ঢাকা      বুধবার ১৮, জুলাই ২০১৮ - ৩, শ্রাবণ, ১৪২৫ - হিজরী



মাসঊদ বিন হক

মেডিকেল শিক্ষার্থী। 


যে ডাক্তার ফিলোসফির কথা বলে

দর্শন ছাড়া পৃথিবী হয় না। পৃথিবীর যেই অস্তিত্ব, সেই অস্তিত্বটাই কিন্তু দর্শনের ওপর নির্ভর করে। আজ আমরা আবার ফিরে এসেছি দর্শন নিয়ে আলোচনা করতে, একটু ব্যতিক্রমী। আমরা বিষয়টা আলোচনা করছি একজন ডাক্তারের সাথে!

ডা. পিনাকী ভট্টাচার্য। জন্ম ১৯৬৭ সালে বগুড়া জেলায়। সারা অনলাইন দুনিয়ায় পরিচিতি একজন ব্লগার, অনলাইন এক্টিভিস্ট এবং লেখক হিসেবে। ৯০ এর ছাত্রগণভ্যুত্থানের মাঠ থেকে উঠে আসা যে কয়েকজন রাজনৈতিক কর্মী সমসাময়িক বাংলাদেশের আলোচিত লেখক হয়েছেন পিনাকী ভট্টাচার্য তাদের মধ্যে অন্যতম। তার রচিত বইয়ের সংখ্যাও ক্রমশ বর্ধমান, এখনো লিখে চলেছেন। এই পর্যন্ত লিখা বইয়ের সংখ্যা ৯ টিরও বেশি, তন্মধ্যে আলোচিত হয়েছে ‘মুক্তিযুদ্ধের বয়ানে ইসলাম’, ‘মার্কিন ডকুমেন্টে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ ৭১’, ‘ধর্ম ও নাস্তিকতা নিয়ে বাঙালি কমিউনিস্টদের ভ্রান্তিপর্ব’।

এছাড়া বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী ‘ওয়েদার মেকার’, শিশু কিশোর ভ্রমণ উপন্যাস ‘চিন কাটুম’, দর্শনশাস্ত্র নিয়ে রেনে দেকার্তেসের অনুবাদ গ্রন্থ ‘ডিসকোর্স অন মেথড: জ্ঞানের পদ্ধতি বিষয়ে পর্যালোচনা’, ‘ভারতীয় দর্শনের মজার পাঠ’, তার গ্রন্থগুলির মধ্যে অন্যতম।

ছাত্রজীবনে বাম রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন সক্রিয়ভাবে। ছিলেন সিপিবিতে। বিভিন্ন টক শো কিংবা সাক্ষাৎকার অনুষ্ঠানে ওঠে এসেছে মানুষের মুক্তির জন্য কাজ করার আকাঙ্ক্ষা। একজন প্রকৃত বামপন্থির সংজ্ঞায়নও করেছেন কথায় কথায়। 
আজ আমরা বিভিন্ন সময়ে তার দেয়া সাক্ষাৎকারের বিভিন্ন অংশ তুলে এনে এই ডাক্তারের চিন্তার সাথে পরিচিত হবো। জানবো তার শখের ব্যাপারেও।

ডাক্তার হিসেবে আপনি দর্শনকে কীভাবে দেখেন?

ডা. পিনাকী ভট্টাচার্য:  এটা আমার প্রফেশন আর প্যাশন যদি বলেন, প্যাশনতো মানুষের থাকতেই পারে। অনেকের অনেক ধরনের প্যাশন থাকে। কেউ হয়তো ডাক্তারির পাশাপাশি রাষ্ট্রনায়কও হয়ে যায়, যেমন মাহাথির মোহাম্মদ। আমার প্যাশনটা হচ্ছে ফিলোসফি। 

ছাত্রজীবনে মার্কসবাদে আকৃষ্ট ছিলাম। মার্কসীয় দর্শন পড়াশোনা করেছি। পেশায় আসার পর মনে হলো যে, মার্কসীয় দর্শনের বাইরের দর্শনগুলো একটু জানা দরকার। বিশেষ করে স্টারটিং ফ্রম এরিস্টটল বা তারও আগে। মডার্ন ফিলোসফির সেই জিনিসগুলো জানা দরকার। 

আমাদের একজন অগ্রজ আছেন ডা. লিয়াকত আলী। উনার সংস্কৃতি বিকাশ কেন্দ্র বলে একটা প্রতিষ্ঠান আছে, সেই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আমি যুক্ত এবং আমাদের একটা চিন্তার ইতিহাস বলে একটা পাঠচক্র আছে, সেই পাঠচক্রে আমি প্রায় তিন বছর ধরে চিন্তার ইতিহাস নিয়ে পড়াশোনা করেছি। সেই সময় আমার দর্শনের যে মৌলিক বইগুলো সেগুলো অনেকগুলোই পড়া হয়েছে, একেবারে মৌলিকটা।

আপনি ভিন্নজগতের মানুষ হয়েও ইসলামী অঙ্গন নিয়ে লিখার ব্যাপারে কেনো আগ্রহী হলেন?

