ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১৭ অক্টোবর ২০১৯, ২ কার্তিক ১৪২৬,    আপডেট ৪৯ মিনিট আগে
ডা. ফাহিম উদ্দিন

ডা. ফাহিম উদ্দিন

ইন্টার্ন চিকিৎসক

খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল।


০৭ এপ্রিল, ২০১৮ ১২:৪৮

হেপাটাইটিসে আক্রান্ত হচ্ছেন কীভাবে?

হেপাটাইটিসে আক্রান্ত হচ্ছেন কীভাবে?

ফার্মাকোলজি ক্লাসে এক ম্যাডাম একদিন সতর্ক করে দিয়েছিলেন। হোটেলে গিয়ে কাঁচা সালাদ বা রাস্তার পাশের শসা, ফুসকার টক পানীয় এরকম অবিশুদ্ধ পানিযুক্ত খাবার গুলো এভয়েড করার জন্য। কারণ এসব ক্ষেত্রে ব্যবহৃত পানি কখনোই ফুটানো হয় না। এমনকি চটপটির ঝোল-পানিও পরিমিত তাপমাত্রায় ফুটানো হয় না। কোনোরকমে একটু গরম করা হয় মাত্র!

অনেক আগে ঢাকায় পোস্ট গ্র্যাজুয়েশন কোচিং এর এক সিনিয়র ভাইয়ের সাথে দেখা করতে যাই। ভাই বললেন, আসছো যখন একটা ক্লাস করে যাও। ক্লাসটা ছিল মূলত ‘হেপাটোট্রপিক ভাইরাস’ এর উপর। সেই লেকচারে কথার প্রসঙ্গে ভাইয়া বললেন, পানিতে থাকা কিছু জীবাণু আছে যেগুলো নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় ফুটালে মারা যায়, আর কিছু জীবাণু আছে যেগুলো ফুটালেও কিছু হয় না, সেগুলো কে ফিল্ট্রেশন করে ছেঁকে ফেলতে হয়।

কথাগুলো বলার কারণ-
কিছুদিন আগে ছোটবোনের ‘হেপাটাইটিস’ হয় (পানিবাহিত ভাইরাস দিয়ে) ঢাকায় পড়তে যাওয়ার এক মাসের মধ্যে। প্রথমে SGPT আসে ১১৩৪, দুই সপ্তাহ পরে সেটা কমে ১২১ এ এসেছে। দ্বিতীয়বার দেখা করার পর মেডিসিনের কনসালট্যান্ট স্যারও ঠিক উপরের উপদেশ গুলোই দিলেন। 

আমরা যারা এসব খেয়েই অভ্যস্ত এবং এতে কোনো সমস্যাই হয় না, উপদেশ গুলো তাদের দিচ্ছি না (কারন দিয়েও লাভ নেই, আমরা খাবোই)। বরং যাদের কিছুদিন পরপরই বিভিন্ন পানিবাহিত রোগ নিয়ে হসপিটালে দৌড়াতে হয় উপদেশ গুলো তাদের জন্য। ছোট্ট সতর্কতা অবলম্বনে হয়ত বড় রোগ-ভোগান্তি থেকে রেহাই পাওয়া যাবে। বিশেষ করে বাচ্চাদের জন্য! 

বি:দ্র: 
‘হেপাটাইটিস’ হয়েছে শুনলেই অনেক মানুষ ভয়ে পেয়ে যান। মনে করেন, হেপাটাইটিস মানেই ‘হেপাটাইটিস বি’! আসলে হেপাটাইটিস এর জন্য ৫ টি ‘হেপাটোট্রপিক ভাইরাস’ দায়ী। হেপাটাইটিস A,B,C,D,E। এর যেকোনোটি দিয়েই হতে পারে।
 
A & E virus খাবার/পানিবাহিত, খাবার/পানিবাহিত হওয়ায় এগুলো দিয়েই সাধারণত হেপাটাইটিস হয়ে থাকে। এগুলো দিয়ে হেপাটাইটিস হলে খুব বেশি ভয়ের কিছু নেই (except some serious conditions)। সাধারনত বিশ্রামে থাকলে কিছুদিন পর এমনিতেই সেরে যায়!ৎ

B & C virus দিয়ে হলে ভয়ের কারন আছে। B virus এর ভ্যাক্সিন আবিষ্কৃত হলেও, এখন পর্যন্ত C virus এর কোনো ভ্যাক্সিন আবিষ্কৃত হয় নি। আর D virus একা একা কিছু করতে পারে না। B virus এটাক করলে তখনই কেবল কিছু করতে পারে!

Some info:
A virus is mainly transmitted by food & E virus is mainly transmitted by water.. Childrens & Pregnant women are commonly affected by A virus.. on the other hand, Adult persons are commonly affected by E virus.

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত