ঢাকা      মঙ্গলবার ২৪, এপ্রিল ২০১৮ - ১১, বৈশাখ, ১৪২৫ - হিজরী




তুমি কখনো ফিরিশতা দেখেছো?

কেউ যদি আমায় প্রশ্ন করে, 'আচ্ছা, তুমি কখনো ফিরিশতা দেখেছো'?

আমি সেই সময়ে যে উত্তরটি দিতে চাই, সেটি হচ্ছে, 'হ্যাঁ, আমি দেখেছি। আমার দেখা সেই দুনিয়ার ফিরিশতারা হচ্ছেন, সার্জারির পিবি রায় স্যার, ইএনটি অর্থাৎ নাক-কান-গলার কমল কৃষ্ণ চাচা (তাঁকে এভাবে পরিচয় করিয়ে দেওয়াটাই ভালো মনে হচ্ছে), নেফ্রোলজীর প্রদীপ দত্ত স্যার, নিউরোমেডিসিনের শিউলী মজুমদার ম্যাম, নিউরোসার্জারির এল.এ কাদেরি স্যার, গাইনোকলোজির রোকেয়া ম্যাম, মেডিসিনের খালিদ হাসান স্যার, এনাটমীর মনসুর খলিল স্যার, কান্তা রায় ম্যাম এবং আরো অনেকে। 

আমার দেখা ফিরিশতাদের সংখ্যা এতো বেশি যে, এই তালিকা শেষ করাটা আমার জন্য খানিকটা কষ্টকর-ই হবে! 

'বাঙালিয়ানা' ধরে রাখতে আমরা পান্তা ইলিশ খাই। আমাদের ভালোবাসার মানুষগুলোর সাথে বাইরে বেরোই কিন্তু তাঁরা পহেলা বৈশাখেও হাসপাতালেই ডিউটিতে থাকেন। আমাদের নতুন বছরের প্রথম দিন, 'পহেলা বৈশাখ' উদযাপন, তাদের নিত্যকার রুটিনে কোন পরিবর্তন আনে না। আমরা আমাদের প্রিয় রঙের পোশাক পরি, পান্জাবি আর বাসন্তী রং শাড়িতে সেজেগুজে বাইরে বেরোই, হয়তো সেই সময়েও তারা কোন একজন এ্যাড্রেনাল ক্রাইসিসের রোগীর চিকিৎসায় ব্যস্ত।

আমরা আমাদের প্রিয়জনের সাথে মেসেন্জারে বার্তা আদানপ্রদান করি। তাঁদের প্রিয়জনের নিকট থেকে আসা বার্তা মেসেন্জারে 'সীন' হয়, কিন্তু কোন রিপ্লাই দেওয়ার সুযোগ হয়তো তাদের হয়ে ওঠে না; কারণ হয়তো সেই সময়েই কোন মায়োকার্ডিয়াল ইনফার্কশনের রোগীর হার্টের চিকিৎসায় তাঁদের ব্যস্ত সময় কাটছিলো! 

আমরা যখন প্রিয় কারো সাথে পাহাড়ের চূড়ায় বয়ে চলা মৃদুমন্দ বাতাস হৃদয় দিয়ে অনুভব করছি, সেই সময় হয়তো তাঁদের কেউ একজন ব্যস্ত সিওপিডির(মারাত্মক শ্বাসকষ্ট) কোন রোগীকে একটু স্বস্তির ব্যবস্থা করে দিতে! অথবা ঈদের কথাই ধরা যাক! আমরা সবাই মিলে সেমাই, পায়েস, বিরিয়ানি যা ইচ্ছে খাচ্ছি, কিন্তু তাঁরা কী করছেন? তারা ডিউটি করছেন। 'একিউট অ্যাবডোমেন' অথবা 'অ্যাবডোমিনাল পারফোরেশনের' রোগীকে ম্যানেজ করছেন, চোখে ছানি পড়া মানুষকে ফিরিয়ে দিচ্ছেন চোখ দিয়ে পৃথিবীকে ছুয়ে দেখার ক্ষমতা। 

'মা' হওয়া, প্রত্যেক মহিলার জীবনের শ্রেষ্ঠতম পাওয়া। গর্ভবতী মা যখন গভীর রাত্রে অবস্ট্রাক্টেড লেবার নিয়ে হাসপাতালে আসেন, তখন তাঁর পাশে কে থাকেন? ফিটাল ডিসট্রেস বা একলাম্পশিয়া নিয়ে আসা মায়ের বিছানার পাশে উদ্বিগ্ন মুখে কে দাঁড়িয়ে থাকেন? 

আমাদের ঈদ বা পূজোর ছুটি কিভাবে কাটাই? পরিচিত সবার সাথে হাসিখুশি মুখে, তাই না? কিন্তু তাঁরা কিভাবে ছুটিটা কাটান?

তাঁদের সার্জারির যন্ত্রপাতির সাথে। মুচকি একটা হাসি মুখে ঝুলিয়ে তাঁরা তাঁদের কাজ করে যান এমনভাবে যেন হাতের গ্লাভস তাঁদের মেহেদি এবং স্টেথোস্কোপ তাঁদের গলার হার। এমনতর আত্মত্যাগ করতে থাকা ডাক্তারেরা রোগীকে সবচেয়ে কম সময়ে সম্পূর্ণ সুস্থ করে তোলার জন্য চেষ্টা করতে থাকেন। এবং আমরা খুব দ্রুতই, তারাও যে মানুষ, এই ব্যাপারটা ভুলে যাই। তাদের দোষ দিতে থাকি, কেন তাঁরা আমার রোগীকে বাঁচাতে পারলেন না? রোগী যখন জীবন ও মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে থাকেন, তখন এই ডাক্তারদেরকেই আমাদের সবচাইতে বেশি প্রয়োজন হয়। আবার তাদেরকেই যদি এমন প্রশ্নবানে জর্জরিত করি, সেটা কি তাদের প্রতি চূড়ান্ত অসম্মান নয়?

একিউট ইরিভার্সিবল পালপাইটিসে আক্রান্ত রোগী যখন দাঁতব্যথায় প্রচন্ড ব্যথা পায়, তার ব্যথা কমানোর জন্য যিনি পাশে এসে দাঁড়িয়ে RCT বা Pulpectomy করেন, তিনি একজন ডেন্টাল সার্জন ছাড়া আর কেউ নন। 

আমাদের বিপদে-আপদে তাঁরা পাশে এসে দাড়ালেও তাঁদের প্রতি আমাদের ব্যবহার খুব বেশী সহানুভূতিপূর্ণ কখনোই ছিলো না। তাঁদের দুঃসময়ে আমাদের পাশে এসে দাড়াই না। অপমানিত এবং মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে তারা খুব একা হয়ে যান। 

কর্তৃপক্ষের লজ্জাকর ব্যবহারে তারা চাকরি ছেড়ে দিতে বাধ্য হন। ঘরবাড়ি ছেড়ে বিদেশে চলে যেতে বাধ্য হন। খুব কমসংখ্যকই এতো সমস্যার পরও জনসাধারণের শুভাকাঙ্ক্ষী হয়ে দেশে রয়ে যান। আচ্ছা, ডাক্তারেরা কি আমাদের সমাজের অংশ নন? তাদেরকে ছাড়া আমাদের জীবনের একটা দিনও কি কল্পনা করতে পারি? তারা সবাই যদি মাত্র একদিন চিকিৎসা সেবা দেওয়া বন্ধ করে দেন, কি অবস্থা হবে, ভেবে দেখেছি? সংবাদপত্রে কি আমরা কখনোই তাদের এ দুঃখ-দুর্দশার কথাগুলো শুনি? 

ডাক্তারদের বিরুদ্ধে সবচেয়ে প্রচলিত যে অভিযোগ, তা হচ্ছে 'ভুল চিকিৎসা'। কিন্তু একজন নন-মেডিকেল মানুষ, যার মেডিকেল বিষয়ক প্রকৃত জ্ঞানই নেই, কিভাবে ডাক্তারের মেডিকেল বিষয়ক জ্ঞানের ভুল ধরে?

আপনার মনে হতে পারে, আমার বাগদত্তা মেডিকেল সাইন্সে পড়াশোনা করে বলেই আমি বিশেষভাবে ডাক্তার সমাজের প্রশংসা শুরু করেছি, তাহলে সম্ভবত আপনি ভুল করছেন। আমি এই লেখাটা কোন পুরষ্কার বা সম্মাননার জন্য লিখিনি এবং এই লেখা দিয়ে তাঁদের কম্যুনিটিতে সেলিব্রেটি হওয়ার কোন ইচ্ছেও আমার ছিলো না। এমন না যে, এই বিরাট স্ট্যাটাস তাঁদের দুরাবস্থা এক নিমিষেই বদলে ফেলবে, বরং আমি শুধু তাঁদের জায়গায় নিজেকে কল্পনা করে তাদের মত করে ব্যাপারগুলো অনুভব করার চেষ্টা করেছি। আমাদের কসাইরা (!) তাদের উৎসব, তাদের আনন্দগুলো বিসর্জন দিচ্ছে, শুধু আমাদের মুখে হাসি ফোটাবার জন্য।

আমার ভুলোমনা সঙ্গীর জন্য আপনাদের কাছে দোয়া চাইছি। কারণ মানবতার জন্য সে নিজেকে উৎসর্গ করতে চায় (সম্ভবত এই লেখাটা পড়ার পর সে আমাকে মেরে ফেলতে চাইবে এবং আমি তার হাতে মরতেও রাজি আছি )। ইনশাআল্লাহ, আমি তাকে পুরোটো জীবন সাহস দিয়ে যাবো। আমি এমন একজন হতে চাই, যাকে সে সারাজীবন বিশ্বাস করতে পারে। মধ্যবিত্ত পরিবারের একজন হিসেবে হয়তো তাঁর FRCS/MRCP কোর্সের পুরো খরচ বহন করাটা আমার জন্য কষ্টকর হতে পারে, কিন্তু আমি অন্তত তার জন্য রাতের খাবারটুকু তৈরী করে রাখতে পারি; রাতের বেলা ডিউটি থাকলে তার জন্য সকালের নাস্তাটা তৈরি করে রাখতে পারি। আমি চাই, সে যেন গর্বিত গলায় বলতে পারে, আমার স্বামী একজন 'নন-মেডিকেল'। 

আমার কথা প্রায় শেষ হয়ে এলো। প্রতিটি পেশাই আসলে মেধাবী এবং পরিশ্রমীদের চায়। সফলতা আসে এ দুইটির সমন্বয়ে। কিন্তু যদি কেউ ডাক্তার হতে চায়, মেধা আর পরিশ্রমের সাথে তার প্রচন্ড ইচ্ছাশক্তিও প্রয়োজন। স্রষ্টা আমাদের সবাইকে ডাক্তার হওয়ার তৌফিক দেন না। 

আমি আমার শিক্ষাগত যোগ্যতার জায়গা (ইকোনোমিক্স) থেকে হয়তো তাদের জন্য খুব একটা কিছু করতে পারবো না। সম্ভবত অযোগ্য আমায় দিয়ে এমন বড় বড় স্ট্যাটাস পোস্ট করা ছাড়া কিছুই হবে না। কিন্তু কখনো যদি মনে হয় আমায় দিয়ে কিছু করা সম্ভব, আমায় ডাকবেন, ইনশাআল্লাহ, আমি সেখানে থাকবো।

If anyone ever ask me have I met angels?

My answer will certainly go to ‘Yes’. I’ve seen them. They’re: PB Roy Sir from Surgery, Kamol Krishna Uncle (explicit instruction to address so) from ENT, Pradip Dutta Sir from Nephrology, Sheuli Majumdar Ma’am from Neuro Medicine, L.A. Kaderi Sir from Neuro Surgery, Rokeya Ma’am from Gynae, Khalid Hasan Sir from Medicine, (Late) Mansur Khalil Sir, Kanta Roy ma’am from Anatomy. Making an end to that list will be hard for me today as Countless names on my angels list.

We carry out our ‘Bangaliana’ trend enjoying ‘Panta-Ilish’, Going out with loved ones but they carry on Hospital duty in ‘Pahela Baishakh’. Our Year beginning doesn’t bring any difference to them than regular on-duty days. We celebrate our year beginning, we wear our favorite color, going out in Panjabi and ‘Basanti color Sharee’, when they’re busy with the treatment of an ‘Adrenal Crisis’ patient.

We get ourselves busy with our loved ones in messenger, messages from their (Doctors) loved ones are left seen with no reply as They are busy to cure ‘heart’ of their MI patients.

We feel breeze with our beloved touring out for hill station while they are busy to reduce the distress of a COPD patient. We wanna enjoy our EID, chill out with friends and family, taste Semai, Payesh, Biriyani as much as we can and they always pull their duty. They feel irrepressible urge to cure patient who come with ‘acute abdomen’ or ‘abdominal perforation’. Only a doctor is there beside us when ‘Cataract’ fades out our colorful world to gray one.
A woman finds her life most meaningful being a mom, Who will be there when a Mom finds her at hospital in late night due to Obstructed labor? In case of Fetal Distress or Eclampsia, who will be at her bed side?

We pass our Eid/Puja vacations with loved one, they can only reach out to their surgical apparatus. They put on little smile and pull on their duty as if Gloves become Henna & Stethoscope takes place for locket. All of these sacrifice they do to cure a patient in minimum possible time. And we forget their human part easily, wonder why they can’t bring my patient back from death. We, people need them at our crucial moment of life and it’d be a dishonor to their contribution to a patient if I think I can write it here. If a patient needs to see his/her savior angel at late night beside his/her bed, it can only be a doctor.

Isn’t S/he is a Dental Surgeon who keeps him/herself busy to perform RCT (Adult) or Pulpectomy (Child) when patient suffer from unbearable Dental Pain Caused by Acute Irreversible Pulpitis.

Our behavior has not been so pleasant to them though we know them as a friend in need. They pass their bad times, we won’t oblige to share those. Being molested and mentally distressed, S/he finds own self in a path for a loner. Shameless behavior from governing body to abandon them, tends them to leave job, turning their back to their own home and going to abroad. I’ve seen very few of us being their well-wishers while they are facing all of these. Doesn’t a doctor belong to our society? Can we think of living our life without them? What if all of them decide to pull off their duty for a single day? Can we imagine what it will be? It seems media doesn’t focus their sufferings as a part of the society.

Wrong treatment is the most common complain against them. But how can a non-medical person judge them without proper medical knowledge?

If you think I’m interested in praising them as I have my fiancé studying medical science, please don’t. I haven’t written this for any medel or prize neither I want to be a celebrity among their community. It’s not like this large status will reverse their situation. I’m just trying to put me in their shoes in an embarrassing situation & feel their feelings. Our ‘butchers’ are sacrificing their happiness, festivals so happy smile lit up our faces.

I beg all of you to pray for my grumpy and sleepy-mind fiancé (She’ll kill me after reading this & I’m dying to die on her hand) as she needs to sacrifice herself for humanity. I wish she will have my support all along. I need to be her trusted one who will stand beside her in her path of sacrifice. Being brought up as a middle class family child, I can’t assure to fund her fully for her FRCS/MRCP. But I can promise her Dinner ready & the finest breakfast on table when there’ll be (her) night duty. I want her to utter proudly, ‘My husband is a non-medical’.

Near the end of my thoughts, but need to say few more. All profession needs a human to be intelligent and hard-working. Success won’t be achieved without harmony of both. But being a doctor requires pursuit too. Almighty doesn’t make us all equal to be worthy to be a doctor.

I can do very little from my academic background (Economics) for them. Perhaps my empty-worth academic qualification makes me only to post a lengthy status and nothing else. But if it seems that I can help in any way, please send a word. I’ll be there, I promise.

 Written by: Shawkat Ali

সংবাদটি শেয়ার করুন:

 


পাঠক কর্নার বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

মানসিক বিকাশহীন অসুস্থ প্রজন্ম তৈরির জন্য কারা দায়ী?

মানসিক বিকাশহীন অসুস্থ প্রজন্ম তৈরির জন্য কারা দায়ী?

দশ বছরের মেয়ে রাত ১টায় হাসপাতালের ইমার্জেন্সিতে আসল। আমি তাকে জিজ্ঞাসা করলাম,…

বাঙালি ডাক্তারের বিদেশ যাত্রার গল্প

বাঙালি ডাক্তারের বিদেশ যাত্রার গল্প

এইটাই বাকি ছিল। স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী লন্ডনে হল ভর্তি লোকের সামনে বললেন ভারতীয়…

সেদিন বৃষ্টি ছিল

সেদিন বৃষ্টি ছিল

হাসপাতালে আমি পারত পক্ষে রোগী ভর্তি দেই না। হাসপাতাল কোন মধুজগত না…

ভালো থাকুক ওপারের নতুন ডাক্তাররা

ভালো থাকুক ওপারের নতুন ডাক্তাররা

গতকাল সিলেট শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এর অধীন মেডিকেল কলেজগুলোর এমবিবিএস…

বড় স্যাররা আসলে সবদিক দিয়েই বড়!

বড় স্যাররা আসলে সবদিক দিয়েই বড়!

ফার্স্ট ইয়ারে এনাটমীর প্রফেসর ডা. ওয়ালী স্যার ক্লাসে পুরোনো একটা কথা স্মরণ…

ঢাকা শিশু হাসপাতালকে বদলে দিয়েছে শিশু কানন 

ঢাকা শিশু হাসপাতালকে বদলে দিয়েছে শিশু কানন 

নতুন কিছু, ভাল কিছু ও ব্যতিক্রম কিছু করতে না চাওয়ার অজুহাত হিসেবে…



জনপ্রিয় বিষয় সমূহ:

দুর্যোগ অধ্যাপক সায়েন্টিস্ট রিভিউ সাক্ষাৎকার মানসিক স্বাস্থ্য মেধাবী নিউরন বিএসএমএমইউ স্বাস্থ্যমন্ত্রী ঢামেক গবেষণা ফার্মাসিউটিক্যালস স্বাস্থ্য অধিদপ্তর