ঢাকা      শুক্রবার ১৪, ডিসেম্বর ২০১৮ - ৩০, অগ্রাহায়ণ, ১৪২৫ - হিজরী

খোঁজ মিলেনি মেডিকেল ছাত্র পিয়াসের

পিয়াস রায় গোপালগঞ্জ মেডিকেল কলেজের পঞ্চম বর্ষের ছাত্র। কয়েক দিন আগে মেডিকেল কলেজের চূড়ান্ত বর্ষের পরীক্ষা শেষ করেছেন। ফলাফল প্রকাশের আগে চলছে বিরতি। ভাবলেন, এই ফাঁকে একটু নেপাল ঘুরে আসা যাক। ঘুরে বেড়ানো তাঁর শখও বটে।

উড়োজাহাজে ওঠার আগে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নিজের ছবি তুলে তা ফেসবুকে পোস্ট করেছিলেন। অন্যবারের মতো এবারও হয়তো ঘুরে বেড়ানোর অনেক ছবি তিনি পোস্ট করতেন! 

গতকাল সোমবার নেপালের ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিধ্বস্ত ইউএস-বাংলার উড়োজাহাজের নিখোঁজ যাত্রীদের একজন এখন পিয়াস রায়। দুর্ঘটনার পর থেকে পিয়াসের কোনো খোঁজ পাচ্ছেন না স্বজনেরা। চিকিৎসাধীন আহত ব্যক্তিদের তালিকায় তাঁর নাম নেই। 

পিয়াস রায় বাকেরগঞ্জ উপজেলার দাড়িয়াল ইউনিয়নের মধুকাঠি গ্রামের বাসিন্দা সুখেন্দু বিকাশ রায়ের ছেলে। তাঁরা বরিশাল নগরের নতুনবাজারের মথুরানাথ পাবলিক স্কুলসংলগ্ন একটি ভাড়া বাড়িতে বাস করেন। পিয়াসের বাবা সুখেন্দু বিকাশ রায় ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলার চন্দ্রকান্দা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ও মা পূর্ণা রানী মিস্ত্রি বরিশাল সরকারি পলিটেকনিক-সংলগ্ন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক।

পিয়াস বরিশাল জিলা স্কুল থেকে এসএসসি ও ঢাকার নটর ডেম কলেজ থেকে এইচএসসি পাসের পর ভর্তি হন গোপালগঞ্জের শেখ সায়েরা খাতুন মেডিকেল কলেজে। সেখানে এবার চূড়ান্ত বর্ষের পরীক্ষা দিয়েছেন।

পিয়াসের মা পূর্ণা রানী মিস্ত্রি বলেন, গত রোববার রাতে বরিশাল থেকে লঞ্চযোগে ঢাকায় যান পিয়াস। ছেলেকে তিনি লঞ্চঘাটে এগিয়ে দিয়ে আসেন। পরদিন (সোমবার) সকালে ঢাকায় চাচাতো ভাইয়ের বাসায় গিয়ে ওঠেন। সেখান থেকে নেপালের উদ্দেশে যাত্রা করেন। তিনি বলেন, ‘ওই দিন বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ওর সঙ্গে আমার মুঠোফোনে কথা হয়। তখন পিয়াস বলেছিল, কিছুক্ষণের মধ্যে উড়োজাহাজ উড্ডয়ন করবে। এরপর থেকে আর ওর সঙ্গে যোগাযোগ করা যায়নি। ওটাই ছিল পিয়াসের সঙ্গে আমার শেষ কথা। কাঠমান্ডুতে ত্রিভুবন বিমানবন্দরে উড়োজাহাজটি দুর্ঘটনার পর থেকে পিয়াসের কোনো খোঁজ পাইনি। 


পিয়াসের বাবা সুখেন্দু বিকাশ রায় জানান, ইউএস-বাংলার বিধ্বস্ত উড়োজাহাজের যাত্রী ছিলেন পিয়াস। তাঁর পাসপোর্ট নম্বর BC0759899 । আগামী শুক্রবার বেলা তিনটায় কাঠমান্ডু থেকে তাঁর ফেরার কথা ছিল। তিনি বলেন, ঢাকায় স্বজনেরা প্রতিনিয়ত খোঁজ রেখে চলছেন ইউএস-বাংলার কর্মকর্তাদের সঙ্গে।

দেশ ও দেশের বাইরে বেড়ানো ছিল পিয়াসের শখ। এর আগে ছয়বার ভারত এবং দুবার নেপালে গিয়েছেন। কয়েক দিন আগে তাঁর মেডিকেল কলেজের শেষ বর্ষের পরীক্ষা শেষ হয়। ফলাফলের জন্য অপেক্ষা করছিলেন। তাই অবসর সময়ে দেশের বাইরে বেড়ানোর জন্য তিনি নেপাল যাচ্ছিলেন।  

সংবাদটি শেয়ার করুন:

 


জাতীয় বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

সংসদ নির্বাচনে সর্বকনিষ্ঠ প্রার্থী ডা. সানসিলা

সংসদ নির্বাচনে সর্বকনিষ্ঠ প্রার্থী ডা. সানসিলা

মেডিভয়েস রিপোর্ট: একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সবচেয়ে কনিষ্ঠ প্রার্থী হিসেবে বিএনপির মনোনীত ধানের…

ছোটবেলায় ইচ্ছা ছিল ডাক্তার হবো: শেখ হাসিনা

ছোটবেলায় ইচ্ছা ছিল ডাক্তার হবো: শেখ হাসিনা

মেডিভয়েস রিপোর্ট:  প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘আমার ছোটবেলায় ইচ্ছা ছিল ডাক্তার হবো। এসএসসি পরীক্ষা…

১০৭ চিকিৎসকের সাক্ষাৎকার শুরু ১৯ ডিসেম্বর

১০৭ চিকিৎসকের সাক্ষাৎকার শুরু ১৯ ডিসেম্বর

বিসিএস (স্বাস্থ) ক্যাডার/সিভিল সার্ভিসের কর্মকর্তাদের সিভিল সার্জন পদে পদায়নের জন্য ফিটলিস্ট প্রণয়নের…

হবু চিকিৎসকের পাশে দাড়ালেন চিকিৎসকরা

হবু চিকিৎসকের পাশে দাড়ালেন চিকিৎসকরা

মেডিভয়েস রিপোর্ট: সিরাজগঞ্জের বেলকুচির প্রত্যন্ত অঞ্চলের ছেলে আরিফুল ইসলাম। বাবা একজন চা…

বিদেশী বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের জন্য নীতিমালা

বিদেশী বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের জন্য নীতিমালা

যথাযথ অনুমোদন না নিয়ে বাংলাদেশে দীর্ঘদিন অবস্থান করে চিকিৎসা পেশায় নিয়োজিত রয়েছেন…

ভুটানকে বিনামূল্যে ২০ কোটি টাকার ওষুধ দিলো বাংলাদেশ

ভুটানকে বিনামূল্যে ২০ কোটি টাকার ওষুধ দিলো বাংলাদেশ

ভুটানকে বিনামূল্যে ২০ কোটি টাকার ২৫৮ ধরনের ওষুধ দিয়েছে বাংলাদেশ।  মঙ্গলবার (১১ ডিসেম্বর)…

আরো সংবাদ














জনপ্রিয় বিষয় সমূহ:

দুর্যোগ অধ্যাপক সায়েন্টিস্ট রিভিউ সাক্ষাৎকার মানসিক স্বাস্থ্য মেধাবী নিউরন বিএসএমএমইউ স্বাস্থ্যমন্ত্রী ঢামেক গবেষণা ফার্মাসিউটিক্যালস স্বাস্থ্য অধিদপ্তর