০৭ এপ্রিল, ২০১৮ ১০:১৫ এএম

প্রফের ভাইভা বোর্ডে যখন ‘মা’

প্রফের ভাইভা বোর্ডে যখন ‘মা’

ফাইনাল প্রফে গাইনী ভাইভা দিতে গিয়ে মনে হলো আমি বাসায় বেড়াতে এসেছি।

দেখলাম সামনে আমার মা (!) বসে আছেন।

ভাইভা নিচ্ছিলেন শ্রদ্ধেয় প্রফেসর সেলিনা পারভীন এবং আখতারী ইসলাম ম্যাডাম।

ভাইভা বোর্ডে যখন বসলাম তখন ম্যামরা নাস্তা করছিলেন।

ভাইভা শুরু হলো-

-বাবা, তুমি সকালে নাস্তা করেছো?

-জ্বি ম্যাম।

-আমাদের সাথে আবার নাস্তা কর।

-না ম্যাম, খেতে পারব না, একটু আগেই খেয়েছি।

-না বাবা, তোমাকে খেতেই হবে, অল্প হলেও খাও। তুমি না খেলে আমরা কিভাবে খাই?

-খেলাম।

-বাড়ি কোথায়? তোমার নামের অর্থ কি?
কোন বিষয়ে স্পেশালিস্ট হতে চাও? এমন সব কঠিন কঠিন (!) প্রশ্ন দিয়ে ভাইভা শুরু হলো।

কোন প্রশ্নের উত্তর ভুল বললে ম্যাডাম হিন্টস দিয়ে বলেন, বাবা আরেকবার ভেবে বলতো কি হবে?

প্রচন্ড anxiety আর ভয় নিয়েও সব প্রশ্নের সঠিক উত্তর দিয়ে বের হলাম।

কোন প্রশ্নের উত্তর সঠিক বলতে পারলেই ম্যাডামরা যেভাবে খুশি হতেন, তাতে পরীক্ষা ভাল দেয়া ব্যতীত উপায় ছিল না।

‘তোমার নামের অর্থের সাথে কাজের মিল আছে। যাও, খুব ভাল ভাইভা দিয়েছো’ -আখতারী ইসলাম ম্যাম।

এমনটাই ছিল আমার গাইনী ভাইভা। শুধু আমি না শেবাচিমে যারা এই ম্যামদের পেয়েছে তাদের প্রত্যেকের ভাইভা এমন ছিলো।

রাজ্যের সব anxiety, ভয় নিয়ে একজন স্টুডেন্ড প্রফ ভাইভা দিতে ঢুকে। প্রথম দু-একটা প্রশ্নের ভুল উত্তর দেয়া মানেই সে ফাঁকিবাজ বা গাধা গরু না।

এইটা তো gross, এটা পার না, যাও বের হও! এটা কোন কিছুর সমাধান নয়।

একজন মারাত্মক পড়ুয়া স্টুডেন্টেরও এমনটা হতে পারে।

Gross mistake নামের misnomer বন্ধ হওয়া উচিত। সাহস দিয়ে, অভয় দিয়ে ভিন্ন ভিন্ন Topics থেকে কমপক্ষে ১০ টা প্রশ্ন করা উচিত।

যে টপিকটা পারছে না সেখান থেকে একের পর এক প্রশ্ন করা অনুচিত।

‘প্রফ ভাইভা নেয়ার উদ্দেশ্য স্টুডেন্টকে ভড়কে দেয়া নয়, সাহস দিয়ে, লিড দিয়ে তার পড়ালেখা Asses করাই উদ্দেশ্য’ -প্রফেসর সেলিনা পারভীন ম্যাডাম।

হৃদয় নিংড়ানো শ্রদ্ধা ম্যাম আপনাদের জন্য, আপনারা আমাদের আদর্শ, আমাদের অনুপ্রেরণা।

আজ প্রফেসর সেলিনা ম্যামকে নিয়ে একটি দৈনিকে একটা ফিচার ছেপেছে যেখানে বলা হয়েছে ‘চিকিৎসক এবং মা’ হিসবে তার সফলতার গল্প।

কিন্তু তিনি যে কতবড় ‘সফল শিক্ষক’ সেটা হয়তো তাদের জানার কথা নয়।

 লিখেছেন: ডা. শিহাব
শেরে-বাংলা মেডিকেল কলেজ, বরিশাল
সেশনঃ ০৯-১০

আরও পড়ুন-

একজন সফল চিকিৎসক ও মা

করোনা ও বার্ধক্যজনিত অসুস্থতা

এক দিনে চিরবিদায় পাঁচ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
তুমি সবার প্রফেসর আবদুল্লাহ স্যার, আমার চির লোভহীন, চির সাধারণ বাবা
পিতাকে নিয়ে ছেলে সাদি আব্দুল্লাহ’র আবেগঘন লেখা

তুমি সবার প্রফেসর আবদুল্লাহ স্যার, আমার চির লোভহীন, চির সাধারণ বাবা

বেশিদিন ওমিপ্রাজল খেলে হাড় ক্ষয়ের ঝুঁকি বাড়ে 
কিডনি পাথরের ঝুঁকি বাড়ায় নিয়মিত অ্যান্টাসিড সেবন 

বেশিদিন ওমিপ্রাজল খেলে হাড় ক্ষয়ের ঝুঁকি বাড়ে 

ডাক্তার-নার্সদের অক্লান্ত পরিশ্রমের কথা মিডিয়ায় আসে না
জাতীয় হৃদরোগ ইন্সটিটিউটের সিসিউতে ভয়ানক কয়েক ঘন্টা

ডাক্তার-নার্সদের অক্লান্ত পরিশ্রমের কথা মিডিয়ায় আসে না