ঢাকা শুক্রবার, ১৮ অক্টোবর ২০১৯, ৩ কার্তিক ১৪২৬,    আপডেট ২৭ মিনিট আগে
ডা. তারাকী হাসান মেহেদী

ডা. তারাকী হাসান মেহেদী

মেডিকেল অফিসার, বিসিএস (স্বাস্থ্য)।


২৯ মার্চ, ২০১৮ ১০:৫৩

স্বল্প সময়ে বিসিএস প্রস্তুতি

স্বল্প সময়ে বিসিএস প্রস্তুতি

অনেকে আছে যাদের বিসিএস প্রস্তুতি বেশ অনেক দিনের। তাদের জন্য এই লেখা নয়। আবার অনেকে আছে যারা নতুন ও প্রস্তুতি স্বল্প দিনের, তাদের জন্য এই লেখা।

 যারা স্বল্প সময়ে বিসিএস প্রস্তুতি নিতে চায়, তাদের জন্য মাত্র চারটা জিনিস সাজেস্ট করতে চাই-

১. যেকোনো একটা বিসিএস প্রিলিমিনারি ডাইজেস্ট বই (এদিক থেকে আমার পছন্দ প্রফেসরস এর বইটা)।

২. জব সল্যুশন বই।

৩. কারেন্ট অ্যাফায়ার্স বা সাম্প্রতিক খবর-তথ্য নিয়ে মাসিকভাবে প্রকাশিত এরকম বই (কমপক্ষে পরীক্ষার আগের ছয় মাসের বইগুলো)।

৪. প্রতিদিনের সংবাদপত্র।

বিস্তারিত শুরু করছি শেষ পয়েন্ট থেকে

সংবাদপত্র পড়া মানে শুধু আনন্দ, খেলাধুলা বা বিনোদন পাতা পড়া নয়, প্রত্যেক পাতার খবর পড়া।

এতে বর্তমানে দেশে ও বিশ্বে কি ঘটছে, তা সম্পর্কে আপডেট থাকা যায়। সংবাদপত্র পড়ার সুবিধা হল, এটি মুখস্থ করতে হয় না। শুধু রিডিং পড়ে গেলেই এমনি এমনি সব মুখস্থ হয়ে যায়।

অনেকেই আছে সংবাদপত্র পড়েন না। তারা হয়তো বিসিএস উপলক্ষ্যে নতুন করে পড়া শুরু করছেন। কিন্তু আগের মাসের সংবাদের কি হবে?

তাদের জন্যই কারেন্ট অ্যাফায়ার্স ধরণের বই। প্রতি মাসের সংবাদ ও বিশেষ ঘটনাপ্রবাহ একসাথে করে এগুলো মাসিক ভিত্তিতে প্রকাশিত হয়। ফলে একটা বইয়ে পুরো মাসের সব কিছু পাওয়া যায়।

যারা নিয়মিত সংবাদপত্র পড়তে পারেন না, তাদের জন্য এই ধরণের বইগুলো কাজের।

জব সলুশ্যন বইয়ে বিগত বছরের সকল প্রশ্ন তো পাবেনই, এর সাথে পিএসসি সহ অন্য সকল প্রতিযোগিতামূলক চাকুরির পরীক্ষার প্রশ্নও আছে। এতে উত্তরসহ ব্যাখাও দেওয়া আছে।

এখান থেকে কয়েক বছরের প্রশ্ন পড়লে আপনি নিজেই বুঝতে পারবেন বিসিএসে আসলে কিরকম প্রশ্ন আসে। সে অনুযায়ী নিজে নিজেই স্বল্প সময়ে ভাল প্রস্তুতি নিতে পারবেন।

এই বইয়ে প্রত্যেক প্রশ্নের শেষে যে ব্যাখা দেওয়া আছে, সে ব্যাখাগুলো ভাল করে পড়লে বিকল্প অনেক কিছুই শেখা হয়। অনেক সময় একই টপিকসে ঘুরে ফিরে প্রশ্ন আসে।

যেমন ধরুন, একবার প্রশ্ন আসল, চর্যাপদ কে আবিষ্কার করেন? পরের বছর আসলো, চর্যাপদের আদি রচয়িতা কে? অর্থাৎ, প্রশ্ন ভিন্ন হলেও টপিকস একই থাকতে পারে।

এই বইও মুখস্থ করার দরকার নেই। শুধু প্রতিদিন শুয়ে শুয়ে প্রশ্নের পর প্রশ্ন উত্তর ও ব্যাখাসহ দেখে যান। যেগুলো জটিল মনে হবে, দাগ দিয়ে রাখবেন। পরে সেগুলো আবার দেখবেন।

 ডাইজেস্ট বই নিয়ে কিছু কথা:

আপনার কাছে সবচেয়ে যে বিষয়টি ইন্টারেস্টিং লাগে, সেটা দিয়ে শুরু করুন। নতুবা পড়ার আগ্রহ সেভাবে হয়তো পাবেন না। এখানেও মুখস্থ করার দরকার নেই। শুধু রিডিং পড়ে যাবেন।

কারো যদি বাংলায় আগ্রহ থাকে, তাহলে বাংলা দিয়ে শুরু করবেন। ইংরেজিতে আগ্রহ থাকলে ইংরেজি। কিছু ভাল না লাগলে মানসিক দক্ষতার চ্যাপ্টার পড়তে পারেন আগে। এগুলো বেশ মজার।

অনেকে মনে করে বিসিএস মানেই সাধারণ জ্ঞান, যার সাধারণ জ্ঞান ভাল, সে বিসিএসেও ভাল করবে। এটা বোগাস কথা।

কিছু বিষয় আছে অপরিবর্তনীয়। সেগুলোর দিকেই নজর বেশি দেওয়া উচিত। যেমন- বাংলা ব্যকরণ, ইংরেজি গ্রামার, বাংলাদেশ বিষয়াবলী, গনিত, বাংলা ও ইংরেজি সাহিত্য।

এই জিনিসগুলো দশ বছর আগেও যা ছিল, এখনো তাই আছে, দশ বছর পরেও তাই থাকবে। তাই এগুলোতে বেশি সময় দিলে কমন পড়ার পাশাপাশি ভাল মার্কস তোলা সম্ভব।

যেমন, সমাসের নিয়ম আগেও যা ছিল, এখনো তাই আছে, বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন যুগের যে কয়জন কবি, সব সময় সে কয়জনই থাকবেন, গণিতের সুত্রগুলো একই রকম সব সময়, বাংলাদেশের ইতিহাসও একই।

অপরদিক বিজ্ঞান ও তথ্য প্রযুক্তি, সাধারণ জ্ঞান, আন্তর্জাতিক বিষয়াবলী ইত্যাদি বিষয়গুলোর তথ্য প্রতিনিয়ত যোগ হচ্ছে। এগুলোর কোন শেষ নেই।

তবে যারা নিয়মিত সংবাদপত্র ও কারেন্ট আফায়ার্স পড়ে, তারা এগুলোতে ভাল করতে পারে। তাছাড়া প্রযুক্তিতে যাদের আগ্রহ, তারা সহজেই কিছু কিছু প্রশ্ন এমনিতেই কমন পেয়ে যাবেন।

আর একটু চেষ্টা করলেই মানসিক দক্ষতাতে মার্ক তোলা বেশ সহজ।

ইংরেজি সাহিত্যের অংশটুকু ডাইজেস্টে যা দেওয়া আছে, তা যথেষ্ট বলে মনে হয়। এখানে পড়া অল্প ও সেগুলো ফিক্সড। অল্প কিছু জিনিসই ভালোভাবে পড়লে এখানে অনেক বেশি মার্ক তোলা সম্ভব।

তবে হ্যাঁ, বিভিন্ন যুগ ও লেখক কবিদের ব্যাপারে মনে রাখা একটু কষ্টকর। কিন্তু প্রতিদিন একবার করে নিয়মিতভাবে দেখলে সহজেই মনে থাকবে।

মেডিকেল সায়েন্সের একশ মার্কের এমসিকিউ এর জন্য এখনো যেহেতু সিলেবাস দেওয়া হয়নি পিএসসি থেকে, তাদের জন্য আগের লিখিত পরীক্ষার সিলেবাসই আপাতত অনুসরণ করে পড়তে পারে।

আগের সিলেবাস অনুযায়ী, সাধারণ ও বেসিক জিনিসই বেশি আসে। তবে ক্লিনিক্যাল প্রশ্নও বেশ কিছু থাকে।

শেষ করার আগে একটা কথা জোর দিয়ে বলতে চাই। কোন কিছু জোর করে মুখস্থ করতে যাবেন না। এটা সময়ের শুধু অপচয়ই না, ব্রেনের উপরেও একটা অতিরিক্ত চাপ।

শুধু চোখ বুলিয়ে পড়ে যাবেন। দেখবেন এমনিতেই অনেক কিছু মনে রাখতে পারছেন।

একবার পড়ার পর যেটা কঠিন বা জটিল মনে হবে, দাগিয়ে রাখবেন পুনরায় পড়ার জন্য। এরপর সেটি দ্বিতীয়বার পড়বেন। এরপর সময় হলে তৃতীয়বার বা চতুর্থবার। কিন্তু মুখস্থ করার দরকার নেই, এখন সে সময়ও নেই।

কারণ, এটি এমসিকিউ পরীক্ষা। আপনাকে পরীক্ষার খাতায় না দেখে মুখস্থ লিখতে হবে না। উত্তর দেওয়াই থাকবে, শুধু সঠিক উত্তর খুঁজে বের করতে হবে।

এর পাশাপাশি কোন কিছু পড়ে নিজেরা গ্রুপ করে আলোচনা বা ডিসকাস করতে পারেন। এতে সহজে স্বল্প সময়ে অনেক কিছু পড়া হবে ও মনেও থাকবে।

সবচেয়ে বড় কথা যা হল, নিজের আগ্রহ সৃষ্টি করতে হবে। যদি জানার আগ্রহ নিয়ে পড়া শুরু করেন, তাহলে পড়তেও আপনার ভাল লাগবে, মনেও থাকবে সেটা।

নিয়মিত একটু একটু করে পড়ুন, দেখবেন একসময় সেটাই পাহাড়সম বিদ্যা হয়ে গেছে।

আরও পড়ুন:

বিসিএস পরীক্ষায় বসার যোগ্যতা

প্রসঙ্গ স্পেশাল বিসিএস: ট্রাম্প কার্ড প্রিলিমিনারি

৩৯তম স্পেশাল বিসিএস গেজেট আকারে প্রকাশ

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত