াবেটিস রোগীর স্বাস্থ্য ভালো থাকে দীর্ঘ দিন। কিছু টেস্ট বছরে একবার করাতে হয়, তবে স্বাস্থ্যের অবস্থা বিশেষে ডাক্তার বছরে একাধিকবারও টেস্ট করাবার পরামর্শ দিতে পারেন।

চোখ পরীক্ষা-
চক্ষু চিকিৎসকগণ চোখ পরীক্ষা করে নির্ণয় করতে পারেন রক্তের উচ্চমাত্রা সুগার বেশ কিছু দিন থেকে যাওয়াতে চোখের রেটিনাতে ক্ষতি হলো কিনা। ডায়াবেটিস রোগীর চোখের সমস্যা অনেক সময় নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। সম্ভবত: খন্ডনও করা সম্ভব, তবে সেজন্য চাই রক্তের গ্লুকোজকে সুনিয়ন্ত্রণ করা। অনেক রোগীর দৃষ্টিশক্তিকে রক্ষা করার জন্য শল্য চিকিৎসার প্রয়োজন হয়।

স্বাস্থ্য পরীক্ষা- 
প্রতি বছর প্রত্যেকের জন্যই সাধারণ স্বাস্থ্য চেক আপ করা ভাল। যদিও ডায়াবেটিস চিকিৎসকগণ প্রায় সময় রক্তের সুগার নিয়ন্ত্রণের দিকেই বেশি নজর দেন, শরীরের সার্বিক কুশলও নিঃসন্দেহে খুব গুরুত্বপূর্ণ।

কিডনী টেস্ট-
দুটো টেস্ট মাধ্যমে কিডনীর স্বাস্থ্য পরিমাপ করা যায়। যেমন-মাইক্রোএলবুমিন এবং ক্রিয়েটিনিন। মাইক্রোএলবুমিন টেস্ট করলে প্রস্রাবে প্রোটিনের উপস্থিতি সম্বন্ধে জানা যায়। রক্তের উচ্চ মাত্রার সুগার কিডনী সূক্ষ্ম রক্তনালীর ক্ষতি করলে এমন হতে পারে। চিকিৎসা না করালে কিডনী এক সময় নিষ্ক্রিয় হয়ে যেতে পারে। রক্তে ক্রিয়োটিনিনের মান মাপলে জানা যায় কিডনী কতটা কার্যকরভাবে বর্জ্য নিষ্কাশন করতে পারছে।
 
লিপিড প্যানেল-
রক্তে কোলেস্টেরল, চর্বি মান অস্বাভাবিক থাকলে হৃদরোগের ও রক্তনালী রোগের সম্ভাবনা থাকে, এটি হলো ডায়াবেটিসের একটি সম্ভাব্য জটিলতা। লিপিড প্যানেল টেস্ট করে রক্তে চর্বির মাত্রা জানা যায়। সাধারণভাবে রক্তের এলডিএল  ১০০-এর নিচে থাকলে এবং এইচডিএল ৪০-এর উপরে থাকলে ভালো।  রক্তের ট্রাইগ্লিসারাইডের মান  ১৫০ এর নিচে থাকলে ভালো।
 
যেসব টেস্ট বছরে একাধিকবার করাতে হয়-
চিকিৎসকের মাধ্যমে রক্তচাপ মাপাতে হবে। রক্তে সুগার বেশি থাকলে উচ্চ রক্তচাপও হতে পারে, তবে কোনা সতর্ক সংকেত পাওয়া যায় না। রক্তের চাপের মান হৃদস্বাস্থ্য ও রক্তনালীর স্বাস্থ্য নির্দেশ করে।
 
পা পরীক্ষা-
বছরে  দু’বার দুটো পা পরীক্ষা করানো উচিত। কোনও ফাটাফোটা, ক্ষত, ফোড়া, ঘা আছে কিনা। রক্ত চলাচল কমে গেলে এমন হতে পারে। চিকিৎসক মনোফিলামেন্ট দিয়ে পরীক্ষা করতে পারেন পায়ের চেতনা আছে কিনা। চিকিৎসক সেক্ষেত্রে বিশেষ জুতো পরতে অথবা ওষুধও দিতে পারেন।
 
হিমোগ্লবিন এ ওয়ান সি-
বছরে তিন বার এ পরীক্ষা করানো ভালো। বিগত দুই থেকে তিন মাসে রক্তে গ্লুকোজের  গড় মান এই পরীক্ষা করে বোঝা যায়। গ্লুকোজ মান ব্যবস্থাপনার কতটুকু কার্যকর হচ্ছে তা বোঝা যায়। এ ওয়ান সি মান বেঠিক থাকলে বোঝা যায় গ্লুকোজ ব্যবস্থাপনা ঠিকমত হচ্ছে না।

সংবাদটি শেয়ার করুন:

 


স্বাস্থ্য বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

হাইমেন সমাচার অথবা সতীচ্ছেদ মিথ

হাইমেন সমাচার অথবা সতীচ্ছেদ মিথ

উমম... কীভাবে যে শুরু করি! ব্যাপারটা এমন যে, এসব নিয়ে আমরা সাধারনত…

সঠিক নিয়ম মেনে ডায়েট করুন

সঠিক নিয়ম মেনে ডায়েট করুন

দরজা খুলেই রুমে তড়িঘড়ি করে ঢুকল মেয়েটা। সঙ্গে তার মধ্যবয়স্ক একজন পুরষ।…

মা তার মেঘে ঢাকা তারা

মা তার মেঘে ঢাকা তারা

শুভ্র মেডিকেলে ফাইনাল ইয়ারে পড়ে তখন। হঠাৎ এক সকালে বাবা তাকে ফোন…

একা একা কথা বলা

একা একা কথা বলা

সেল্ফি শব্দের সাথে আমরা সবাই পরিচিত। নিজেই নিজের ছবি তুলা কে বলে…

প্যানক্রিয়াটাইটিস নিয়ে কিছু কথা

প্যানক্রিয়াটাইটিস নিয়ে কিছু কথা

Hypercalcemia Pancreatitis করে, আর Pancreatitis হওয়ার পর Hypocalcemia হয়। কারণ leak হওয়া…

কিডনি রোগ সমাচার

কিডনি রোগ সমাচার

গাঁয়ের মোড়ল মকবুল হাজি সারা বাংলার ডাক্তার ও কবিরাজ দেখানো শেষ করে…



জনপ্রিয় বিষয় সমূহ:

দুর্যোগ অধ্যাপক সায়েন্টিস্ট রিভিউ সাক্ষাৎকার মানসিক স্বাস্থ্য মেধাবী নিউরন বিএসএমএমইউ স্বাস্থ্যমন্ত্রী ঢামেক গবেষণা ফার্মাসিউটিক্যালস স্বাস্থ্য অধিদপ্তর