ডা. নাজিরুম মুবিন

ডা. নাজিরুম মুবিন

মেডিকেল অফিসার, মিনিস্ট্রি অব হেলথ অ্যান্ড ফ্যামিলি ওয়েলফেয়ার


১৮ মার্চ, ২০১৮ ০৯:০৪ পিএম

জাহানারা ইমামের ক্যান্সারের সাথে বসবাস

জাহানারা ইমামের ক্যান্সারের সাথে বসবাস

জাহানারা ইমামের ক্যান্সার ধরা পড়েছিল ১৯৮১ সালে। দশ বছর পর ১৯৯১ সালে প্রকাশিত হয় তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থ 'ক্যান্সারের সাথে বসবাস'।

জাহানারা ইমামের ক্যান্সার প্রথম সন্দেহ করেছিলেন পাড়ার গলির মুখের চেম্বারে বসা, সদ্য পাশ করা নবীন দাঁতের ডাক্তার। সেদিন অনেক বৃষ্টি থাকায় লেখিকা তার পুরনো দাঁতের ডাক্তারের চেম্বারে যেতে পারেননি। এরপর দেশের সিনিয়র প্রফেসর এবং দুইজন আমেরিকান ডাক্তার দেখানো হয়। সবাই তাকে আশ্বস্ত করেন। সাইনাই হসপিটাল অব ডেট্রয়েটের ডা. ম্যাকিন্টশ বলেই বসেন, "বিলিভ মি মিসেস ইমাম, ক্যান্সার আপনার হয়নি।" এরপরেও লেখিকার জোরাজুরিতে ৩ সপ্তাহের জায়গায় ১ সপ্তাহের মধ্যে বায়োপসি করা হয়। এবং শেষ মেষ সেই 'পাড়ার গলির মুখের চেম্বারে বসা, সদ্য পাশ করা নবীন দাঁতের ডাক্তারের' সন্দেহই সত্য প্রমাণিত হয়।

ঢাকা মেডিকেলের ক্যান্সার বিভাগে কাজ করার পর আমার একটি ব্যক্তিগত অভিমত হলো, বাংলাদেশের যত ক্যান্সার রোগী আছেন তাদের প্রায় অর্ধেক এই প্রাণঘাতী রোগ ধরা পরার পর কোন না কোন পর্যায়ে হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা গ্রহণ করেছেন। জাহানারা ইমামও এর ব্যতিক্রম নন। আমেরিকার ডাক্তার বায়োপসি রিপোর্ট দেখে যখন উনাকে অতিসত্বর অপারেশন করতে বলেন, তখন উনি বলেন, "এদেশে অপারেশন করাব না, ঢাকা ফিরে হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা করাব।"

জাহানারা ইমামের পুত্র জামী বুঝায়, পুত্রবধূ ফ্রিডা বুঝায়, ভাই শামু ট্র্যাভার্স সিটির লেকের পাড়ে বসে বুঝায়, "বুবু আপনি যদি এখানে চিকিৎসা না করে দেশে ফিরে যান, তাহলে কোন সন্দেহ নেই আপনি মারা যাবেন। কিন্তু তিনি তার সিদ্ধান্তে অটল। অবশেষে ফ্রিডার শেষ অস্ত্রে কুপোকাত হন তিনি, "মামনি তুমি তোমার নাতি নাতনি না দেখেই চলে যাবে? তোমার যে এত জ্ঞান, তোমার সারাজীবনের এত অভিজ্ঞতা, সে সবের ভাগ তুমি নাতি নাতনিদের না দিয়েই চলে যেতে চাও?"

অপারেশন সফলভাবে শেষ হলো। দাঁত, চোয়ালের একাংশ, লিম্ফগ্ল্যান্ড কাটাকুটির ফলে লেখিকার মুখের গঠন নষ্ট হয়ে গেল। সবাই লেখিকার যে হাসির প্রশংসা করতো 'সেই অনবদ্য হাসি আর থাকল না। থাকল না সেই মরাল গ্রীবার সৌকুমার্য।'

ডা. ম্যাকিন্টশ ফলোআপের জন্য লেখিকাকে ১ বছর আমেরিকায় থাকতে বলেছিলেন। কিন্তু মাসখানেক যেতে না যেতেই লেখিকা ঢাকা আসার জন্য অস্থির হয়ে পড়েন। সুন্দর, পরিষ্কার, ছবির মতো দেশে তার মন টিকে না। 'এখানে কোলাহল নেই, বাচ্চা কাচ্চার চেঁচামেচি নেই, রাস্তায় ভীড় নেই, গলিতে ফেরিওয়ালার হাঁক নেই, দরজায় ফকিরের ঘ্যানর ঘ্যানর নেই।' এই জ্বলাগুলোই লেখিকাকে চুম্বকের মতো টানছিল।

দেশে ফেরার এক মাসের মধ্যেই বাঁদিকের ভেতরের মাড়িতে একটুখানি উঁচু মতো লেখিকার আঙ্গুলে লাগলো। এবার তিনি হোমিওপ্যাথি ডাক্তার তালুকদারের কাছে গেলেন। উনি জোর দিয়ে বললেন, "হোমিওপ্যাথি চিকিৎসায় অবশ্যই ক্যান্সারের ওষুধ আছে। এবং এতে ক্যান্সার ভালো হয়।" তালুকদার সাহেব চিকিৎসা শুরু করেন। পরবর্তী এক বছর লেখিকা তালুকদার সাহেবের চিকিৎসা গ্রহণ করেন।

মাসছয়েক পর ঘা জিভের তলার দিকে এগিয়ে যায়। লেখিকা বলেন, "জিভের তলায় তো ধীরে ধীরে গর্ত হয়ে যাচ্ছে।" প্রতিউত্তরে হোমিও ডাক্তার তালুকদার বলেন,"আল্লা ভরসা। ওষুধ তো দিচ্ছি।" কিন্তু ঘা বসে থাকে না। সময়ের সাথে সাথে বেড়েই চলে। একসময় জিভের তলায় দেড় ইঞ্চিমতো গর্ত হয়ে যায়। লেখিকা বলেন,"ডাক্তার ঘা যে বেড়েই চলেছে। কী হবে?" ডাক্তার মাথা চুলকে ভরসা দেন,"আল্লা ভরসা। ওষুধ তো খুব চিন্তা করে মাথা খাটিয়ে দিচ্ছি।"

বাংলাদেশের ক্যান্সার রোগী মনস্তত্বের আরেকটি বড় দিক হলো চিকিৎসার জন্য ভারত যাওয়া। জাহানারা ইমামও একই পথে হেঁটেছিলেন। হোমিওপ্যাথি চিকিৎসায় সুফল না পেয়ে কলকাতা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যাওয়ার জন্য যাবতীয় সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করে ফেলেন তিনি। প্লেনের টিকেট পর্যন্ত কেনা হয়। সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় তাকে রিসিভ করতে দমদম এয়ারপোর্টে আসবেন। সমরেশ মজুমদার কলকাতায় লেখিকার থাকার বন্দোবস্ত করে ফেলেন। কিন্তু শেষ মুহূর্তে জামীর ফোনে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন হয়। কলকাতার টিকেট ফেরত দিয়ে আমেরিকার ডেট্রয়েটের টিকেট কাটা হয়।

এবার ডা. ম্যাকিন্টশ দেরি করে আসার জন্য প্রথমেই একচোট বকুনি দিলেন। বিনিময়ে লেখিকা শুনিয়ে দিলেন এক বিরাট লেকচার। "আপনি তো জানেন আমার হেলথ ইনস্যুরেন্স নেই। এদেশে চিকিৎসার খরচ প্রচণ্ড। আপনাদের কাছে অনুরোধ করেছিলাম ফি কিছু কম নিতে, আপনারা এক পয়সাও কমাননি। আপনাদের এই ধনী দেশে আপনারা ডাক্তাররা সবচেয়ে ধনী, কিন্তু একটা মানুষের ইনস্যুরেন্স নেই জেনেও আপনারা বিন্দুমাত্র বিচলিত হন না। অথচ আমাদের গরীব দেশে বড়ো ডাক্তাররা অনেক অভাবী পেসেন্টদের কাছ থেকে এক পয়সাও ফি নেন না। এবারও আমার ইনস্যুরেন্স হয়নি তাই আসব কি আসব না করতে করতে এত দেরি হয়ে গেছে।"

ডা. ম্যাকিন্টশ এবার সাথে সাথে অপারেশন করতে চাইলেন না। আগে কিমোথেরাপি দিয়ে ঘাটা ছোট করা হবে তারপর অপারেশন। লেখিকাকে পাঠানো হলে অনকোলজিস্ট ডা. সামুরীর কাছে।

ডা. সামুরী লেবাননের ছেলে। ডাক্তারি পড়েছেন ইরাকে। গত ষোল বছর ধরে আমেরিকায় বসবাস করছেন। এই ডাক্তারটি অন্য আমেরিকানদের মতো যান্ত্রিক নন। চিকিৎসার ফাঁকে ফাঁকে লেখিকার কথা, লেখিকার দেশের কথা জানতে চেয়েছেন। নিজের কথা, নিজের দেশের কথা বলেছেন, বউ-মেয়ের সাথে পরিচয় করিয়ে দিয়েছেন।

আমেরিকায় প্রত্যকে ডাক্তারের চেম্বারে গেলে নার্স যে প্রশ্নটা করে তা হলো, তোমার ইনস্যুরেন্স আছে? হাসপাতালে ভর্তি হবার সময়ও অবধারিত প্রশ্ন এটা। লেখিকার উত্তর ছিল সব জায়গাতেই এক, না নেই। এরপরেও বিলের ব্যাপারে কোন ছাড় তিনি পাননি। ব্যতিক্রম ছিলেন ডা. সামুরী। কিমো পেশেন্টদের ঘনঘন রক্ত পরীক্ষা করা লাগে। এই পরীক্ষাগুলো সামুরী নিজে তার চেম্বারেই করেন। কিন্তু একবারও তিনি পরীক্ষার ফি নেন নি। এমনকি এক্সরে ক্লিনিককেও অনুরোধ করে পাঠালেন, লেখিকার হেলথ ইনস্যুরেন্স নেই। তারা যেন এক্সরে ফি-র ব্যাপারটা বিবেচনা করে।

ডা. সামুরীর তত্ত্বাবধানে ৩ সাইকেল কিমোথেরপির পর জিভের তলার নিচের ঘা, গর্ত একেবারেই মিলিয়ে গেল। লেখিকার ২য় দফা অপারেশন হলো। এবারের অপারেশনটা আরো বড়। অপারেশনের পর তিনি অনেক দিন কথা বলতে পারেন নি, কিছু খেতে পারেন নি। হাসপাতাল থেকে বাসায় ফিরে আয়নায় নিজের চেহারা দেখে হাউমাউ কেঁদে ফেললেন তিনি। নিজেকে চেনার কোন উপায় নেই। জিভটা বের হয়ে আছে। হিন্দু দেবী মা কালীর মতো। সিদ্ধান্ত নিলেন এই চেহারা নিয়ে কারো সামনে যাবেন না তিনি। পরিচিতজন তাকে যতই সান্ত্বনা দেন তিনি ভাবেন, অল্প পরিচিত, অপরিচিত কেউ তাকে দেখলে নিশ্চিত ঘেন্নায় শিউরে উঠবে। এই অশান্তি লেখিকাকে কুরে কুরে খেতে লাগলো। রাতের ঘুম নষ্ট হলো। দিনের স্বস্তি চলে গেল।

ডা. সামুরীর চেম্বারে ফলোআপের জন্য এসে জাহানার ইমাম আক্ষেপ করে বললেন, "আমার চেহারা এইরকম হবে বুঝতে পারলে আমি কিছুতেই অপারেশনে রাজি হতাম না।আই হেইট মাই ফেইস নাউ। আয়াম সো আনহ্যাপী।" ডা. সামুরী কাজ থেকে মুখ তুলে একবার শুধু তাকালেন কিন্তু কোন কথা বললেন না।

বিদায়কালে ডা. সামুরী সবসময় লেখিকার কপালে চুমু দিয়ে থাকেন। এখন লেখিকার জিভটা সবসময় বেড়িয়ে থাকে। কপালে চুমু খেতে গেলে লেখিকার জিভটা ডাক্তারের থুতনিতে লেগে যেতে পারে তাই লেখিকা গাল এগিয়ে দিলেন। তাই দেখে ডা. সামুরী বলে উঠলেন, "নো, আই ওয়ান্ট টু কিস দ্যা টিপ অব ইয়োর টাং।" লেখিকা এক পা পিছিয়ে যেতেই উনি দুই হাত লেখিকার কাঁধে ধরে দুষ্টূমি ভরা হাসি দিয়ে বলেন, "নো নো আই স্টিল ওয়ান্ট টু বাইট দ্যাট টাং।" লেখিকার সারা গায়ে কাঁটা দিয়ে উঠলো। কান গরম হয়ে গেল। শেষ পর্যন্ত কিছুই হয়নি কিন্তু পুরো বিষয়টাই ছিল লেখিকার জন্য মানসিক চিকিৎসা। এই ঘটনার পরে লেখিকা নিজের চেহারা নিয়ে আর মন খারাপ করেন নি।

জাহানারা ইমাম এই বই প্রকাশের ৪ বছরের মাথায় মারা যান। জীবনের শেষদিনগুলোতে তিনি আরো কষ্ট পেয়েছেন। সেই কথাগুলো এই বইয়ে নেই। লেখিকার পুত্র জামী কিংবা পুত্রবধূ ফ্রিডা সেই কথাগুলো এই বইয়ের শেষে আরেকটি চ্যাপ্টার হিসেবে যোগ করতে পারতেন। যেমনটা লিখেছেন লাং ক্যান্সারে মারা যাওয়া পল ক্যালানিথির স্ত্রী লুসি ক্যালানিথি 'হোয়েন ব্রেদ বিকামস এয়ার' বইয়ের শেষ চ্যাপ্টারে।

জাহানারা ইমামের সবচেয়ে বিখ্যাত বই একাত্তরের দিনগুলি, যেখানে একটি দেশের জন্মকথা লেখা আছে। আর ক্যান্সারের সাথে বসবাস বইয়ে লেখা আছে 'একাত্তরের দিনগুলি' বইয়ের জন্মকথা। এছাড়াও বাংলাদেশ ও আমেরিকার চিকিৎসা ব্যবস্থার তুলনামূলক চিত্রও ফুটে উঠেছে এই বইয়ে। ফুটে উঠেছে ক্যান্সার রোগীর মনঃকষ্ট, তাদের চিন্তার গতি প্রকৃতি।

অনেকেই বলে থাকেন, ক্যান্সারের রোগী তো বাঁচে না, চিকিৎসা করে লাভ কী? আসলে অমরত্ব দেয়া ডাক্তারদের উদ্দেশ্য নয়। এক তৃতীয়াংশ ক্যান্সার রোগী চিকিৎসা শেষে সম্পূর্ণ সুস্থ হন। এক তৃতীয়াংশ রোগীকে সম্পূর্ণরূপে সুস্থ করা যায় না কিন্তু প্রত্যাশিত আয়ুষ্কাল বাড়ানো যায়। বাকি এক তৃতীয়াংশের প্রত্যাশিত আয়ুষ্কালও বাড়ানো যায় না তাদের ক্ষেত্রে চিকিৎসার উদ্দেশ্য জীবনের বাকিটা দিন যাতে তারা ব্যথামুক্ত স্বাভাবিক জীবন যাপন করতে পারেন।

জাহানারা ইমামের ক্যান্সার ধরা পড়েছে ৪২ বছর বয়সে। উনি মারা গিয়েছেন ৬৫ বছর বয়েসে। ১৯৯৪ সালে বাংলাদেশের মানুষের গড় প্রত্যাশিত আয়ুষ্কালও এরকমই ছিল। উনার জীবনের বেশিরভাগ সাফল্য উনি ক্যান্সার আক্রান্ত হওয়ার পরেই অর্জন করেছেন। তার ১৯টা বইয়ের মধ্যে ১৩টাই প্রকাশিত হয়েছে ক্যান্সারকে সঙ্গী করে। উনার সব বিখাত এবং জনপ্রিয় বই সেই সময়ে লেখা। এমনকি কি যে নাতি-নাতনীর মুখ দেখে যেতে পারবেন না বলে ফ্রিডা আমেরিকা থাকার অনুরোধ করেছিল সেই নাতনীর মুখও তিনি দেখে যেতে পেরেছিলেন।

জাহানারা ইমাম যে আদর্শ এবং চেতনা লালন করতেন সেদিক থেকে দেখলে উনার সবথেকে বড় কাজ ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি গঠন করে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের কথা জনসম্মুখে নিয়ে আসা। গণআদালত প্রতিষ্ঠা করে তাদেরকে দোষী সাব্যস্ত করা। যদিও পুরো বিষয়টা ছিল প্রতীকী কিন্তু এর রাজনৈতিক গুরুত্ব বুঝার জন্য আমাদেরকে ২০ বছর অপেক্ষা করতে হয়েছে। এইসবকিছু তিনি করেছেন ক্যান্সার আক্রান্ত হওয়ার পরে। উনি যদি 'ক্যান্সার রোগী তো বাঁচে না, চিকিৎসা করে কী হবে' এই ধারণা নিয়ে চুপচাপ বসে থাকতেন তাহলে উনার পক্ষে এতোগুলো বই লেখাও সম্ভব হতো না, ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি, গণআদালতও প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হতো না।

আমার কাছে ক্যান্সারের সাথে বসবাস বইয়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক অনকোলজিস্ট ডা. সামুরীর চরিত্র। ডাক্তার হওয়ার পর ধীরে ধীরে বুঝতে পারলাম এদেশের মানুষ ডাক্তারদের পছন্দ করে না। অনকোলজিতে কাজ শুরু করার পর বুঝতে পারলাম বাকি ডাক্তাররা অনকোলজিস্টদের পছন্দ করে না। আমার জুনিয়র ব্যাচের খুব ব্রাইট একটা ছেলে এমডি অনকোলজিতে চান্স পাওয়ার পর আমার অনেক বন্ধুরা আমাকে বলেছিল, "তুই নিশ্চয় ওরে কানপড়া দিয়ে অনকোলজিতে নিয়ে গেছিস। ছেলেটা চাইলেই নিউরাসার্জন কিংবা ইন্টারভেনশনাল কার্ডিওলজিস্ট হতে পারতো। তুই ছেলেটার ক্যারিয়ার নষ্ট করে দিলি।" এসব শুনলে আমারও মন খারাপ হয়। আমার খারাপ হওয়া মনের জন্য পারফেক্ট টনিক ডা. সামুরী। ডা. সামুরী জাহানারা ইমামকে শুধু কিমোথেরাপি দেননি, তার মনস্তাত্ত্বিক চিকিৎসাও করেছেন। দুইজনের সম্পর্কটা তাই চিকিৎসক-রোগীর গতানুগতিক সম্পর্কের মতো নয় বরং অনেক উষ্ণ, অনেক হৃদ্য। বইয়ে জাহানারা ইমামের যতজন চিকিৎসকের কথা এসেছে এদের মধ্যে প্রশংসা প্রাপ্তির দিক দিয়ে ডা. সামুরী সবার চেয়ে এগিয়ে। তাই অনকোলজিস্টদের জন্য এটা একটা মাস্ট রিড বুক। বাকিদের যে খারাপ লাগবে তা না, শারীরিক, মানসিক, আর্থিক কষ্টের মধ্যে থেকেও কিছু করার শক্তি খুঁজে পাওয়া যাবে এই বইয়ের পাতায় পাতায়।

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত