ঢাকা      সোমবার ২২, অক্টোবর ২০১৮ - ৬, কার্তিক, ১৪২৫ - হিজরী




এখন জ্বর-কাশিতে কী করবেন?

শেষরাত ও ভোররাতে তাপমাত্রা কমে যায়। দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত তাপমাত্রা কিছুটা বেশি থাকে। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তাপমাত্রার এই ওঠানামার ফলে কিছু কিছু ভাইরাস শরীরের ওপর আক্রমণের সুযোগ পায়। আবহাওয়ায় তাপমাত্রার এই দ্রুত পরিবর্তনের সঙ্গে যাঁরা খাপ খাওয়াতে পারেন না, তাঁরাই আক্রান্ত হচ্ছেন জ্বরসহ সর্দি-কাশিতে। ঋতু পরিবর্তনের ফলে জ্বরের এই প্রকোপ নতুন কিছু নয়, সাধারণের কাছে এটি ‘ফ্লু’ বা ভাইরাল ফ্লু হিসেবে পরিচিত।
এ বিষয়ে সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক গোবিন্দ চন্দ্র রায় বলেন, এমন আবহাওয়ার কারণে বেশিমাত্রায় সক্রিয় হয়ে পড়ছে ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়া। ফলে জ্বর ও সর্দি-কাশির প্রকোপ বাড়ছে৷ সঙ্গে থাকছে শরীরজুড়ে ব্যথা৷ এতে আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই৷ ভাইরাসের কারণে জ্বর হলে সাধারণত সাত দিনের মধ্যে এমনিই ভালো হয়ে যায়। হঠাৎ করে ঠান্ডা যাতে না লাগে, তার জন্য বিশেষ  সতর্ক থাকতে হবে।

যেসব লক্ষণ দেখা যায়
রোগী মূলত জ্বর, কেউ কেউ মাথাব্যথা, সর্দি, অরুচি, শরীর ব্যথা, কাশির উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসকের কাছে আসেন। আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে শিশুর সংখ্যাই বেশি। ঠান্ডা-সর্দির কারণে কান বন্ধ হতে পারে। কান বন্ধের সঙ্গে কানে ব্যথাও থাকে। এসব ক্ষেত্রে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া উচিত। অনেক সময় শিশুর প্রচণ্ড সর্দি লেগে যায়। কোনো কোনো শিশুর ক্ষেত্রে ১০৪ ডিগ্রি ফারেনহাইট পর্যন্ত জ্বরও দেখা দিতে পারে। তবে বড়দের ক্ষেত্রে জ্বর ততটা তীব্রভাবে না-ও হতে পারে।

জ্বর হলে কী করবেন
এ অবস্থায় প্রথমেই জ্বর কমানোর ব্যবস্থা হিসেবে চিকিৎসকের পরামর্শে জ্বর কমানোর ওষুধ সেবনের পাশাপাশি সাধারণ তাপমাত্রার পানিতে ভেজানো তোয়ালে দিয়ে সারা শরীর মুছে দেওয়া অর্থাৎ স্পঞ্জিং করা উচিত। জ্বর ১০১ ডিগ্রি ফারেনহাইটে নেমে না আসা পর্যন্ত এই স্পঞ্জিং চালিয়ে যেতে হবে। ২-১ ঘণ্টার মধ্যে উচ্চতাপমাত্রার জ্বর না কমলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

শিশুদের দিকে বিশেষ নজর
ভাইরাস জ্বরে আক্রান্ত শিশু প্রায়ই পানিশূন্যতায় ভোগে। কেননা জ্বরের তাপে শরীর পানি হারায়। তাই শিশুকে প্রচুর পানি ও তরল খাবার দিন। শুধু পানি পান করতে না চাইলে ফলের রস, তরমুজ বা আঙুর, ডাবের পানি, স্যুপ ইত্যাদি দিন। সেই সঙ্গে শিশুর দরকার প্রচুর বিশ্রাম। বেশির ভাগ শিশুর খাওয়ার রুচি যায় নষ্ট হয়ে, কিছুই খেতে চায় না। এমন খাবার দিন, যা অল্প খেলেও বেশ শক্তি পাবে। যেমন দুধ-চিনি দিয়ে তৈরি কোনো নাশতা, মুরগির মাংসের স্যুপ, পাস্তা, ফলমূল ইত্যাদি।
জ্বর বাড়লে গা মুছে দিন, সঙ্গে সাধারণ প্যারাসিটামল। ওষুধের সঠিক মাত্রাটি জেনে নিন চিকিৎসকের কাছ থেকে। নাক বন্ধ থাকলে স্যালাইন পানির ড্রপ ব্যবহার করা যায়। খুসখুসে কাশিতে মধু বা আদার রস বেশ আরাম দেবে। ভাইরাল ফ্লু পাঁচ থেকে সাত দিনের মাথায় এমনিতেই কমে যায়। কিন্তু জ্বর দীর্ঘস্থায়ী ও তীব্র মাত্রার হলে, শিশুর শ্বাসকষ্ট হলে বা সে খাওয়াদাওয়া একদম ছেড়ে দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

সর্দি, কাশি ও গলাব্যথায় কী করবেন
সর্দি-কাশি বা সামান্য গলাব্যথা এমন কোনো বড় ব্যাপার নয়। তবে একবার ঠান্ডা লাগলে তা সারতে অন্তত এক সপ্তাহ লাগবেই। আর কাশি তো বেশ কয়েক দিন থাকতে পারে, এতে ঘাবড়ানোর কিছু নেই। সাধারণ কাশির চিকিৎসা আপনিই করতে পারেন। এ ধরনের কাশি একটি নির্দিষ্ট সময় পর আপনা-আপনি ভালো হয়ে যায়। তবে কাশির সঙ্গে যদি জ্বর হয়, তাহলে গুরুত্ব দিতে হবে। ঠান্ডা খাবার, ফ্রিজের পানি পরিহার করতে হবে। কুসুম গরম পানি পান করতে পারলে ভালো হয়। হালকা কুসুম কুসুম গরম পানিতে লবণ মিশিয়ে গলা গড়গড়া করলে গলাব্যথা সহজেই ভালো হয়ে যায়। দিনে কমপক্ষে দুইবার ৫-১০ মিনিট সময়ে গড়গড়া করা উচিত। ধুলাবালি এড়িয়ে চলুন।

ধূমপান পরিহার করুন
খুসখুসে কাশির একটি অন্যতম প্রধান কারণ হলো ধূমপান। আর ঠান্ডা লাগলে তা কয়েক গুণ বেড়ে যায়। তাই ধূমপান পরিহার হরতে হবে।

শিশুর কাশি মানেই নিউমোনিয়া নয়
এই সময়ে শিশুরা যে সর্দি-কাশি ও শ্বাসকষ্টে ভোগে তার বেশির ভাগই নিউমোনিয়া নয়। ভাইরাসজনিত এই রোগের নাম ব্রংকিওলাইটিস। ব্রংকিওলাইটিসকে অনেকে নিউমোনিয়া ভেবে ভুল করেন। ব্রংকিওলাইটিস দুই বছরের কম বয়সের শিশুদের বেশি হয়ে থাকে। ব্রংকিওলাইটিসে আক্রান্ত শিশুকে বাসায় রেখে চিকিৎসা করা যায়। তবে সুস্থ শিশুদের আক্রান্ত শিশু থেকে দূরে রাখতে হবে।
শিশুকে সিগারেট, মশার কয়েল ও রান্নাঘরের ধোঁয়া থেকে দূরে রাখুন। ভাইরাসজনিত এই রোগে সাধারণত অ্যান্টিবায়োটিক লাগে না। তবে শ্বাসকষ্ট খুব বেশি হলে, খিঁচুনি, ঠোঁট নীল বা কালো হয়ে গেলে তাড়াতাড়ি হাসপাতালে নিতে হবে।

সৌজন্যে: প্রথম আলো

সংবাদটি শেয়ার করুন:

 


স্বাস্থ্য বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

মুলারিয়ান এজেনেসিস: প্রকৃতির অবিবেচক খেয়াল ও প্রমিতির কান্না

মুলারিয়ান এজেনেসিস: প্রকৃতির অবিবেচক খেয়াল ও প্রমিতির কান্না

প্রমিতি, বয়স- ১৬। এইচএসসি ১ম বর্ষে পড়ে। প্রাণবন্ত, উচ্ছ্বল প্রজাপতির মতো। যখন কথা…

বউয়ের জন্য আমার পুলাডার আজ এই অবস্থা!

বউয়ের জন্য আমার পুলাডার আজ এই অবস্থা!

বউয়ের হাওয়া ভাল না, বিয়ের তিনমাস না যেতেই স্বামী অসুস্থ! মন্টু মিয়ার…

প্রি মিনস্ট্রুয়াল সিনড্রোম

প্রি মিনস্ট্রুয়াল সিনড্রোম

আচ্ছা! প্রি মিনস্ট্রুয়াল সিনড্রোম নিয়ে একটু কথা বলি। প্রায় আশিভাগ মেয়েই এই…

ভাগ্যের নির্মম পরিহাস

ভাগ্যের নির্মম পরিহাস

২০১০ সালের জুন মাসে ঘটে যাওয়া নিমতলী ট্র্যাজেডির কথা কি মনে আছে?…

মাথা ব্যথার সাথে বমি মারাত্মক রোগের লক্ষণ!

মাথা ব্যথার সাথে বমি মারাত্মক রোগের লক্ষণ!

একজন ভদ্রলোক (বয়স ৩৫ এর কাছাকাছি) আমাদের ওয়ার্ডে ভর্তি পেটে ব্যথা এবং…

ডায়াবেটিক রোগীর চিকিৎসায় সহায়তা করে গ্লুকোমিটার

ডায়াবেটিক রোগীর চিকিৎসায় সহায়তা করে গ্লুকোমিটার

কয়েকদিন আগে এডমিশন নাইট ডিউটিতে একজন রোগী আসলো অজ্ঞান অবস্থায়। রোগী পার্টি…



জনপ্রিয় বিষয় সমূহ:

দুর্যোগ অধ্যাপক সায়েন্টিস্ট রিভিউ সাক্ষাৎকার মানসিক স্বাস্থ্য মেধাবী নিউরন বিএসএমএমইউ স্বাস্থ্যমন্ত্রী ঢামেক গবেষণা ফার্মাসিউটিক্যালস স্বাস্থ্য অধিদপ্তর