ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১৭ অক্টোবর ২০১৯, ২ কার্তিক ১৪২৬,    আপডেট ৫০ মিনিট আগে
ডা. শিরীন সাবিহা তন্বী

ডা. শিরীন সাবিহা তন্বী

মেডিকেল অফিসার, রেডিওলোজি এন্ড ইমেজিং ডিপার্টমেন্ট,

শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, বরিশাল।


৩১ মার্চ, ২০১৮ ১৫:৩০

এত কিছু করেও কেন ডাক্তাররা মূল্যহীন?

এত কিছু করেও কেন ডাক্তাররা মূল্যহীন?

ভুলটা কোথায় হলো? সব জাতীয় দিবসে সব সরকারী কর্মকর্তা ছুটি পান। বিশেষ প্রটোকল পান। কুচকাওয়াজ হয়। সিনিয়ররা জুনিয়রদের স্যালুট পান।

পুলিশ সপ্তাহ পালন হয়। পুলিশ এবং তাদের পরিবার সেদিন সম্মানিত হন। নিজেদের পুলিশ পিতা বা মাতাদের গৌরবের কথা জানতে পারে তাদের সন্তান। মুক্তিযুদ্ধে পুলিশের অবদান এমনকি বর্তমান সময়ে তাদের কাজ সম্পর্কে জানতে পারেন।

স্বসস্ত্র বাহিনী দিবস হয়। প্রধানমন্ত্রীর সাথে কর্মকর্তা কর্মচারী তাদের পরিবার সময় কাটান। লাঞ্চ,ডিনার করেন। প্রসাশনের কথা নাই বা বললাম। জনপ্রশাসন পদক মনে আছে নিশ্চয় ই সবার।

কে বড় কে ছোট,কে বেশী কাজ করে কে কম কাজে এই আলোচনা অবান্তর। কিন্তু এই বাংলাদেশে ডাক্তাররা যে চরম ভাবে নিগৃহীত এবং অন্যায়ের শিকার এ ব্যাপারে দ্বিমত থাকবার অবকাশ নেই। মুক্তিযুদ্ধের রনাঙ্গন থেকে সর্বশেষ সিলেটে বোমা হামলা ট্রাজেডী।

ভাষা আন্দোলনে ঢাকা মেডিকেলের ছাত্র ছাত্রীদের বলিষ্ঠ ভূমিকাই বলেন,মুক্তিযুদ্ধে যুদ্ধক্ষেত্রে এবং যুদ্ধাহতদের সুস্থ করতে,রানা প্লাজা ট্রাজেডীতে,প্রেট্রোল বোমা হামলা,বদরুল কতৃক খাদিজা আহত,বন্যা,মহামারী কিংবা রক্তাক্ত সিলেটে ছুটি বাতিল করে,ঘর সংসার শিকেতে তুলে মহান বীরের মতই সাহস,শক্তি এবং শ্রম নিয়ে চিকিৎসকরা ঝাঁপিয়ে পরেন রোগীদের সুস্থ করে তুলতে।

একমাত্র চিকিৎসা পেশার ভবিষ্যৎ কর্নধার ছাত্র ছাত্রীরা যুগ যুগ ধরে সন্ধানী,মেডিসিন ক্লাব,রেডক্রিসেন্ট নামক স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠানে নিজেদের নাস্তার টাকা বাঁচিয়ে শিক্ষকদের এবং সিনিয়রদের সহায়তায় হাজার হাজার থেলাসেমিয়া রোগীকে রক্ত দিয়ে বাঁচিয়ে রাখে। হিমোফিলিয়ার মত কষ্টকর রোগের রোগীদের মুখে হাসি ফোঁটায়। আর যখন কোন বড় দুর্ঘটনা ঘটে। রোগীর কাছের আত্মীয়রাও যখন রক্ত দিতে বাহানা করে আমাদের মেডিকেল ছাত্র ছাত্রী অচেনা সে মানুষদের জন্য নিজেদের শরীরের রক্ত দেন। সারা বছর ধরে সাধারন মানুষ রক্ত,ভেক্সিন এবং চোখের কর্নিয়া পেতে এদের থেকে চ্যারিটি সেবা পান।

আমরা নিরাহংকার,প্রচার বিমুখ আর খানিকটা অতি ভালোমানুষ টাইপের বলেই এত কিছু করেও দিন শেষে আমরা মূল্যহীন। নামের আগে ডা. লিখে জন প্রশাসন পদক দিয়ে এই পদকটাকেই প্রশ্নবিদ্ধ করা হয়নি,দেশের অর্ধ লক্ষাধিক ডাক্তারের ঘৃনা জমা করা হয়েছে।

কেন সরকারী ভাবে দেশের সকল ডাক্তারদের নিয়ে কোন সভা হয় না? কেন কোন ডাক্তার সপ্তাহ পালিত হয় না? কেন এই দেশে চিকিৎসকদের কাজের স্বীকৃতি স্বরূপ কোন পদক দেয়া হয় না? কি ঈদ,কি পূজা,কি পহেলা বৈশাখ,,স্বাধীনতা দিবস,বিজয় দিবসে ডাক্তাররা শুধু বিনামূল্যে রোগী দেখবেন। ডাক্তারদের দেখবে কে?

কবে কোন দিবসে ডাক্তারদের জন্য সরকারী আয়োজন হবে,যেখানে ডাক্তারদের বীরত্বের গল্পগাঁথা প্রচারিত হবে। ডাক্তারদের গুনকীর্তন হবে। ডাক্তারদের সন্তানরা গর্বিত হবে। ডাক্তাররা পুরষ্কৃত হবে। সম্মানিত হবে! বিশেষ দিবসে ফ্রি হেল্থ ক্যাম্প হয়। হাজার হাজার রোগী সেবা নেন।

এই বাংলাদেশে ফ্রি সার্ভিস কেবল ডাক্তার কেন দেবে? বাকী সব কর্মকর্তা যখন রেশন,মিশন,গাড়ী,বাড়ী,বাংলো,ট্যুর,ব্যাংক ব্যালেন্স আর নিজেদের ভূড়ী সামলাতে ব্যস্ত থাকবে ডাক্তাররা তখন বিনিদ্র রজনী কাটাবে রোগী সেবায়।

আর আপনারা? সরকারী হাসপাতালের পরিচ্ছন্ন সিসিইউতে থেকে হার্ট এট্যাকের চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ী ফেরবার আগে আপনার ফেস বুকের টাইম লাইনে কিংবা ডিসি,এসপির পেজে ঢুকে হাসপাতালের দু’খানা ছবি পোষ্ট করে লিখবেন,পরিচ্ছন্ন সরকারী হাসপাতাল,উন্নত চিকিৎসা,সুস্থ হয়ে বাড়ী ফিরছি।

ডিসি বা এসপি সাহেব আপনাকে ধন্যবাদ।

লেখক: ডা. শিরীন সাবিহা তন্বী

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত