ঢাকা      রবিবার ২১, অক্টোবর ২০১৮ - ৬, কার্তিক, ১৪২৫ - হিজরী



অধ্যাপক ডা. একেএম, মোস্তফা হোসেন

বক্ষব্যাধি ও এ্যাজমা বিশেষজ্ঞ


ধূলাজনিত এ্যালার্জির কারণে এ্যাজমা রোগী বৃদ্ধি পাচ্ছে

শ্বাসকষ্ট জনিত কারণে সাধারণত অ্যাজমা বা হাঁপানির সৃষ্টি হয়ে থাকে। হাঁপানি মানুষের দেহের এক অসহনীয় ও যন্ত্রণাদায়ক ব্যাধি। আর এই শ্বাসকষ্টের উপদ্রব হয় নানা রকম অ্যালার্জি সৃষ্টিকারী এলার্জনের কারণে। এলার্জেন সমূহ হচ্ছে, ধূলোবালি, ফুলের রেণু, মাইটের মল, পরিবেশের ধূলা, পোষা প্রাণীর লোম ইত্যাদি।

অ্যালার্জিজনিত হাঁপানীর একটি প্রধান কারণ হচ্ছে ধূলো। মানুষের প্রাত্যহিক জীবনে ধূলোবালি এমন এক বিরক্তিকর জিনিস যা কিনা এড়িয়ে চলা সম্ভব নয়। বাসা বাড়িতে বিভিন্ন জায়গায় জমে থাকা ধূলোবালি, অফিসের খাতাপত্র বা ফাইলে জমে থাকা ধূলো এবং রাস্তাঘাটে প্রতিনিয়ত যে ধূলো উড়ছে তা হাঁপানী বা শ্বাসকষ্টের প্রধান উদ্রেগকারী। ধূলোবালী মানুষের শ্বাসপ্রশ্বাসের সাথে শ্বাসযন্ত্রে প্রবেশ করে শ্বাসকষ্টের পরিমাণ বাড়িয়ে দেয়। অন্য সকল এলার্জনের চেয়ে ধূলো খুব সহজে নি:শ্বাসের সাথে মানুষের ফুসফুসে প্রবেশ করতে পারে। ফলে খুব দ্রুত সর্দি-কাশি হয় এবং শ্বাসকষ্টের সৃষ্টি হয়।

সব ধরণের বা সব জায়গায় ধূলোই যে হাঁপানী বা অ্যাজমার জন্য খুব বেশি ক্ষতিকারক তা কিন্তু নয়। ঘরে বা অফিসে জমে থাকা ধূলো রাস্তার ধূলোর চেয়ে বেশি ক্ষতিকারক। রাস্তার ধূলোতে থাকে অজৈব পদার্থ যাতে হাঁপানী, এ্যাজমা, সর্দি, কাশি, হাঁচি বা শ্বাসকষ্টের তেমন কষ্ট হয় না। তবে রাজপথে যে যানবাহন চলাচল করে তাতে যে ধূলোবালি, ধোঁয়া থাকে তা হাঁচি বা শ্বাসকষ্টের উদ্রেককারীর অন্যতম পদার্থ।

পুরাতন জমে থাকা ধূলো বা ময়লা হাঁপানীর জন্য ক্ষতিকর, কারণ এতে মাইট, ফুলের রেণু, তুলার আঁশ, পোষা প্রাণীর লোম, ব্যাকটেরিয়া এবং বিভিন্ন প্রকার ছত্রাক মিশে থাকে।

এক গবেষণায় দেখা গেছে যে, মাইটের কারণেই প্রধানত ধুলোবালি অ্যাজমা রোগীদের জন্য বিপজ্জনক। এটি হচ্ছে এক প্রকার অর্থোপড জীব। এই পোকা এত ছোট যে খালি চোখে দেখা যায় না। আর্দ্রতাপূর্ব আবহাওয়া মাইট বড় হওয়ার এবং বংশবৃদ্ধির যথোপযুক্ত পরিবেশ। আর এর বাসস্থান হচ্ছে মানুষের ব্যবহৃত বিছানা, বালিশ, কার্পেট। মাইটের শরীর থেকে নির্গত মল, লালা, রস ধূলার সঙ্গে মিশে মানুষের শ্বাসের সাথে দেহে প্রবেশ করে এ্যালার্জির সৃষ্টি করে যা কিনা পরে হাঁপানীতে রূপ নেয়।

এ কারণে বর্তমানে আমাদের দেশে ধূলাজনিত এ্যালার্জির কারণে এ্যাজমা রোগীর পরিমাণ বেশি। গ্রামের তুলনায় শহরের বেশিরভাগ লোক এ রোগে আক্রান্ত হয়ে থাকে। শহরে দূষিত বায়ুর কারণে এ ধরণের রোগীর সংখ্যা আরও বৃদ্ধি পাচ্ছে। এছাড়া ঋতু পরিবর্তনের উপরও হাঁপানী বা শ্বাসকষ্টের হ্রাস বৃদ্ধি নির্ভর করে। আমাদের দেশের আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক। শুষ্ক আবহাওয়ার কারণে বাতাসে মাইটের পরিমাণ বেশি। যাদের ধূলোর কারণে শ্বাসকষ্ট এ্যালার্জির সৃস্টি হয়, তাদের কতগুলো বিষয়ের প্রতি সতর্ক থাকতে হবে-

  • এমন পরিবেশে চলা যাবে না যেখানে ধূলোর পরিমাণ বেশি।
  • ঘর পরিষ্কার এবং বিছানা পত্র ঝাড়ু দেবার সময় মুখে মাস্ক ব্যবহার করতে হবে।
  • মাইট বেড়ে উঠার উপযুক্ত পরিবেশ যাতে সৃষ্টি না হয় সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে।
  • এ্যালার্জি প্রতিরোধক টিকা ইমিউনোথেরাপি ব্যবহার করা।

ইমিউনোথেরাপি হচ্ছে এমন এক ধরণের ওষুধ যা কিনা দেহের ভিতরে এ্যালার্জির বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে তোলে। বর্তমান বিশ্বে আধুনিক চিকিৎসার একটি অন্যতম ওষুধ ভ্যাকসিন বা ইমিউনোথেরাপি। তবে আমেরিকাতে বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে এসব ভ্যাকসিনের কার্যকারিতা বেশি দিন থাকে না। আমাদের দেশেও এখন হাঁপানীর যুগোপযোগী পদ্ধতি এবং ওষুধ রয়েছে। তাই এ রোগ হলে অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়া উচিত। অনেকে ভুল ধারণা করে থাকে যে, হাঁপানী একবার হলে তা আর কোনদিন ভাল হবে না। কিন্তু এটি সঠিক নয়। সঠিক সময়ে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হলে হাঁপানী রোগটি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।  তাই এই ব্যাপারে রোগী এবং চিকিৎসকসহ সমাজের সকল স্তরের মানুষকে সজাগ এবং সতর্ক থাকতে হবে।

ইত্তেফাক

সংবাদটি শেয়ার করুন:

 


স্বাস্থ্য বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

মুলারিয়ান এজেনেসিস: প্রকৃতির অবিবেচক খেয়াল ও প্রমিতির কান্না

মুলারিয়ান এজেনেসিস: প্রকৃতির অবিবেচক খেয়াল ও প্রমিতির কান্না

প্রমিতি, বয়স- ১৬। এইচএসসি ১ম বর্ষে পড়ে। প্রাণবন্ত, উচ্ছ্বল প্রজাপতির মতো। যখন কথা…

বউয়ের জন্য আমার পুলাডার আজ এই অবস্থা!

বউয়ের জন্য আমার পুলাডার আজ এই অবস্থা!

বউয়ের হাওয়া ভাল না, বিয়ের তিনমাস না যেতেই স্বামী অসুস্থ! মন্টু মিয়ার…

প্রি মিনস্ট্রুয়াল সিনড্রোম

প্রি মিনস্ট্রুয়াল সিনড্রোম

আচ্ছা! প্রি মিনস্ট্রুয়াল সিনড্রোম নিয়ে একটু কথা বলি। প্রায় আশিভাগ মেয়েই এই…

ভাগ্যের নির্মম পরিহাস

ভাগ্যের নির্মম পরিহাস

২০১০ সালের জুন মাসে ঘটে যাওয়া নিমতলী ট্র্যাজেডির কথা কি মনে আছে?…

মাথা ব্যথার সাথে বমি মারাত্মক রোগের লক্ষণ!

মাথা ব্যথার সাথে বমি মারাত্মক রোগের লক্ষণ!

একজন ভদ্রলোক (বয়স ৩৫ এর কাছাকাছি) আমাদের ওয়ার্ডে ভর্তি পেটে ব্যথা এবং…

ত্বকের সমস্যা অতিরিক্ত গ্লুকোজের লক্ষণ প্রকাশ করতে পারে

ত্বকের সমস্যা অতিরিক্ত গ্লুকোজের লক্ষণ প্রকাশ করতে পারে

অ্যাকানথোসিস নিগরিকান্সে আক্রান্ত হলে শরীরের বিভিন্ন স্থানে ত্বকের রঙ সাধারণত কৃষ্ণকায় কালো…



জনপ্রিয় বিষয় সমূহ:

দুর্যোগ অধ্যাপক সায়েন্টিস্ট রিভিউ সাক্ষাৎকার মানসিক স্বাস্থ্য মেধাবী নিউরন বিএসএমএমইউ স্বাস্থ্যমন্ত্রী ঢামেক গবেষণা ফার্মাসিউটিক্যালস স্বাস্থ্য অধিদপ্তর