ঢাকা      সোমবার ১৯, নভেম্বর ২০১৮ - ৪, অগ্রাহায়ণ, ১৪২৫ - হিজরী

ক্যান্সার নিরাময়ে বাঙালি বিজ্ঞানীর আবিষ্কার!

সাধারণ দেহকোষ প্রকৃতির নিয়মেই নির্দিষ্ট সময়ের পরে মরে যায়। অথচ মানবদেহের যে-কোষে ক্যান্সার বাসা বাঁধে, তারা যেন কোন অদ্ভুত নিয়মে ‘অমর! নিজেরা না-মরে রোগীকে মেরে ফেলে তারা। কিন্তু মরণশীল মানুষের দেহে ক্যান্সার-আক্রান্ত কোষ সত্যি সত্যিই তো আর অমর হতে পারে না! এই যুক্তিতে ভর দিয়ে এগোতে এগোতেই ক্যান্সার-আক্রান্ত কোষকে মেরে ফেলার বিকল্প উপায় তিনি আবিষ্কার করে ফেলেছেন বলে দাবি করেছেন এক বাঙালি বিজ্ঞানী। খবর আনন্দবাজার পত্রিকার।

শিকাগোর রাস বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক-গবেষক কালীপদ পাহানের দাবি, তিনি ‘মোনোক্লোনাল’ নামে একটি অ্যান্টিবডি আবিষ্কার করেছেন, যা ক্যান্সার কোষ নিধনে সাহায্য করবে। তাঁর দুই সহযোগীও বাঙালি— মধুচ্ছন্দা কুণ্ডু ও অভীক রায়। কালীপদ পাহানের আবিষ্কারের বিষয়টি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ‘প্রসিডিংস অব ন্যাশনাল অ্যাকাডেমি অব সায়েন্স’ জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে।

ওই বিজ্ঞানী জানাচ্ছেন, ক্যান্সার কোষকে কেমোথেরাপিতে জব্দ করার সময়ে প্রচুর সাধারণ সজীব কোষও মারা পড়ে। পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া তৈরি হয়। গিনিপিগ ছাড়াও মানবদেহের লিভার, স্তন, প্রস্টেটের ক্যান্সার কোষের উপরে তাঁর তৈরি অ্যান্টিবডি প্রয়োগ করে ভালো ফল মিলেছে। সাধারণ কোষ বাঁচিয়ে ক্যান্সার কোষ নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে। ফুসফুস ক্যানসারে কিন্তু ওই অ্যান্টিবডি কাজ করছে না।

মানবদেহের প্রতিটি সাধারণ কোষের নিজস্ব আয়ু থাকে। এক সময়ে নিজের থেকে মারা যায় তারা। কালীপদবাবু জানান, যে-কোষে গিয়ে ক্যান্সার বাসা বাঁধে, সেই কোষ নিঃশেষে নিকেশ হচ্ছে না। তাঁর কথায়, ‘‘সাধারণ কোষের মতো ক্যান্সার-আক্রান্ত কোষ মরে গেলে অনেক সুবিধা হবে। আমি প্রথমে খুঁজতে শুরু করি, ক্যান্সার আক্রান্ত কোষ ‘অমর’ হয়ে যাচ্ছে কেন।’

বিজ্ঞানী জানান, যে-মলিকিউল বা সাইটোকাইন দেহের প্রতিরোধ ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণ করে, তার পরিবারের চার সদস্য। তিন সদস্য সক্রিয়, এক জন নিষ্ক্রিয়। গবেষণায় দেখা গিয়েছে, সাইটোকাইনের নিষ্ক্রিয় সদস্য ক্যান্সার-আক্রান্ত কোষে সক্রিয় হয়ে প্রচুর মাত্রায় বংশবৃদ্ধি শুরু করে। সেই নিষ্ক্রিয় সদস্যই অতি সক্রিয় হয়ে ক্যান্সার-আক্রান্ত কোষকে বাঁচিয়ে রাখছে। এটাই ক্যান্সার কোষের ‘অমরত্ব’-এর রহস্য। ওই বিজ্ঞানীর দাবি, তাঁর তৈরি অ্যান্টিবডি ওই নিষ্ক্রিয় সদস্যকে বংশ বিস্তার করতেই দেয় না। সেই অ্যান্টিবডি মানবশরীরে ঢোকালে আর-দশটা সাধারণ কোষের মতোই ক্যান্সার কোষ নিকেশ হয়ে যাচ্ছে। এমনকী ক্যান্সার-আক্রান্ত কোষ ছড়িয়েও পড়তে পারছে না।

কালীপদের দাবি, ওষুধ সংস্থার সঙ্গে তাঁর কথা চলছে। ওষুধ সংস্থা তাঁর কাছ থেকে পেটেন্ট কেনার পরে ওই ছাড়পত্রের জন্য আবেদন করবে।
‘অনেক গবেষণাই তো হচ্ছে। তবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের ছাড়পত্র পাওয়ার আগে যে-কোনও গবেষণার স্বীকৃতি নিয়ে প্রশ্ন থাকবেই’- বলছেন ক্যান্সার চিকিৎসক সৈকত গুপ্ত।

চিত্তরঞ্জন ক্যান্সার হাসপাতালের অধিকর্তা তাপস মাজির বক্তব্য, কালীপদবাবুর দাবি সত্যি হলে সেটা সকলের পক্ষেই অত্যন্ত উপকারী হবে। 
কলকাতায় টাটা ক্যান্সার হাসপাতালের অধিকর্তা মামেন চান্ডি জানান, ক্যান্সার কোষ মেরে ওই রোগের চিকিৎসা পদ্ধতি বেরিয়েছে। তাতে অন্য কোষের ক্ষতি হবে না। কালীপদের গবেষণাকেও স্বাগত জানিয়েছেন তিনি।

সংবাদটি শেয়ার করুন:

 


আন্তর্জাতিক বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

চলে গেলেন এশিয়ার প্রথম নারী নিউরোসার্জন

চলে গেলেন এশিয়ার প্রথম নারী নিউরোসার্জন

মেডিভয়েস রিপোর্ট: চলে গেলেন এশিয়ার প্রথম নারী নিউরোসার্জন। ডা. টিএস কনকা। তার…

প্রথম হাতি স্পেশালিটি হাসপাতাল

প্রথম হাতি স্পেশালিটি হাসপাতাল

মেডিভয়েস ডেস্কঃ ভারতের উত্তরপ্রদেশ মথুরায় উদ্বোধন হল দেশের প্রথম হাতি স্পেশালিটি হাসপাতাল। যেখানে…

আরো সংবাদ














জনপ্রিয় বিষয় সমূহ:

দুর্যোগ অধ্যাপক সায়েন্টিস্ট রিভিউ সাক্ষাৎকার মানসিক স্বাস্থ্য মেধাবী নিউরন বিএসএমএমইউ স্বাস্থ্যমন্ত্রী ঢামেক গবেষণা ফার্মাসিউটিক্যালস স্বাস্থ্য অধিদপ্তর