ডা. আহমাদ হাবিবুর রহিম

ডা. আহমাদ হাবিবুর রহিম

লেখক, কলামিস্ট

বিসিএস (স্বাস্থ্য), রেসিডেন্ট, বিএসএমএমইউ।


০১ এপ্রিল, ২০১৮ ০১:০৮ পিএম

দুর্গম অঞ্চলে স্বাস্থ্যসেবা: মৃত্যু যেখানে নিয়তি

দুর্গম অঞ্চলে স্বাস্থ্যসেবা: মৃত্যু যেখানে নিয়তি

এই গভীর রাতে একজন মা রক্তপাত নিয়ে হাসপাতালে উপস্থিত। রক্তপাত সন্ধ্যার দিকে শুরু হলেও হাসপাতালে এসেছেন রাত সাড়ে তিনটায়। এর মাঝে রক্তপাত হতে হতে তার শরীরে রক্ত নাই বললেই চলে। বোকামি আর কাকে বলে! পরিস্থিতি একেবারে শেষের দিকে যাওয়ার আগপর্যন্ত তারা হাসপাতালে আসতে চান না।

এই দশ শয্যার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স রক্তপাত বন্ধের প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবে যা যা করণীয় তার সবটুকু করে রোগীকে রেফার করলাম রাঙামাটি সদর হাসপাতালে। বিলাইছড়ি থেকে রাঙামাটি কোনদিক দিয়েই কোন সড়ক যোগাযোগ নেই। ইঞ্জিন বোটে করে যেতে সময় লাগবে ন্যূনতম তিনঘন্টা। এর মাঝে স্যালাইন হয়তো চলবে কিন্তু তারপরও এই দীর্ঘ সময়ের মাঝে যে কোন সময়েই অবস্থার অবনতি হওয়াটা অস্বাভাবিক নয়। একজন বিপদগ্রস্থ গর্ভবতী মায়ের জন্য যেখানে প্রতিটি মিনিট গুরুত্বপুর্ণ সেখানে সময়ের এই দীর্ঘ ফারাকটা একজন চিকিৎসক হিসেবে আমাকে মোটেও স্বস্তিতে থাকতে দেয় না।

অনেক বছর ধরেই নাকি কথা হচ্ছে বিলাইছড়ির সড়ক পথে সংযোগ স্থাপনের। কর্তৃপক্ষকেও যথেষ্ঠ আগ্রহী মনে হয়েছে। সমস্যাটা নাকী হচ্ছে অন্যদিক থেকে। স্থানীয়দের একটি অংশই নাকি চায় না এলাকার সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা তৈরি হোক। এই চাওয়া কেন তা বোদ্ধাজনেরাই ভালো বলতে পারবেন। অসহায় আমি শুধু দেখে যাচ্ছি যে এই 'বিপরীত মুখী' অবস্থানের খেসারত দিয়ে যাচ্ছে হাজার হাজার অসহায় সাধারণ মানুষ।

শত শত মূল্যবান জীবন চলে যাচ্ছে হাসপাতালে যাওয়ার পথের দীর্ঘ সময়ের মারপ্যাঁচে পড়ে। আর ব্যক্তিগতভাবে রিজার্ভ বোট ভাড়া নিলে টাকা খরচ হয় হাজারের ও উপরে। তাই জরুরি সময়ে রেফার করলে অর্থাভাবে যেতে পারেন না অনেক রোগী। এর মধ্যে কেউ কেউ আছেন যাদেরকে রাঙামাটি যেতে বেশি জোরাজুরি করলে তারা নীরবে মালপত্র নিয়ে বাড়িতে চলে যান। সেখানে গিয়ে স্বেচ্ছা মৃত্যুর জন্য অপেক্ষা শুরু করেন। বা ঝাঁড়ফুক করাতে কবিরাজ খোঁজা শুরু করেন।

এই প্রত্যন্ত অঞ্চলে আর কিছু না থাকলেও এ ধরনের অপচিকিৎসার সুযোগ অবারিত। তাই নিজেকে মাঝে মাঝে ঢাল তলোয়ার ছাড়া নিধিরাম সর্দার মনে হয়। চিকিৎসা বিদ্যার যতোটুকু শিখেছি উপযুক্ত সরঞ্জাম আর পরিবেশের অভাবে তার প্রয়োগ এখানে করা অনেকটাই অসম্ভব। মাঝে মাঝে মনে হয় এতো সহস্র মানুষের যে এতো কষ্ট আর অসহায়ত্ব কী তবে স্বেচ্ছায় বরণ করে নেয়া কোন অভিশাপ? এ অসহায়ত্বের দায়টা কার? উত্তরণের উপায়টাই বা কোথায়? কার দ্বারা? আসবে নাকি এমন কোন ত্রাতা?

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
তুমি সবার প্রফেসর আবদুল্লাহ স্যার, আমার চির লোভহীন, চির সাধারণ বাবা
পিতাকে নিয়ে ছেলে সাদি আব্দুল্লাহ’র আবেগঘন লেখা

তুমি সবার প্রফেসর আবদুল্লাহ স্যার, আমার চির লোভহীন, চির সাধারণ বাবা

বেশিদিন ওমিপ্রাজল খেলে হাড় ক্ষয়ের ঝুঁকি বাড়ে 
কিডনি পাথরের ঝুঁকি বাড়ায় নিয়মিত অ্যান্টাসিড সেবন 

বেশিদিন ওমিপ্রাজল খেলে হাড় ক্ষয়ের ঝুঁকি বাড়ে 

ডাক্তার-নার্সদের অক্লান্ত পরিশ্রমের কথা মিডিয়ায় আসে না
জাতীয় হৃদরোগ ইন্সটিটিউটের সিসিউতে ভয়ানক কয়েক ঘন্টা

ডাক্তার-নার্সদের অক্লান্ত পরিশ্রমের কথা মিডিয়ায় আসে না