ডা. পিনাকী: ভিন্নজগত বলতে আপনি ঠিক কি বোঝাতে চাচ্ছেন জানি না কিন্তু আমার তো দুটো খুব গুরুত্বপূর্ণ ব্যাকগ্রাউন্ড আছে। একটা হচ্ছে আমার লেফট ব্যাকগ্রাউন্ড, আমি সিপিবি করে এসেছি একসময়। সুতরাং একটা সাধারণ ধারনা আছে যে, যারা বাম রাজনীতি করে বা যারা কমিউনিস্ট পার্টি করে তারা আসলে ধর্ম থেকে দূরে থাকে, ধর্মকে পছন্দ করেন না। আর নম্বর টু হচ্ছে যে আমি হিন্দু পরিবারে জন্মেছি শুধু হিন্দু পরিবারে না, আমি ব্রাক্ষ্মণ পরিবারে জন্মেছি। আমার নামটাও পিনাকী ভট্টাচার্য, এই নাম নিয়ে তারা যে ধরনের সেক্যুলার প্র্যা কটিসের মধ্যে থাকে, আমার লেখালেখি, চিন্তা, কাজ, এক্টিভিসম এটা সেই লাইনে না। 

আমার মনে হয় এটাই আপনি বোঝাতে চেয়েছেন কিন্তু এটা ঠিক না যে আমি ইসলাম নিয়ে লিখালেখি করি, আমার আসলে ইসলাম নিয়ে লেখালিখি করার যোগ্যতা নাই। যেমন ধরেন আমার বই "মুক্তিযুদ্ধের বয়ানে ইসলাম" এটা কিন্তু ইসলামিক বই না, এটা ইসলামের বইও না। এটা মুক্তিযুদ্ধের বই, এটা ইতিহাসের বই। ৯/১১ এর পরে যে ঘটনাগুলি ঘটে গেছে পৃথিবীব্যাপী সেটা হচ্ছে যে পশ্চিম একটা যুদ্ধ শুরু করেছে। অনেকে বলেছে এটা সভ্যতার সংঘাত, জর্জ বুশ জুনিয়র নিজে বলেছিলেনই এটা একটা ক্রুসেড। আরেকটা ক্রুসেড! ইনফ্যাক্ট তারা যখন 'সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে লড়াই' বলে এটাকে চালালো, এখনো চালাচ্ছে, সেটার ভিতরে আমরাতো দেখতে পাচ্ছি এটা পশ্চিমা বিশ্বের একটা যুদ্ধ। মূলত মুসলমানদের বিরুদ্ধে একটা যুদ্ধ এবং এই যুদ্ধের পরে সারা পৃথিবীর সকল হিসাব নিকাশ সব উলটে পালটে গেছে।

আমরা দেখেছি যে সারা পৃথিবীব্যাপি যত যুদ্ধ হচ্ছে, যত জায়গায় ধ্বংস, যত কান্না,যত কষ্ট, যত শরণার্থী সবাই মুসলমান সারপ্রাইজিংলি। তাহলে এই যে ফেনোমেনন টা, এটাকে আপনারা কিভাবে ব্যাখ্যা করবেন?

আমি যখন বাম রাজনীতি করেছি, আমি তো মানুষের মুক্তির জন্য কাজ করেছি। আমি চেয়েছি যে মানুষের অর্থনৈতিক মুক্তি আসুক,রাজনৈতিক মুক্তি আসুক। চূড়ান্তভাবে আমি তো মানুষের জন্যই রাজনীতি করেছি।

তাহলে আজকে যখন সারা পৃথিবী জুড়ে মুসলমান সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে যখন একটা সংগঠিতভাবে যুদ্ধ হচ্ছে তখন একজন অগ্রসর চিন্তার মানুষ হিসেবে, মানুষের জন্য রাজনীতি করা মানুষ হিসেবে, আপনার অবস্থানটা কোথায় যেয়ে দাঁড়াবে? 

অবশ্যই তাদের পাশে যেয়ে দাঁড়াবেন, মজলুমের পাশে দাড়াবেন। আমি মনে করি এটা লেফটদের কাজ, সেটা কমিউনিস্টদের কাজ, আমি আসলে সেই কাজটাই করছি।

সূত্র: কড়া আলাপ, ২৫৬ তম পর্ব, চ্যানেল আই

সংবাদটি শেয়ার করুন:

 


জীবন ও কর্ম বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

পররাষ্ট্র ক্যাডারে প্রথম হওয়া নারী চিকিৎসকের গল্প

পররাষ্ট্র ক্যাডারে প্রথম হওয়া নারী চিকিৎসকের গল্প

ডা. সুবর্ণ শামীম আলো। একজন মেধাবী চিকিৎসক। লাখ লাখ প্রতিযোগীকে পেছনে ফেলে…

টিভি উপস্থাপিকা ডা. মলির সাফল্যগাঁথা

টিভি উপস্থাপিকা ডা. মলির সাফল্যগাঁথা

ডা. এসএম মলি রেজা। পেশায় চিকিৎসক এই নারী টিভি পর্দার সামনে ও পেছনে কাজ…

রেডিও জকি ডা. নিতুলের জীবনের গল্প

রেডিও জকি ডা. নিতুলের জীবনের গল্প

নাদিয়া ইসলাম (নিতুল)। পেশাগত জীবনে তিনি একজন দন্তচিকিৎসক (ডেন্টিস্ট)। কিন্তু তার শিল্প,…

আরো সংবাদ














জনপ্রিয় বিষয় সমূহ:

দুর্যোগ অধ্যাপক সায়েন্টিস্ট রিভিউ সাক্ষাৎকার মানসিক স্বাস্থ্য মেধাবী নিউরন বিএসএমএমইউ স্বাস্থ্যমন্ত্রী ঢামেক গবেষণা ফার্মাসিউটিক্যালস স্বাস্থ্য অধিদপ্তর