অধ্যাপক ডা. এবিএম আবদুল্লাহ

অধ্যাপক ডা. এবিএম আবদুল্লাহ

প্রখ্যাত মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ও একুশে পদকপ্রাপ্ত চিকিৎসক 

 


০৮ এপ্রিল, ২০১৮ ১০:৫২ এএম

সার্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা বাস্তবায়ন করা বড় চ্যালেঞ্জ

সার্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা বাস্তবায়ন করা বড় চ্যালেঞ্জ

মানুষকে আর্থিক বিপর্যয়ে পড়তে অতিরিক্ত স্বাস্থ্য ব্যয়ের কারণে সর্বশান্ত হতে হয়। সর্বশেষ ২০১৫ সালে প্রকাশিত ন্যাশনাল হেলথ একাউন্ট এর তথ্যে জানা যায়, স্বাস্হ্যসেবা নিতে গিয়ে জনপ্রতি ১’শ জনের মধ্যে ৬৭ টাকাই  মানুষের পকেট থেকে যায়। যা ২০১২ সালে ছিলো ৬৩ টাকা। আমরা এমন একটা সময়ে স্বাস্থ্য দিবস পালন করছি যে সময়টাতে আমাদের দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় কিছুটা অস্বস্তিকর ও বিশৃঙ্খল অবস্থা বিরাজ করছে। জনগণের মধ্যে ভয়-ভীতি ও ক্ষোভ এবং চিকিৎসা সেবার প্রতি অনাস্থা বেড়ে যাচ্ছে।

কয়েকদিন আগে এক পত্রিকার শিরোনাম ছিলো, চিকিৎসা সেবা পাতালে। সেবার নামে বেহাল অবস্থা। অভিজাত হাসপাতালগুলো বাণিজ্য নিয়ে ব্যস্ত। সরকারি হাসপাতালে বেহাল অবস্থা। সাধারণ মানুষ জিম্মি, টাকা দিয়েও চিকিৎসা মেলে না। ভুল চিকিৎসায় ২০ জনের চোখ নষ্ট। আমাদের দেশে জনসংখ্যা বেশি। রোগীর সংখ্যা অনুপাতে আসলে ডাক্তার, ওষুধপত্র, জনবল বা পরিক্ষা-নিরীক্ষা সহ সব অবস্থা সীমিত। ফলে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর মাঝে চিকিৎসা এখন আর মৌলিক অধিকার নয়। কেউ এটা পাচ্ছে, কেউ পাচ্ছে না।

এরপরও যদি কাউকে জিজ্ঞেস করা হয়, কেমন চলছে বাংলাদেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা? ডাক্তার ও রোগীর সম্পর্ক কেমন? উত্তর পাওয়া যাবে নেতিবাচক। উচ্চবৃত্ত থেকে নিম্নবিত্ত, শিক্ষিত থেকে অশিক্ষিত সবার মাঝে বিরূপ মনোভাব বিরাজ করছে।

আমাদের বিরুদ্ধে অনেক অভিযোগ রয়েছে। যেমন ডাক্তাররা আমাদের সাথে কথা বলে না, যত্ন সহকারে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে না। এমনকি কথা না বলেই ওষুধ লিখে দেয়। ডাক্তাররা কথা ঠিক মতো শোনে না, গাদা গাদা ওষুধ লিখে দেয়, রোগ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে বুঝিয়ে বলে না; বরং অনেক সময় ধমক দেয়। আসলে একথাগুলো সব মিথ্যে নয়। এর কিছু বাস্তবতাও আছে। আমরা যদি এগুলো দূর করতে না পারি। তাহলে সার্বজনীন স্বাস্থ্য সেবা বাস্তবায়ন করা একটা বড় চ্যালেঞ্জ। একা বা কোনো গোষ্ঠীর পক্ষে এটা সম্ভব হবে না।

