ঢাকা      শুক্রবার ২১, সেপ্টেম্বর ২০১৮ - ৫, আশ্বিন, ১৪২৫ - হিজরী



ডা. মো: আবু শিহাব

বিসিএস (স্বাস্থ্য)

এফসিপিএস (শেষ পর্ব), মেডিসিন

এমডি (ফেইজ বি), এন্ডোক্রাইনোলজি

বিএসএমএমইউ।

 

 


এমফিল ও ডিপ্লোমা পরীক্ষার্থীদের করণীয়

অভিষ্ট লক্ষ্যের কাছা কাছি পৌঁছে যদি সামান্য ভুলের কারণে সফল হওয়া না যায় তবে সে ব্যথা সারা জীবন বয়ে বেড়াতে হয়।

ডাক্তার দের জন্য পোস্টগ্রাজুয়েশনের এডমিশন টেস্ট একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা। যার জন্য সারা বছর জুড়ে অক্লান্ত পরিশ্রম করে প্রস্তুতি নিয়ে থাকেন মেধাবীরা। অল্প সংখ্যক আসনের বিপরীতে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নেওয়া এক ঝাঁক মেধাবী প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহন করেন, সুতরাং এখানে লড়াই হয় হাড্ডা-হাড্ডি।

এ ধরণের পরীক্ষায় সফল হতে হলে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি যেমন যথার্থ হওয়া উচিত তেমনি পরীক্ষার মুহূর্তেও দরকার হয় কিছু কৌশল অবলম্বনের।

 

M Phil / Diploma / MPH ডিগ্রির বিষয়ে সাধারণ তথ্যসমূহ:

* ডিগ্রির মেয়াদ -২ বছর
* কোর্স শুরু হওয়ার প্রথম দিন এবং ইন্টার্ণ শেষ হওয়ার শেষ দিনের মধ্যে নূন্যতম ১ বছর ব্যবধান থাকতে হবে।
* এডমিশন এক্সাম প্রতি বছর মার্চ এ অনুষ্ঠিত হয়।
* প্রতিষ্ঠান এবং subject অনুযায়ী আসন সংখ্যা ভিন্ন ভিন্ন হয়ে থাকে।
* কোর্স শুরু হয় 1st July তে।
* বর্তমানে এ কোর্সগুলোতে শিক্ষার্থীদেরকে কোন পেমেন্ট দেওয়া হয় না।
 

কেন এমফিল ও ডিপ্লোমা ডিগ্রি করবেন

** M Phil / Diploma / MPH এর সবচেয়ে বড় সুবিধা হল স্বল্প সময়ের মধ্যে একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক হওয়া যায়। এর পর যার যার মত নিজের যোগ্যতা এবং কৌশল খাটিয়ে প্র্যাকটিস জমানো যায়।

** যাদের পরিবারকে সময় দিতে হয়, বিশেষ করে যেসব মেয়েদের সন্তান লালন-পালন বা দেখাশোনা করতে হয় তাদের জন্য ৪-৫ বছরের দীর্ঘ মেয়াদি কোর্স পারিবারিক এবং মানসিক চাপ বাড়িয়ে দেয়। তাদের জন্য স্বল্প মেয়াদি ডিগ্রি বেশি উপযোগী।

** যারা গবেষণায় আগ্রহী তারা MPH টা করে নিতে পারেন। এতে পরবর্তীতে যে subject এই career করুন না কেন research work করার যথেষ্ট সুযোগ পাবেন। আর research এর জন্য দেশি/ বিদেশি অনেক গ্রান্ট মানিও পাওয়া যায়। তাছাড়াও থাকছে বিভিন্ন NGO, Public health, WHO তে কাজের সুযোগ। 

পরীক্ষার ধরন:

** ১০০ নম্বরের exam নেওয়া হয় যার জন্য সময় দেওয়া হয় ৯০ মিনিট।
** ১০০ টি question থকে এবং প্রতিটি question এর ৫ টি করে stem থাকে যার উত্তর true / false answer sheet এর বৃত্তে ভরাট করতে হয়।

নমুনা প্রশ্ন:

১. Calcitonin……..

a) Increases circulating calcium level
b) Lowers circulating phosphate level
c) Inhibit bone resorption
d) Inhibits the activity of osteoclasts
e) Decreases Ca2+ excretion

কোন সুনির্দিষ্ট syllabus না থাকলেও বিগত সালের প্রশ্ন থেকে দেখা যায় যে basic থেকে প্রশ্ন বেশি দেওয়া হয়।

সচরাচর ১০০ টা প্রশ্ন এভাবে faculty অনুযায়ী ভাগ করে দেওয়া হয়। 

Anatomy : ১২-১৩ টা
Physiology : ২০-২৫ টা
Biochemistry : ৫-৭ টা
Pathology : ৭-৮ টা
Pharmacology : ১২-১৩ টা
Microbiology : ১৩-১৫ টা
Clinical : ২৫-৩০ টা 
 
৩ টা faculty তে Exam নেওয়া হয় : surgery, medicine এবং Basic.

** Faculty অনুযায়ী ২০-২২ টা প্রশ্ন vary করে। বাকি প্রায় ৮০ টা Question সবার ই same থাকে।

শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি:

■  আগামী ১৬ ই নভেম্বর অনুষ্ঠিত হবে MPhil, Diploma, MPH এর এডমিশন টেষ্ট। অর্থাৎ হাতে রয়েছে আর মাত্র ৩ টি দিন। এই দিন গুলিই হতে পারে আপনার জন্য সফলতার সোপান।

এই ৩ টি দিন থেকে কম সময়ে অধিক মুনাফা তুলতে হবে আপনাকে।

 সুতরাং নতুন বা খুব কঠিন বিষয় গুলো পড়া থেকে বিরত থাকুন। যে প্রশ্নের উত্তর জানেন না বা সহজে খুজে পাচ্ছেন না সেটা খুজে সময় নষ্ট করবেন না। জানা জিনিস গুলোকেই ঝালিয়ে নিন, যেন সেগুলো পরীক্ষায় ভুল না হয়। মনে রাখবেন অনেক জটিল প্রশ্নের উত্তর পারার পর ও সহজ জিনিস ভুল করলে আপনার চান্স হবে না।

 বিগত সালের প্রশ্ন থেকে বরাবরই কমন পড়ে। কখনও কখনও হুবহু প্রশ্নটা না আসলেও টপিকটা কমন থাকে। এর পেছনে একটি কারণ যে প্রায় প্রতি বৎসরই একি টিচারদের কাছ থেকে প্রশ্ন নেওয়া হয়, সুতরাং তাদের পছন্দের বিষয় গুলো ঘুরে ঘুরে আসে। সুতরাং অল্প সময়ে বেশি লাভ পেতে হলে বিগত সালের প্রশ্ন / টপিক গুলি সলভ করুন। 

 মনে রাখবেন সুস্থ্য শরীর নিয়ে অনেক অসাধ্য ও সাধন করা যায়। তাই শরীরের যত্ন নিন। বিশেষ করে এক্সাম এর ২-৩ দিন আগে থেকে পূর্ণ ঘুম এবং বিশ্রাম নিন। মস্তিষ্ককে কুল ডাউন করুন। অধিক চাপ নিবেন না। এই সময়ের মানসিক চাপ সফলতার ব্যস্তানুপাতিক।

 পরীক্ষার পূর্ব রাত্রি তে ৬-৮ ঘন্টা ঘুমিয়ে নিন। রাত ১১ টার মধ্যে শুয়ে পড়ুন। স্রষ্টার কাছে প্রার্থনা করুন। এতে চাপ কমবে, মন সতেজ থাকবে।

ঘুমাতে যাওয়ার পূর্বেই প্রয়োজনীয় জিনিস গুলো গুছিয়ে রাখুন- যেমন কলম, পেন্সিল-২ টা, পেন্সিল কাটার, রাবার, এডমিট কার্ড, হাত ঘড়ী, পরনের ড্রেস ইত্যাদি।

 পরীক্ষার দিন সকালে ভালভাবে নাস্তা করতে কখনই যেন ভুল না হয়, কারণ এত লম্বা সময়ের পরীক্ষাতে ব্রেইন পর্যাপ্ত নিউট্রিশন না পেলে হ্যাঙ্গ হয়ে যায়।

 ঢাকার রাস্তায় জ্যাম থাকবেই। সুতরাং সময় হাতে নিয়ে বের হবেন। অন্তত পরীক্ষার ৪৫ মি-১ ঘন্টা পূর্বে এক্সাম হলে পৌছাবেন। সিট খুঁজে নিয়ে প্রয়োজনে টয়লেট সেরে নিবেন।

 শেষ ভাল যার সব ভাল তার। সব শেষে তাই পরীক্ষার দেড় ঘন্টায় আপনার ভাগ্য নির্ধারণ করে দিবে। 

তাই জেনে রাখুন যুদ্ধের মুহূর্তের কিছু কৌশল যা ফলো করতে পারলে জয়মাল্য আপনার প্রাপ্য।

 Diploma / Residency এডমিশন টেষ্টে টাইম মেনেজমেন্ট টাই হচ্ছে সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। প্রতিটা সেকেন্ড সময় এখানে মূল্যবান। পরীক্ষার্থীকে ৯০ মিনিট এ উত্তর দিতে হবে ১০০ টি প্রশ্নের বা ৫০০ টি সত্যমিথ্যার উত্তর সঠিকভাবে বৃত্ত ভরাট করে দিতে হবে। এজন্য পরীক্ষার্থীকে শুরু থেকেই সময়ের ব্যাপারে সচেতন থাকতে হবে। সতরাং সময় কে ভাগ করে নিতে হবে। যেমন প্রতি ১০ মিনিটে ১২ টি প্রশ্নের উত্তর দিন। লক্ষ রাখতে হবে যেন সব উত্তর শেষে আপনার হাতে ৫-১০ মিনিট সময় থাকে, এই সময়ে answer গুলো রিভিউ বা কারেকশনের সুযোগ থাকবে।

 কিছু হার্ড কোশ্চেন থাকে বিশেষ করে anatomy তে তো থাকবেই। এসব হার্ড বা অজানা কোশ্চেনে সময় নষ্ট না করাটাই বুদ্ধিমানের কাজ, বরং সে সময় টা বুঝে answer করতে হয় এমন questions এর জন্য রেখে দেওয়া ভাল। আমার অভিজ্ঞতা থেকে মনে হয়েছে হার্ড কোশ্চেনে মিথ্যা (F) বেশি থাকে। সুতরাং কোন stem টা সত্য মনে হলে সেটা T দিয়ে বাকি সব F বা ৫ টাই F দিয়ে চলে যান। 

 নেগেটিভ মার্কিং এর বেপার টা ভুলে যান। রেসিডেন্সিতে নেগেটিভ মার্কিং হচ্ছে ০.০৫। অর্থাৎ, ৫ টা stem এর মধ্যে যদি আপনি ১ টা সঠিক answer করতে পারেন তো আপনার loss নেই, আর ২ টা হলে আপনার প্লাস মার্ক থাকবে।

 প্রতিটা প্রশ্নের ৫ টা stem একবারেই পড়ুন খুঁজে দেখুন কোনটা কোনটা true। ধরুন ২ টা true, তাহলে answer sheet এর উপরের T বৃত্ত দুটি ভরাট করুন এরপর নিচের F বৃত্ত ৩ টি ভরাট করুন। কখনোই একটা একটা stem পড়ে পড়ে answer sheet এ বৃত্ত ভরাট করতে যাবেন না, এতে অনেক সময় নষ্ট হবে।

 কোন প্রশ্নের উত্তর বাদ রাখবেন না, সিরিয়ালি সব প্রশ্নের উত্তর দিয়ে যাবেন। যদি কোন উত্তর নিয়ে confusion থাকে সেটা মার্ক করে রাখুন। এক্সাম এর সময় পার্শ্বের পরীক্ষার্থীদের সাথে কথা না বলাই ভাল, এতে মনযোগ এবং সময় দুটোই নষ্ট হয়। এক্সাম শেষে হাতে সময় থাকলে answer গুলো review করুন।

 এক্সাম এর সময় মাথা ঠান্ডা রাখুন, answer sheet হাতে পাওয়ার পর নিজের তথ্য গুলো সঠিক ভাবে কলম দিয়ে ভরাট করে নিন এবং রিচেক করুন।

 আত্মবিশ্বাস রাখুন, স্রষ্টার উপর ভরসা রাখুন। প্রস্ততি যা নেওয়ার নিয়েছেন এখন কৌশলে নিজেকে এগিয়ে নিয়ে যান। সকল পরীক্ষার্থীদের জন্য রইলো শুভ কামনা।

সংবাদটি শেয়ার করুন:

 


এডু কর্নার বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

এমডি ও এমএস রেসিডেন্সি কোর্সে আবেদনের জন্য জরুরি বিষয় জেনে নিন

এমডি ও এমএস রেসিডেন্সি কোর্সে আবেদনের জন্য জরুরি বিষয় জেনে নিন

মেডি ভয়েস ডেস্ক: এমডি বা এমএস রেসিডেন্সি কোর্সে আবেদনে ইচ্ছুক ডাক্তারদের মধ্যে পরীক্ষা বা…



জনপ্রিয় বিষয় সমূহ:

দুর্যোগ অধ্যাপক সায়েন্টিস্ট রিভিউ সাক্ষাৎকার মানসিক স্বাস্থ্য মেধাবী নিউরন বিএসএমএমইউ স্বাস্থ্যমন্ত্রী ঢামেক গবেষণা ফার্মাসিউটিক্যালস স্বাস্থ্য অধিদপ্তর