ডা. তারাকী হাসান মেহেদী

ডা. তারাকী হাসান মেহেদী

মেডিকেল অফিসার, বিসিএস (স্বাস্থ্য)।


২৯ মার্চ, ২০১৮ ০৫:১৩ পিএম

ধর্ষণ কোনো যৌনতা নয়, এটি ক্রাইম

ধর্ষণ কোনো যৌনতা নয়, এটি ক্রাইম

কিছুদিন আগে ভারতের এক নারী এমন এক ধরনের কাপড়ের প্যান্টি আবিষ্কার করেন যা জোর করে খোলা সম্ভব নয়, আবার চাকু, ব্লেড ধারালো কিছু দিয়ে কাটাও যাবে না। ধর্ষণ থেকে নারীদের রক্ষা করতে তিনি এটা আবিষ্কার করেন। ব্যাপারটাকে হালকাভাবে নেওয়ার উপায় নেই।

নারীদের নিরাপত্তার কত অবনতি হয়ে গেছে তাই এটা প্রকাশ করে। ফলে এখন নিজেদের রক্ষার জন্য নিজেরাই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আবিষ্কার করছে।

এক পোস্ট থেকে জানলাম, স্বাধীনতার পর থেকে বাংলাদেশে এ পর্যন্ত মাত্র একজন ধর্ষকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে, তাও সেটা ঘটনা ঘটার উনিশ বছর পর! তথ্য সত্য হলে, এটা সত্যি ভয়াবহ বিষয়।

এখন তো আবার শুধু ধর্ষণ করেই ক্ষ্যান্ত হয় না, এরপর হত্যাও করে।

কোনক্রমে যদি মেয়েটি বেঁচেও যায়, তবুও সে মানসিকভাবে সম্পূরণরূপে মৃত হয়ে যায়। সে এমন একটা মানসিক ট্রমার মধ্যে দিয়ে যায়, তা থেকে সারা জীবনেও উঠে আসতে পারে না।

মধ্যযুগে মেয়েদের সতীত্ব রক্ষার চেষ্টায় একটি সিস্টেম খুব জনপ্রিয় ছিল। Chastity belt বা সতীত্ব বেল্ট। লোহার তৈরি জিনিসটা মেয়েদের গোপনাঙ্গে এমনভাবে সেট করে তালাবদ্ধ করে রাখা হত যে, কেউ চাইলেও মেয়েটির সাথে শারীরিক সম্পর্ক করতে পারতো না।

কারণ, ওই বেল্টের চাবি থাকতো পিতা বা স্বামীর কাছে। তাদের সতীত্ব যাতে বজায় থাকে কিংবা জোর করে যাতে কেউ ধর্ষণ না করতে পারে, সেজন্য এমন সিস্টেম চালু ছিল।

আধুনিক যুগে এসে এসব চেসটিটি বেল্টের ব্যবহারও বন্ধ হয়ে যায়। কিন্তু ধর্ষণের হার বেড়ে যাওয়াতে বর্তমানকালে অবশ্য আরও বেশ চমকপ্রদ জিনিস আবিষ্কার হয়েছে যার একটির কথা শুরুতেই বলেছি।

এরকম আরেকটি যন্ত্র হল ‘জাপ হওমান’ যা ২০০০ সালের দিকে আবিষ্কার হয়। মেয়েরা চাইলে এটি তাদের গোপনাঙ্গের ভেতর এমনভাবে সেট করতে পারে যে, কেউ যদি মেয়েটিকে ধর্ষণ করার চেষ্টা করে তবে তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে একটা ব্লেড বের হয়ে তার পুরুষাঙ্গ কেটে যাবে।

যাইহোক, আমরা এসব যন্ত্র চাই না। আমরা চাই দেশ থেকে ধর্ষণ নামক দানব চিরতরে বিদায় হোক।

ধর্ষণ কোনো যৌনতা নয়, এটা একটা ক্রাইম বা অপরাধ। এদেশে ধর্ষণের বিরুদ্ধে কঠোর থেকে কঠোরতম আইন তৈরি করা হোক। প্রয়োজনে শাস্তি হিসেবে প্রকাশ্যে রাজপথে সবার সামনে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হোক।

মানুষের পাছার ওপর দুটো ঘা পরলেই সোজা হয়। সেটা দেখে আরো দশজন সাবধান হয়। এটাই মানুষের বৈশিষ্ট্য। আমার মতে, ধর্ষণের জন্য এমন শাস্তির নিয়ম করলে বেশি না, একটা দুটো শাস্তি দিলেই এরপর আর কেউ কখনো ধর্ষণের চিন্তা মাথাতেই আনবে না।

তবে অনেক সময় দেখা যায়, দুজনের সম্মতিতে শারীরিক সম্পর্কে জড়ায়, এরপর কোন কারণে সম্পর্ক নষ্ট হলে ধর্ষণের অভিযোগ তুলে। এসবের কারণে সত্যিকার ধর্ষণের ঘটনারও গুরুত্ব কমে যায়।

ছেলে-মেয়ে উভয়েরই সম্মতিতে কিছু করার পর যদি মেয়েটি ধর্ষণের অভিযোগ আনে, তাহলে ওই ছেলে-মেয়ে দুজনেরই কঠিন শাস্তির ব্যবস্থা করা হোক।

এক্ষেত্রে দুজনকেই শাস্তি দিলে অন্য ছেলেমেয়েরা যেমন অবৈধ শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করার আগে দশবার ভাববে, তেমনি মিউচুয়াল সেক্স নামক ধর্ষণও আর থাকবে না।

আরও পড়ুন

► মেয়েরা ও মায়েরা সাবধান!

► ধর্ষণ প্রতিরোধ করার এখনই সময়

দাবি পেশাজীবী সংগঠনের, রিট পিটিশন দায়ের

‘বেসরকারি মেডিকেলের ৮২ ভাগের বোনাস ও ৬১ ভাগের বেতন হয়নি’

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
তুমি সবার প্রফেসর আবদুল্লাহ স্যার, আমার চির লোভহীন, চির সাধারণ বাবা
পিতাকে নিয়ে ছেলে সাদি আব্দুল্লাহ’র আবেগঘন লেখা

তুমি সবার প্রফেসর আবদুল্লাহ স্যার, আমার চির লোভহীন, চির সাধারণ বাবা

বেশিদিন ওমিপ্রাজল খেলে হাড় ক্ষয়ের ঝুঁকি বাড়ে 
কিডনি পাথরের ঝুঁকি বাড়ায় নিয়মিত অ্যান্টাসিড সেবন 

বেশিদিন ওমিপ্রাজল খেলে হাড় ক্ষয়ের ঝুঁকি বাড়ে 

ডাক্তার-নার্সদের অক্লান্ত পরিশ্রমের কথা মিডিয়ায় আসে না
জাতীয় হৃদরোগ ইন্সটিটিউটের সিসিউতে ভয়ানক কয়েক ঘন্টা

ডাক্তার-নার্সদের অক্লান্ত পরিশ্রমের কথা মিডিয়ায় আসে না