মানুষের স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিতকল্পে সরকারের পাশাপাশি আমরা যারা চিকিৎসক, রোগী, সুশীল সমাজ, অন্যান্য পেশাজীবী সংগঠন, বিভিন্ন চিকিৎসা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান এমনকি মিডিয়া কর্মীদের দায়িত্ব অনেক বেশি রয়েছে। শুধু রোগীর চিকিৎসা না, রোগের চিকিৎসা না, রোগী যে একটা মানুষ ডাক্তারের ওপর এ দায়িত্বটা বর্তায়।

রোগীর সমস্যাগুলো শুনতে হবে। চিকিৎসার ফলাফল তাদের ভালোভাবে বুঝিয়ে বলতে হবে। যেগুলো নিরাময়যোগ্য নয় সেগুলো রোগীকে বলা সম্ভব না হলে তার আত্মীয়-স্বজনকে সেটা বলে দিতে হবে। মেডিকেলের ভাষায় এটাকে বলা হয় কাউন্সেলিং। বলতে গেলে এই অভাবটা ডাক্তাদের মধ্যে প্রচণ্ডভাবে আছে। এ কারণে ডাক্তার রোগীদের সম্পর্ক মধুর না হয়ে, হয়ে যায় তিক্ত। আর সব দিক থেকে চিকিৎসা ব্যয় কিন্তু মারাত্মকভাবে বেড়ে যাচ্ছে। এটার লাগাম ধরে রাখতে হবে।

আরেকটা কথা বলতেই হবে, এখানে গণমাধ্যমের ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। প্রিয় সাংবাদিকগণ, প্রিন্ট মিডিয়া, অনলাইন মিডিয়া ও অন্যান্য সংবাদ কর্মীবৃন্দ এক্ষেত্রে আপনাদের ভূমিকা অনেক গুরুত্বপূর্ণ। আপনাদের ছাড়া জনসচেতনতা তৈরি অসম্ভব।

রেফারেল সিস্টেম চালু করা উচিত। এটা ছাড়া চিকিৎসার চাপ কমানো সম্ভব না। একটা বিষয় করা যায় যে, হাসপাতালগুলোতে ডিউটি রোস্টার থাকে। এখানে অনেক ডাক্তার থাকে না। বিশেষ করে ছুটির দিনে। এটা ঠিক করা উচিত যাতে সিনিয়ররা স্বাস্থ্যসেবা দিতে পারে। শুধু ডাক্তার নয় চিকিৎসা সেবা সংশ্লিষ্ট সমস্ত কর্মচারীদের প্রতি আমার অনুরোধ ধর্মঘট নামক ধ্বংসাত্মক কাজটি পরিহার করুন। দাবি আদায়ের অনেক মাধ্যম আছে।

আরেকটা বিষয়ে বলতে চাই, ক্যাম্পাসে রাজনীতি কমানো গেলে ভালো, আর না করলে আরো ভালো। আমি মনে করি যে যা খুশি করতে পারেন। আমি মনে করি ক্যাম্পাসের মধ্যে রাজনীতি বেশি নিয়ে আসলে রোগীর স্বাস্থ্যসেবায় অসুবিধা হয়, ছাত্রদের পড়াশুনার ক্ষতি হয়, হাতে-কলমে শিক্ষিত হয় না, ভালো ডাক্তার হয় না। এটা যদি দূর করা না যায় তাহলে আমাদের লক্ষ্য বাস্তবায়নে অসম্পূর্ণতা থেকে যায়।

Add
একজন এফসিপিএস পরীক্ষা উত্তীর্ণ চিকিৎসকের অনুভুতি

পরীক্ষা প্রস্তুতির শেষের কয়েকদিন মেয়ের সাথে দেখা করতে পারিনি

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
নিবন্ধনহীন ওষুধ লিখলে চিকিৎসকের শাস্তি
জাতীয় ওষুধনীতি-২০১৬’ এর খসড়ার নীতিগত অনুমোদন

নিবন্ধনহীন ওষুধ লিখলে চিকিৎসকের শাস্তি