ঢাকা শুক্রবার, ১৮ অক্টোবর ২০১৯, ৩ কার্তিক ১৪২৬,    আপডেট ৩ ঘন্টা আগে
ডা. মোঃ মাকসুদ উল্যাহ্‌

ডা. মোঃ মাকসুদ উল্যাহ্‌

চিকিৎসক, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল


০২ এপ্রিল, ২০১৮ ১১:০০

সদ্য পাস করা এমবিবিএস ডাক্তারদের জন্য জরুরি কিছু পরামর্শ

সদ্য পাস করা এমবিবিএস ডাক্তারদের জন্য জরুরি কিছু পরামর্শ

আপনি কোন সাবজেক্টে ক্যারিয়ার গড়বেন এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিতে দেরি করবেন না। সিদ্ধান্ত নিতে যত দেরি করবেন আপনি ততই পিছিয়ে যাবেন। 

ইন্টার্নির শুরুতেই এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত পাকাপোক্ত করা উচিত। ইন্টার্নির সময় আপনার বেডে যে রোগী থাকবে ওই কমন রোগটা ওই সময়ে একবার পাঠ্যবই থেকে পড়ে নেবেন ।

এই সময়ে এফসিপিএস/ রেসিডেন্সি একটার প্রশিক্ষণ আরেকটাতে কাজে লাগানো যায় না। তাই যে কোন একটাকে প্রাধান্য দিয়ে শুরু করবেন। 

অনারারি / সরকারি ট্রেনিং শুরু করলে ইন্টারনাল মেডিসিন / জেনারেল সার্জারি/ অবস-গাইনি ( মাতৃ বিষয় ) দিয়ে শুরু করা ভালো এবং এক বছর পূর্ণ না করে ব্রাঞ্চে না যাওয়াই ভালো। এতে করে পরবর্তীতে ব্রাঞ্চগুলোতে প্রশিক্ষণ নিতে আপনার সুবিধা হবে। 

তাছাড়া ওই এক বছরের প্রশিক্ষণ দেখিয়ে পরে প্রয়োজন মনে করলে এমসিপিএস পরীক্ষা দেয়া যাবে।
ট্রেনিংয়ের লগ বইয়ে সংশ্লিষ্ট অধ্যাপকের স্বাক্ষর যথাসময়ে নিশ্চিত করবেন; অন্যথায় অধ্যাপক বা আপনি বদলি হয়ে গেলে আপনি বিপদে পড়বেন । 

ভালো প্রস্তুতি না নিয়ে পরীক্ষা না দেয়াই ভালো । এতে করে আর্থিক অপচয় হয়।

বিগত বছরের প্রশ্নগুলো দেখে নিলেই বুঝবেন কিভাবে প্রস্তুতি নিতে হবে। সহায়ক বইগুলিতে বিগত বছরের প্রশ্ন পাবেন। সহায়ক বই থেকে প্রশ্ন দেখে পাঠ্যবই থেকে পড়বেন। 

রেসিডেন্সিতে আনুমানিক ৬৫% প্রশ্ন বেসিক সাবজেক্ট থেকে আসে। অর্থাৎ, বেসিক মাইক্রোবায়োলজি, বেসিক প্যাথলজি , ফার্মাকোলজি , ফিজিওলজি ইত্যাদি।

এফসিপিএস প্রথম পর্বে তার উল্টো , অর্থাৎ বেসিক থেকে আনুমানিক ৩৫% প্রশ্ন আসে। বাকিটা ক্লিনিক্যাল থেকে।
ভালো প্রস্তুতি নিয়ে পরীক্ষা দেয়ার পর একবার, দুইবার বা তিনবারে এফসিপিএস ১ম পর্ব বা রেসিডেন্সিতে চান্স না পেলে হতাশ হওয়ার কিছু নেই, এতে আপনার পরবর্তী প্রশিক্ষণের জন্য বরং ভালোই হবে।

অনেকেই জানেন না যে, এফসিপিএস/ এমডি/ এমএসের জন্য থিসিস/ ডিজারটেশন করা লাগে । এফসিপিএসের ডিজারটেশনের জন্য বিসিপিএস তিন দিনের প্রশিক্ষণ দেয়। আপনার প্রশিক্ষণ দুই বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই ওই তিন দিনের প্রশিক্ষণ করে নিলে ভাল। 

এমডি/ এমএসের থিসিসের জন্য সংশ্লিষ্ট মেডিক্যাল কলেজে research methodology & biostatistics এর ক্লাস হয়ে থাকে।
এফসিপিএসের ক্ষেত্রে প্রশিক্ষণ দুই বছর পূর্ণ হওয়া মাত্র ডিজারটেশনের কাজ শুরু করে দেবেন। এর জন্য আনুমানিক এক বছর সময় লাগে। কারণ, থিসিস / ডিজারটেশন করতে হয় অধ্যাপক বা সহযোগী অধ্যাপকের অধীনে। 

জেলা সদর হাসপাতালে সিনিয়র কন্সাল্টেন্টের অধীনে প্রশিক্ষণ করা যাবে কিন্তু সেখানে থিসিস করার ব্যবস্থা নেই। থিসিস/ ডিজারটেশন এর ব্যপারে সময় থাকতে অবহেলা করলে পরে আফসোস করবেন।

আরেকটা মনে রাখবেন, সরকারি চাকরিতে থেকে প্রশিক্ষণের জন্য পোস্টিং নেয়ার পর তিন বছর পার হলে যে কোনও মুহূর্তে আপনার প্রশিক্ষণ পদ বাতিল করতে পারে কর্তৃপক্ষ। পরে আপনি এক বছরের কোর্স করবেন। আশা করি বুঝতে পেরেছেন। 

উপজেলাতে দুই বছর পূর্ণ না করে প্রশিক্ষণ পদে আসবেন না। অন্যথায় পরবর্তীতে আপনি অনেক মাশুল দিবেন এবং আফসোস করবেন। এ ব্যাপারে অল্পতে সন্তুষ্ট থাকুন। চাকরিতে যোগদান করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ওয়েবসাইটে আপনার পিডিএস অ্যাকাউন্ট খুলুন। যে কোন আবেদনের সাথে পিডিএস দিতে হয়। প্রত্যেক জানুয়ারিতে এসিআর জমা দিন। এটা অতি গুরুত্বপূর্ণ । 

প্রশিক্ষন পদে যাওয়ার আগেই ফাউন্ডেশন ট্রেনিং করা ভালো। সংশ্লিষ্ট তথ্যসমূহ এর ব্যাপারে সময়মত আপডেট জেনে নিবেন।

আমাদের মা বোনেরা অনেকেই স্তনের সমস্যার জন্য স্বাভাবিক লজ্জার কারণে সমস্যা লুকিয়ে রাখেন। এ সমস্যা জানাতে অনেকেই দেরি করেন। স্বভাবতই এ ধরনের সমস্যার জন্য তারা পুরুষ ডাক্তারের কাছে যেতে চান না। এসব কারনে অনেক সময় দেখা যায় স্তনে ক্যান্সার হয়ে সারা শরীরে ছড়িয়ে পড়ার পর তারা শেষ মুহূর্তে ডাক্তারের শরনাপন্ন হয়। তখন আর কিছু করার থাকে না। ওই পরিবারটাতে বিপর্যয় নেমে আসে। 

তারা জানে না যে , এটার জন্য সার্জারি বিশেজ্ঞ ডাক্তারের কাছে যেতে হবে। তাই তারা ভুল করে গাইনি ডাক্তারের কাছে গিয়ে কিছু সিস্টেম লস করে। তাই নতুন পাস করা মহিলা ডাক্তারদের মধ্য থেকে কেউ কেউ সম্ভব হলে সার্জারি বিশেষজ্ঞ হওয়ার কথা চিন্তা করতে পারেন।

একবার একটি বিষয় কোনো একটি পাঠ্যবই থেকে পড়লে পরবর্তীতে কখনো ওই বিষয়টি ভুলে গেলে সেটি আবার ওই বই থেকেই পড়বেন । এ কারনে নিজের দাগানো বই কখনো হাতছাড়া করবেন না। উদাহরণস্বরূপ, আপনি যদি Robbins & Cotran জেনারেল প্যাথলজি বই থেকে একবার tumor marker মুখস্থ করে থাকেন , তাহলে পরবর্তীতে ভুলে গেলে ওই তালিকাটিই আবার পড়বেন । একবার যদি P.N. BENNETT & M.J. BROWN এর বই থেকে Antipsychotic drug মুখস্থ করে থাকেন তবে বার বার ওখান থেকেই পড়বেন। তাহলে সিস্টেম লস এড়ানো যাবে। শুধু নতুন tumor marker বা নতুন antipsychotic drug আবিষ্কৃত হলে সেটা আলাদা করে মনে রাখবেন বা একটি আলাদা নোট করে নিবেন।

পড়া মুখস্থ করার জন্য নিজের বানানো সূত্র কখনো ভুলে যাবেন না । বিচ্ছিন্ন বিষয়গুলোর জন্য একটি আলাদা ব্যক্তিগত নোট তৈরি করতে পারলে সবচেয়ে ভালো হয়। সে নোটের মধ্যে থাকতে পারে নিজের বানানো সূত্র, আগে থেকে মুখস্থ করা বিচ্ছিন্ন বিষয় যেমন Robbins থেকে পড়া Tumor Marker চার্ট , Rx of TB in special cases ইত্যাদি ।

কিছু কিছু চার্ট একটির সাথে আরেকটি তুলনা করে পড়বেন । যেমন Davidsons Principles and Practice of Medicine, 22nd edition,বইটির কথা ধরা যাক। এখানে উদাহরণস্বরূপ hyponatraemia আর hypernatraemia এর কারন সমূহ পড়ার জন্য box 16.12 এবং box 16.15 একটার সাথে আরেকটা তুলনা করে পড়বেন । ঠিক তেমনি
1. alcoholic liver disease Vs alcohol misuse and dependence (page253) 
2. polycythemia rubra vera Vs haemochromatosis 
3. DD of hepatic encephalopathy Vs DD of stroke 
4. complications of acute liver failure (box23.13) Vs complications of acute viral hepatitis (box23.39) 
5. emergency Mx of acute non- variceal upper 

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত