ডা. বাহারুল আলম

ডা. বাহারুল আলম

প্রখ্যাত পেশাজীবী নেতা


০৭ এপ্রিল, ২০১৮ ০৩:৫৫ পিএম

ব্রিটিশরা আদর করে নাম রেখেছিল 'সিভিল সার্জন'

ব্রিটিশরা আদর করে নাম রেখেছিল 'সিভিল সার্জন'

ব্রিটিশরা আদর করে স্বাস্থ্য প্রশাসনে পদের নাম রেখেছিল 'সিভিল সার্জন'। যা আজও পরিবর্তন করা যায়নি। নিচে UH & FPO,উপরে পরিচালক, তার উপরে মহাপরিচালক, তার উপরে সচিব। পদের নামের মধ্যে কোন ধারাবাহিকতা নাই, ব্যাপক গড়মিল। এই গড়মিলের মাঝে এক পদের অদ্ভুত নাম `সিভিল সার্জন'।

মন্ত্রণালয়, অধিদপ্তর, বিএমএ, বিএমডিসি ঔপনিবেশিক শাসন পদ্ধতির স্মৃতি রক্ষার্থে রেখে দিয়েছে এ নাম। আমরা গর্ব করে বলি, এ এক ঐতিহাসিক নাম।

রাষ্ট্র ও সমাজে এখনো রয়ে গেছে ব্রিটিশের দেওয়া চৌধুরী, খান বাহাদুর, রায় বাহাদুর, তালুকদার, হাওলাদার...। ব্রিটিশ চলে গেলেও তাদের দেওয়া নাম রয়ে গেছে। কেবল স্বাস্থ্য প্রশাসনে নয়, রাষ্ট্রের অন্যান্য প্রশাসনের অবস্থা আরও নাজুক। পুলিশ ও জন প্রশাসনের পদের নামের কোন পরিবর্তন হয় নাই। কেবল মাঝখানে ডেপুটি কালেক্টরের নাম পরিবর্তন হয়ে ডেপুটি কমিশনার হয়েছে। খাজনা আদায়কারি থেকে এখন সে জেলা প্রশাসক। কমিশনারের অর্থ ‘প্রশাসক’হয়ে গেল কি করে? হাইকোর্ট ছাড়া জনগণের কাছে জবাব দিতে রাষ্ট্রের কর্ণধারদের শরম লাগে। হুমায়ুন আহমেদের নাটকের সংলাপের ভাষায় লোইজ্জা করে।

আজও অফিসের বড়বাবু নাম ঘোচান গেল না। বাবুদের তালপুকুরে এখনো আমরা হাবুডুবু খাচ্ছি। স্বাধীন রাষ্ট্রে এ নামের পরিবর্তনে মুক্তিযুদ্ধের কোন ছায়া লাগেনি। এ সকল ক্ষেত্রে স্বাধীন রাষ্ট্র নূতন কোন পদের নাম সৃষ্টি করতে পারেনি। রাষ্ট্র কেবল স্বাধীনতার নামে হাত বদল হয়েছে।

ব্রিটিশের দেওয়া চিটাগাং থেকে নিজ নামে ফেরত আসলো চট্টগ্রাম। অথচ পরিবর্তনকারীরা সিভিল সার্জন সহ আরও অনেক নাম পরিবর্তন করতে পারতেন, করেননি। জাতি এখনো গর্বভরে ব্রিটিশের ঐ কলঙ্কিত নাম উচ্চারণ করতে ভালবাসে। জনমনে উপনিবেশ রয়েই গেছে। মুখে স্বাধীনতার গান, হৃদয়ে উপনিবেশ– এ বাস্তবতা নিয়েই আমরা ৪৭ বছর অতিক্রম করলাম। 

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
নিবন্ধনহীন ওষুধ লিখলে চিকিৎসকের শাস্তি
জাতীয় ওষুধনীতি-২০১৬’ এর খসড়ার নীতিগত অনুমোদন

নিবন্ধনহীন ওষুধ লিখলে চিকিৎসকের শাস্তি