ঢাকা      শুক্রবার ১৪, ডিসেম্বর ২০১৮ - ৩০, অগ্রাহায়ণ, ১৪২৫ - হিজরী



ডা. কামরুল হাসান সোহেল

আজীবন সদস্য, স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ , কুমিল্লা জেলা।
কার্যকরী সদস্য স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ
আজীবন সদস্য,বিএমএ কুমিল্লা।
সেন্ট্রাল কাউন্সিলর, বিএমএ কুমিল্লা


স্ট্রেস নেয়ার ক্ষমতা কম হলে মেডিক্যাল সায়েন্সে না পড়াই উচিৎ

শহীদ মনসুর আলী মেডিকেল কলেজের ২০তম ব্যাচের ৪র্থ বর্ষের ছাত্রী তানহা রহমান শ্রেয়া সুইসাইড করেছে। যেকারণেই হোক এই ধরণের আত্মহনন কোনভাবেই মেনে নেয়া যায় না।

জীবনে ব্যর্থতা আসবেই, পরাজয় আসবেই। হোক তা পরীক্ষা বা অন্য কোন বিষয়ে তা বলে জীবন দিয়ে দিতে হবে তার জন্য? না, কোনভাবেই না। জীবনে ব্যর্থতা সাময়িক, ব্যর্থতার পর সফলতা আসবেই। তার জন্য খারাপ সময়টাতে ধৈর্য ধারণ করতে হবে, কারণ যে সহে সে রহে।

পরাজয়ের ভয়ে ভীত না হয়ে সাহসের সাথে তা মোকাবেলা করতে হবে। পরাজিত হয়ে থেমে গেলে কখনোই জয়ের দেখা পাওয়া যাবে না। বারবার পরাজিত হলেও হতাশ হয়ে থেমে না গিয়ে দ্বিগুণ উৎসাহে ঝাঁপিয়ে পরতে হবে জয় একদিন ধরা দিবেই।
মেডিক্যাল সায়েন্স খুবই দুর্বোধ্য বিষয়। এইখানে ফেল খুবই স্বাভাবিক একটা বিষয়, হোক তা আইটেম, কার্ড ফাইনাল, টার্ম ফাইনাল, ওয়ার্ড ফাইনাল, ইয়ার ফাইনাল আর প্রফে ফেল করা তো ডাল ভাত। খুব কম মেডিক্যাল স্টুডেন্ট আছে যারা তার পুরো মেডিক্যাল ক্যারিয়ারে কোন পরীক্ষায় ফেল করে নাই। তাই ফেল করলে হতাশ হয়ে আত্মঘাতী হয়ে উঠা কোন বুদ্ধিমানের কাজ নয়।

মেডিক্যাল পড়াশুনা অনেক, পরীক্ষা ও অনেক, পরীক্ষার পর পরীক্ষা থাকে এখানে। অনেক স্ট্রেস নিতে হয়, যাদের স্ট্রেস নেয়ার ক্ষমতা কম তাদের মেডিক্যাল সায়েন্সে না পড়াই উচিৎ। 

অনেক গার্ডিয়ান জোর করে তার ছেলে মেয়েকে মেডিক্যালে ভর্তি করে দেন তার মনের ইচ্ছের বিরুদ্ধে। উনারা জানতে চান না, বুঝতে চান না তার সন্তানের ইচ্ছে কি? স্বপ্ন কি? তারা শুধু তাদের স্বপ্ন পূরণের হাতিয়ার হিসেবে সন্তানকে ব্যবহার করতে চান, যা খুবই দুঃখজনক। তার যদি আগ্রহ না থাকে তাহলে তাকে জোর করে মেডিক্যালে ভর্তি করা উচিৎ না। কিছুদিনের মধ্যেই সে গভীর হতাশায় নিমজ্জিত হবে। এত এত পড়া আর পরীক্ষার চাপে দিশেহারা হয়ে যাবে সে। তারপর ফেল করলে যদি পরিবার থেকে চাপ দেয়া হয় তাহলে সে আত্মঘাতী হয়ে উঠতেই পারে। তখন ঘটে যাবে এক বিয়োগান্তক ঘটনা। গার্ডিয়ানরা নিজেদের সামাজিক স্ট্যাটাস বাড়ানোর জন্য ও অনেক সময় সন্তানের ইচ্ছে না থাকলেও টাকা খরচ করে প্রাইভেট মেডিক্যালে ভর্তি করে দেন।

নিজের সামাজিক স্ট্যাটাসের আগে আপনার সন্তানের ইচ্ছে, অনিচ্ছাটাকে বেশি গুরুত্ব দেয়া কি উচিৎ নয়?

মেডিক্যাল কলেজগুলোতে অনেক শিক্ষক আছেন যারা নিজেদের অনেক কড়া শিক্ষক হিসেবে প্রমাণ করতে চান। ছাত্ররা অল্প-স্বল্প ভুল করলেই তাকে ফেল করিয়ে দেন, বারবার ফেল করান। তারা একবারও ভাবেন না, মেডিক্যাল সায়েন্স একটি জটিল বিষয়। একটু আধটু ভুল হতেই পারে এইজন্য তাকে যদি বারবার ফেল করিয়ে দেন তাহলে সে হতাশাগ্রস্ত হয়ে যেকোন অঘটন ঘটাতে পারে এমনকি চরম হতাশায় আত্মঘাতী হয়েও উঠতে পারে। কড়া শিক্ষকের চেয়ে ও বেশি জরুরী ভাল শিক্ষক, মমতাময়ী শিক্ষক প্রয়াত অধ্যাপক ডা. মনসুর খলিল স্যারের মতো পিতৃতুল্য শিক্ষক। যারা মমতা দিয়ে ছাত্রছাত্রীদের পড়াবেন, বারবার বুঝাবেন, তাহলে মেডিক্যাল সায়েন্স নিয়ে তাদের ভীতি কেটে যাবে, পড়াশুনায় আগ্রহী হয়ে উঠবে, পরীক্ষায় ও ভাল ফলাফল করবে।

মেডিক্যাল কলেজে আর একটি ও সুইসাইডের কথা শুনতে চাইনা আমরা।

সংবাদটি শেয়ার করুন:

 


সম্পাদকীয় বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আত্মহত্যা নিয়ে যতকথা!

আত্মহত্যা নিয়ে যতকথা!

সুইসাইড বা আত্মহত্যা হলো নিজেই নিজেকে হত্যা করা।  এটা হলো অস্বাভাবিক চিন্তার…

অরিত্রির আত্মহত্যা, কপিক্যাট ইফেক্ট ও আমাদের ২৬ টি ভুল ধারণা

অরিত্রির আত্মহত্যা, কপিক্যাট ইফেক্ট ও আমাদের ২৬ টি ভুল ধারণা

কপিক্যাট ইফেক্ট ব্যাপারটা কী, মাত্র কদিন আগে আরো অনেকের মতো আমি নিজেও…



জনপ্রিয় বিষয় সমূহ:

দুর্যোগ অধ্যাপক সায়েন্টিস্ট রিভিউ সাক্ষাৎকার মানসিক স্বাস্থ্য মেধাবী নিউরন বিএসএমএমইউ স্বাস্থ্যমন্ত্রী ঢামেক গবেষণা ফার্মাসিউটিক্যালস স্বাস্থ্য অধিদপ্তর