ডা. মুশফিক নেওয়াজ আহমেদ

ডা. মুশফিক নেওয়াজ আহমেদ

এমবিবিএস (ডিএমসি), বিসিএস (স্বাস্থ্য)

এমডি রেসিডেন্ট, পালমোনলজি, এনআইডিসিএইচ


২১ মার্চ, ২০১৮ ১২:২৩ পিএম

জার্নি টু ডেপুটেশন

জার্নি টু ডেপুটেশন

ডেপুটেশন নিতে গিয়ে ফর্মালিটিজ আর প্যারার গ্যাড়াকলে পড়ে মাঝে এসে মনে হচ্ছিলো-ধুর লাগবে না তোর ডেপুটেশন! তাই সব ঝামেলার শেষে সবার যাতে কিছুটা উপকার হয় তাই নিজের অভিজ্ঞতা শেয়ার করার জন্যেই এই লেখা। কাজ শুরু করবেন অন্তত দু থেকে আড়াই মাস আগে!

প্রথম ধাপ

সিভিল সার্জন ও সচিব,স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় বরাবর দুটো ভিন্ন আবেদনপত্র এবং তার সাথে অভিন্ন কাগজপত্র সংযুক্ত করে সিভিল সার্জন অফিসে জমা দিতে হবে! সিভিল সার্জন বরাবর আবেদনপত্রে আবেদনকারী হবেন ইউএইচএফপিও মহোদয় (উনার স্বাক্ষর থাকবে এতে) এবং সচিব বরাবর আবেদনপত্রে আবেদনকারী হবেন আপনি নিজেই! (দূর্গম অঞ্চল,পার্বত্য অঞ্চল,বেসিক সাব্জেক্ট,এনেস্থেশিয়া ও কার্ডিওথোরাসিক সার্জারী তে কোর্সে আসার সময় পেরিফেরি ২ বছরের কম হলে আবেদনপত্রের শেষে অবশ্যই শিথিলতার সাপেক্ষে প্রেষণ নীতিমালার সংশ্লিষ্ট ধারা উল্লেখ করবেন)

বি:দ্র:

১. ডেপুটেশনের আবেদনপত্র ও নতুন সংযুক্তিগুলো আজিজ সুপার মার্কেটের নিচ তলায় আপনি রেডি করে নিতে পারবেন!

২. সংযুক্তিতে পূর্বে পিডিএস ও এইচআরএম এর কপি সংযুক্ত করতে হতো।এখন থেকে শুধু এইচআরএম সংযুক্ত করলেই হবে যা ইউএইচসির পরিসংখ্যানবিদ সর্বশেষ আপডেট করে প্রিন্ট করে দিবেন-এ সুযোগে এইচআরএম এর এক্সেসটা জেনে নিবেন যাতে পরবর্তীতে নিজেই ইমেইল ও পাসওয়ার্ড দিয়ে শর্ট এবং লং পিডিএস এর মতো শর্ট এবং লং এইচআরএম প্রিন্ট আউট বের করতে পারেন!

৩. আবেদনপত্রের সেট করবেন অন্তত ৫ টা-এক সেট সবসময় নিজের কাছে অথবা ইউএইচসি অফিসে অফিস সহায়কের কাছে রাখবেন যেনো প্রয়োজনে তা সিভিল সার্জন অফিস অথবা ডিডি অফিসে পাঠানো যায় (ছাপাখানার ভূতের মতো বাংলাদেশের প্রতিটা অফিসেই ভূত থাকে যা যেকোনো সময় আপনার ফাইল গাপ করে দিতে পারে!)

৪. আবেদনপত্র দুটো হলেও নন-জুডিশিয়াল স্টাম্প হবে একটি,বাকিগুলো ফটোকপি হলেই চলবে!

৫. কোনো আবেদনপত্রের জন্যই কোনো স্মারক নং লাগবে না,তারমানে ইউএইচএফপিও র সাইন নিয়ে আপনি নিজেই সাথে সাথে এবং সরাসরি সিভিল সার্জন অফিসে জমা দিতে পারবেন!

দ্বিতীয় ধাপ

ফাইল সিভিল সার্জন অফিস ও ডিডি অফিস ঘুরে পৌছাবে ডিজি অফিসে! (পার্বত্য অঞ্চল হলে চিঠি চিঠি খেলা হবে সিভিল সার্জন ও জেলা পরিষদের মধ্যে,জেলা পরিষদ অনুমোদন না দিলে সিভিল সার্জন অফিস থেকে ফাইল ডিডি/ডিজি অফিসে যাবে না!) ডিজি অফিসের পুরনো বিল্ডিং এর ২ তলায় ২১১ নং রুমে আছেন আনিছ যিনি ফাইল রিসিভ করা,সাইন করানো,অর্ডার ইশু করা এবং সচিবালয়ে প্রেরণের কাজটা করেন! তার মোবাইল নাম্বার-০১৯১৮-১২৩১২৫! সাধারণত ফাইল ডিজি অফিসে ইন করা এবং সচিবালয়ে পৌছানো-এর মধ্যে সময় ব্যবধান হয় ২ সপ্তাহ!

বি:দ্র: 

১. অনেক সময় খোজ না নিলে ডিজি অফিসে ফাইল সাইন করানোতে দেরী হতে পারে,আমি নিজে পরিচালক স্যারের সাথে সরাসরি দেখা করে দিনে দিনেই অর্ডারে সাইন নেওয়ার ব্যবস্থা করেছিলাম!

২. আপনি চাইলে আনিছকে বলে এবং "রিসিভড" সাইন করে ডিজি অফিসের অর্ডারের কাগজ হাতে হাতে সচিবালয়ে পৌছে দিতে পারেন! এক্ষেত্রে আমাকে সাহায্য করেছিলো সচিবালয়ের নাসিম-০১৭১২-০৫৭৬১৩!

৩. সচিবালয়ে অর্ডার ইশু হতে ২ সপ্তাহের মতো লাগে-পোক না করলে দেরী হতে পারে,প্রয়োজনে নিজের মেইল নাম্বার দিয়ে রাখবেন যাতে ইশ্যু হওয়ার দিন ই আপনি মেইল এ পেয়ে যান,ওয়েবসাইটে অর্ডার যেতে দেরী হয়!

তৃতীয় ধাপ

অর্ডার হাতে পেয়ে গেলেই আপনি সিভিল সার্জন কে এড্রেস করে আবেদনপত্র লিখবেন যাতে ইউএইচএফপিও মহোদয় ফরোয়ার্ডিং দিবেন! এই আবেদনপত্র যাবে সিভিল সার্জন অফিসে যেখানে সিভিল সার্জন অফিস থেকে একটি ছাড়পত্র ইশ্যু হবে যেখানে স্মারক নং বসবে! এই স্মারক নং ব্যবহার করে ইউএইচসি অফিস থেকে সর্বশেষ ছাড়পত্র ইশ্যু হবে যা পরবর্তীতে ডিজি অফিসে জয়েনিং এ ব্যবহৃত হবে!ইউএইচসি ছেড়ে আসার সময় অবশ্যই যে কাজগুলো করতে হবে-

-আর্টিকেল ৪৭ ইশ্যু করা

-আর্টিকেল ৪৭,অর্ডার আর ছাড়পত্র সাবমিট করে পরিসংখ্যানবিদ কে দিয়ে এইচআরএম এ "মুভ আউট" করা

-আর্টিকেল ৪৭,সিভিল সার্জন অফিস ও ইউএইচসি অফিস থেকে নেওয়া ছাড়পত্র ও ডেপুটেশন অর্ডারের কপি একাউন্টস অফিস এ জমা দিয়ে এলপিসি বা শেষ বেতনের প্রত্যয়নপত্র সংগ্রহ!

চতূর্থ ধাপ

ওএসডি হিসেবে জয়েন করতে যেতে হবে ডিজি হ্যালথ এর নতুন বিল্ডিং এ যা টিবি গেইট এ অবস্থিত! জয়েনিং এ লাগবে আবেদনপত্র,ডেপুটেশন অর্ডার, এইচ আর এম আর ইউএইচসির ছাড়পত্র আর পূরণ করতে হবে জয়েনিং লেটার! জয়েনিং লেটার আর আবেদনপত্র পাওয়া যাবে ডিজি অফিস থেকে একটু সামনে ব্র‍্যাক ইউনিভার্সিটি র পেছনে এস এ কম্পিউটার দোকানে, তাই ডিজি অফিসে না ঢুকে সরাসরি ওখানেই প্রথমে চলে যাওয়া ভালো! সব কিছু গুছিয়ে যেতে হবে নতুন ডিজি অফিসের ৪ তলায় ফারুক এর কাছে-০১৭৪৫-৬৬০৪২২! জয়েনিং শেষে জয়েনিং লেটার নিয়ে নিচ তলায় এইচআরএম রুমে গিয়ে "মুভ ইন" করে নিলেই শেষ হবে ডিজি অফিসের কাজ!

পঞ্চম ধাপ

ডিজির জয়েনিং লেটার,ডেপুটেশন অর্ডার,ইউএইচসির ছাড়পত্র,এমডি/এমএস এর এডমিট কার্ড ও ফলাফল নিয়ে যার যার প্রতিষ্ঠান প্রধান বরাবর আবেদনপত্র জমা দিয়ে শুরু হবে আপনার কোর্স!

ডা. মুশফিক নেওয়াজ আহমেদ

এমবিবিএস(ডিএমসি),

বিসিএস (স্বাস্থ্য) এমডি রেসিডেন্ট, পালমোনলজি, এনআইডিসিএইচ

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
তুমি সবার প্রফেসর আবদুল্লাহ স্যার, আমার চির লোভহীন, চির সাধারণ বাবা
পিতাকে নিয়ে ছেলে সাদি আব্দুল্লাহ’র আবেগঘন লেখা

তুমি সবার প্রফেসর আবদুল্লাহ স্যার, আমার চির লোভহীন, চির সাধারণ বাবা

বেশিদিন ওমিপ্রাজল খেলে হাড় ক্ষয়ের ঝুঁকি বাড়ে 
কিডনি পাথরের ঝুঁকি বাড়ায় নিয়মিত অ্যান্টাসিড সেবন 

বেশিদিন ওমিপ্রাজল খেলে হাড় ক্ষয়ের ঝুঁকি বাড়ে 

ডাক্তার-নার্সদের অক্লান্ত পরিশ্রমের কথা মিডিয়ায় আসে না
জাতীয় হৃদরোগ ইন্সটিটিউটের সিসিউতে ভয়ানক কয়েক ঘন্টা

ডাক্তার-নার্সদের অক্লান্ত পরিশ্রমের কথা মিডিয়ায় আসে না