ঢাকা শুক্রবার, ১৮ অক্টোবর ২০১৯, ৩ কার্তিক ১৪২৬,    আপডেট ১৩ মিনিট আগে
ডা. মো: আবু শিহাব

ডা. মো: আবু শিহাব

বিসিএস (স্বাস্থ্য)

এফসিপিএস (শেষ পর্ব), মেডিসিন

এমডি (ফেইজ বি), এন্ডোক্রাইনোলজি

বিএসএমএমইউ।

 

 


২৬ মার্চ, ২০১৮ ১৪:১৩

৩৯ তম স্পেশাল বিসিএস, কিভাবে নিবেন প্রস্তুতি?

৩৯ তম স্পেশাল বিসিএস, কিভাবে নিবেন প্রস্তুতি?

অনেক প্রতীক্ষার পর গত ২৪ শে মার্চ সরকার গেজেট প্রকাশের মাধ্যমে স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত কল্পে নিয়োগ বিধিমালা ২০১৪ তে সংশোধনী নিয়ে আসে। ফলে প্রথম বারের মত জরুরী ভিত্তিতে স্পেশাল বিসিএস এর মাধ্যমে চিকিৎসক নিয়োগের সুযোগ উন্মোচিত হলো।

এটি তরুণ বা ভবিষ্যৎ চিকিৎসক দের জন্য নি:সন্দেহে একটি বড় পাওয়া। কারন এর পর থেকে সরকার স্পেশাল বিসিএস এর মাধ্যমে যে কোন সময় প্রয়োজন অনুযায়ী দ্রুত চিকিৎসক নিয়োগ দিতে পারবেন।

স্পেশাল এই বিসিএস নিয়োগে প্রিলি এর পর সরাসরি ভাইভা নেওয়া হবে, ফলে নিয়োগের দীর্ঘসূত্রিতা হ্রাস হবে। এতে কমে আসবে চিকিৎসক দের মানসিক চাপ। সময় পাওয়া যাবে পোস্টগ্রাজুয়েশন এর জন্য পড়ার।

 

কারা এই পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবেন?

MBBS পাশের পর বা শেষ বৃত্তিমূলক পরীক্ষায় অংশগ্রহনের পর বিসিএস পরীক্ষায় অংশগ্রহনের উপযুক্ত হিসাবে গণ্য হবে। তবে শর্ত থাকে যে, ভাইভা পরীক্ষায় MBBS এর মূল সনদ প্রদর্শন করতে হবে, সুতরাং ইন্টার্নশিপ শেষ না হলে ভাইভা তে বসতে পারবে না।


চিকিৎসক দের জন্য পরীক্ষায় অংশগ্রহনের সর্বোচ্চ বয়োস সীমা ৩২।

 

কোনটি পড়বেন বিসিএস না পোস্টগ্রাজুয়েশন? কোনটি কতটুকু পড়বেন?

বিসিএস জব মানে ফিক্সড আর্নিং সোর্স, মাথার উপরে একটা ছাতা।


তবে যারা গ্রামে জব করতে চান না তারা বিসিএস এর চিন্তা বাদ দিয়ে শুধু পোস্টগ্রাজুয়েশন এর জন্য পড়ুন।

বাকিরা অবশ্যই ৩৯ তম বিসিএস কে প্রায়োরিটি দিয়ে পড়ুন। বিসিএস এর বয়স সীমা আছে, পোস্টগ্রাজুয়েশনের নেই। কাজেই এইরকম একটা বিসিএস হাতছাড়া হলে সারা জীবন আফসোস করতে হতে পারে।

যারা প্রস্তুতিতে আগায়ে আছেন তারা পাশাপাশি পোস্টগ্রাজুয়েশনের জন্যও পড়াটা চালিয়ে যান। ভয় পাবার কিছু নেই আপনার প্রতিদ্বন্দি সবার অবস্থায় একই।

কাজেই বিসিএস টাকে মেইন রোড এ নিয়ে ফুল স্পীড দিন, আর পার্শ্বের রাস্তায় স্লো মোশান এ রাখুন পোস্টগ্রাজুয়েশন কে।

যারা ৩৮ বিসিএস এর রিটেন দিবেন তারা পুরা সময় কে ৫০-৫০ ভাগ করে নিন- ৩৮/৩৯ এর জন্য।

 

কি ভাবে পড়বেন মেডিকেল সাইন্স?

১০০ নম্বার এর কোশ্চেন থাকবে মেডিকেল/ডেন্টাল সাইন্স।

MBBS দের জন্য মেডিকেল সাইন্স আর BDS দের জন্য ডেন্টাল সাইন্স।

উভই ক্ষেত্রেই উদ্দেশ্য থাকবে আপনার MBBS/BDS লেভেল এর নোলেজ যাচাই করা।সুতরাং বেসিক এবং ক্লিনিক্যাল মিলিয়ে কোশ্চেন হবে।

পিএসসি এর স্টাইলেই কোশ্চেন হবে- অর্থাৎ ৪ টা অপশন একটা উত্তর। নেগেটিভ মার্কিং ০. ৫।

যেহেতু কোশ্চেন মেডিকেল কলেজ এর শিক্ষকরাই করবেন সুতরাং ইম্পর্টেন্ট বিষয় গুলো অবশ্যই থাকবে। কাজেই কমন জিনিস গুলো পড়ে ফেলুন চটপট।

বেসিক এর মধ্যে যে টপিকস গুলো ক্লিনিকেল কোরিলেশন এর জন্য প্রয়োজন হয় সেগুলো পড়ে ফেলুন।ক্লিনিকেল কোশ্চেন এ প্রাক্টিকেলি যেগুলো বেশি লাগে যেমন টিবি, ম্যালেরিয়া, কালাজ্বর, এনেমিয়া, এম আই, ডায়াবেটিস এরকম বিষয় গুলি দেখে রাখুন ভাল করে।

কাছে রাখতে পারেন জেনেসিস এর এক সেট লেকচার সীট।

 

জেনারেল বিষয় কিভাবে পড়বেন?

৩৯ বিসিএস এর জেনারেলের সিলেবাস টা নিম্নরূপ:

বাংলা-২০, ইংরেজি -২০, বাংলাদেশ বিষয়াবলি-২০, আন্তর্জাতিক-২০, মানসিক দক্ষতা-১০, গাণিতিক যুক্তি-১০

এক্ষেত্রে পুরাতন বিসিএস এর কোশ্চেন গুলো সলভ করে রাখুন, ধারনাও পাওয়া যাবে কমন ও পাওয়া যাবে সেখান থেকে।

আপডেটেড নলেজ রাখুন সাম্প্রতিক বিষয়ে। প্রতি মাসের কারেন্ট এফেয়ার্স পড়ে রাখুন। সাথে হেল্প নিন জর্জের এম্পি ৩ বা এস্যুরেন্সের ডাইজেস্ট থেকে।

সুযোগ পেলে ইনভলভ হয়ে যান ভাল কোন কোচিং এ, নিজেকে যাচাই করুন এক্সাম দিয়ে।

 

যারা মাত্র ফাইনাল প্রফ শেষ করলেন তারা কি করবেন?

হাতে সময় কম, বিসিএস পড়া শুরু করে দিন।ভবিষ্যত ই বলে দিবে আপনাদের ভাগ্যে কি আছে। কোন শ্রম ই বৃথা যায় না, ৩৯ এর ভাইভা দিতে না পারলেও পরবর্তিতে যে কোন বিসিএস এ কাজে লাগবে এই প্রস্তুতি। তবে হাত গুটিয়ে বসে থেকে এ ধরনের সুযোগ ছেড়ে দেওয়াটা বোকামি।

 

পোস্টিং এবং পোস্টগ্রাজুয়েশন:

যেহেতু বিসিএস এ পোস্টিং বাধ্যতামূলক, সুতরাং সবাই কে উপজেলা/ সাবসেন্টারে পোস্টিং দেওয়া হবে।

যারা কোর্সে আছেন তারা বিসিএস এ জয়েন এর জন্য ৩ বছর ছুটি পাবেন। এই সময় এর মধ্যে পুনরায় কোর্সে যোগদান করবেন।

যাদের পোস্টগ্রাজুয়েশন করা নাই তারা পোস্টিং এর পর চাকুরীরত সময়ে এফসিপিএস পরীক্ষায় অংশগ্রহন করতে পারবে। এফসিপিএস পার্ট ১ করা থাকলে ২ বছর চাকুরীর পর ট্রেনিং পোস্ট এর জন্য চেষ্টা তদবির শুরু করবেন।

চাকুরীর মেয়াদ ২/১* বছর পূর্ণ হলে এমডি, এম এস, ডিপ্লোমা কোর্সে ভর্তি হওয়ার সুযোগ পাবেন।

উপজেলা / সাবসেন্টারে ২ বছর চাকুরী বাধ্যতামূলক

[* ব্যাতীক্রম-

উপজেলা / সাবসেন্টারে ১ বছর চাকুরী বাধ্যতামূলক

  • নিম্নোক্ত বিষয় গুলিতে:

সকল বেসিক সাবজেক্ট, কার্ডিওথোরাসিক সার্জারী, এনেস্থিসিয়া।

  • নিম্নোক্ত দূর্গম এলাকা সমূহে পোস্টিং এর ক্ষেত্রে:

রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি, বান্দরবন, সন্দীপ, মনপুরা, হাতিয়া, কুতুবদিয়া, মহেশখালী, অস্টগ্রাম(কিশোরগঞ্জ), মিঠামইন, ইটনা, সাল্লা( সুনামগঞ্জ)]
 

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত